
কাশ প্যাটেলের একটি চিঠিকে উদ্ধৃত করে দ্য ইন্টারসেপ্ট এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) পরিচালক কাশ প্যাটেল তাঁর তরুণ বয়সে দুবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। একবার ভার্জিনিয়ায় প্রকাশ্যে মদ্যপান এবং আরেকবার নিউইয়র্ক নগরে পানশালা থেকে বের হওয়ার পর প্রকাশ্যে প্রস্রাব করার ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। কাশ প্যাটেল নিজেই এ কথা স্বীকার করেছিলেন। ২০০৫ সালে কাশ প্যাটেলের লেখা একটি চিঠিকে উদ্ধৃত করে দ্য ইন্টারসেপ্ট এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মায়ামি-ডেড পাবলিক ডিফেন্ডারস কার্যালয়ে কাশ প্যাটেলের ব্যক্তিগত নথির অংশ ছিল চিঠিটি। একসময় মায়ামির পাবলিক ডিফেন্ডার হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। চিঠিতে কাশ প্যাটেল লিখেছিলেন, ‘আমরা স্থানীয় কয়েকটি পানশালায় গিয়েছিলাম এবং কিছু অ্যালকোহল পান করেছিলাম।’ কাশ প্যাটেল আরও বলেন, সে রাতে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে উদ্যাপন করছিলেন। চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমরা হাঁটতে হাঁটতে বাড়ি ফেরার পথে প্রস্রাব করার চেষ্টা করেছিলাম।’ প্যাটেলের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা কাজ শেষ করার আগেই পুলিশের একটি গাড়ি সেখানে এসে থামে। এরপরই প্রকাশ্যে প্রস্রাব করার অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। ২০০১ সালের একটি ঘটনা প্রসঙ্গে প্যাটেল লিখেছিলেন, ভার্জিনিয়ার রিচমন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় প্রকাশ্যে মদ্যপানের কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কাশ প্যাটেল ‘রিচমন্ড রাউডিজ’ নামে শিক্ষার্থীদের একটি ফ্যান গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একবার তাঁদের একটি বাস্কেটবল ম্যাচে উপস্থিত থাকার সময় ‘অতিরিক্ত উল্লাস’ করার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা তাঁকে মাঠ থেকে বের করে দিয়েছিলেন। কাশ প্যাটেল চিঠিতে এমনটা উল্লেখ করেছেন। কাশ প্যাটেল লিখেছেন, ‘ওই এলাকা থেকে বের হওয়ার পর ওই কর্মকর্তা আমাকে প্রকাশ্যে মদ্যপানের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেন। কারণ, তখন আমার বয়স ২১ বছরের কম ছিল।’ কাশ প্যাটেল আরও স্পষ্ট করে বলেন, তিনি দুই ধরনের পানীয় গ্রহণ করেছিলেন এবং গ্রেপ্তারের পর জরিমানা পরিশোধ করেছিলেন। এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁকে একটি লঘু অপরাধের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। চিঠির শেষে কাশ প্যাটেল ক্ষমা চেয়ে লিখেছিলেন, এসব ঘটনা তাঁর স্বাভাবিক আচরণ ছিল না। গত ফেব্রুয়ারিতে ইতালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অলিম্পিক হকি দলের সঙ্গে কাশ প্যাটেলের বিয়ার পানের একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে তাঁর মদ্যপান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। গত সপ্তাহে দ্য আটলান্টিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্যাটেলের অতিরিক্ত মদ্যপান এবং কাউকে না জানিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়টি তাঁর সহকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এতে বিতর্ক আরও জোরালো হয়ে ওঠে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তাঁকে একটি সামাজিক ক্লাব ও আরেকটি ব্যক্তিগত ক্লাবে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় দেখা গিয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাশ প্যাটেল ওয়াশিংটন ডিসি ও লাস ভেগাসের কিছু ব্যক্তিগত ক্লাবে এমন মাত্রায় মদ্যপান করেছিলেন যে তা ‘স্পষ্টত নেশাগ্রস্ত অবস্থা’তে পৌঁছে গিয়েছিল। এতে উচ্চপর্যায়ের সকালের ব্রিফিংগুলোর সময়সূচি পুনরায় নির্ধারণ করতে হয়েছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত বছর দরজা বন্ধ অবস্থায় কক্ষে থাকা প্যাটেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। কক্ষে প্রবেশের জন্য সোয়াট ধাঁচের দরজা ভাঙার সরঞ্জাম আনার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। প্যাটেলের আইন���ীবীর দল দাবি করেছে, দ্য আটলান্টিক বিদ্বেষমূলক উদ্দেশ্য নিয়ে কাজটি করেছে। তারা আরও বলেছে, প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা আগে এফবিআইয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া স্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি জানানো ও সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও আটলান্টিক তা উপেক্ষা করেছে। কাশ প্যাটেলের মুখপাত্র ইরিকা নাইট এসব অভিযোগকে পরিচালক প্যাটেলের অধীনে এফবিআইয়ের রেকর্ড গড়া সাফল্য থেকে দৃষ্টি সরানোর একটি কৌশল বলে উল্লেখ করেছেন। নাইট আরও বলেন, প্যাটেলকে এফবিআই পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আগে তাঁর অতীত জীবনের ব্যক্তিগত তথ্য বিস্তারিতভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। কাশ প্যাটেল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমি কখনোই কর্মস্থলে নেশাগ্রস্ত ছিলাম না। এ কারণেই আমরা ২৫ কোটি ডলারের মানহানির মামলা করেছি। আর আপনাদের মধ্যে যাঁরা এর সঙ্গে জড়াতে চান, তাঁরা আসুন—আমি আদালতে আপনাদের মোকাবিলা করব।’Published: প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১: ৫৯
Comments Section
Comments
Processing your comment...
Share Your Thoughts
No comments yet
Be the first to share your thoughts!