
সুনামগঞ্জে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় প্রায় সব নদ-নদীর পানি বেড়েছে। এতে জেলার হাওরগুলোতেও পানি বেড়ে দ্রুত জমির ধান তলিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে ভারী বৃষ্টির কারণে কৃষকেরা ধান কাটা ও মাড়াই নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় সব নদ-নদীর পানি বেড়েছে। এতে জেলার হাওরগুলোতেও দ্রুত জমির ধান তলিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে ভারী বৃষ্টির কারণে কৃষকেরা ধান কাটা ও মাড়াই নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। ধান শুকাতে না পারায় খলাতেই নষ্ট হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জেলায় গতকাল মঙ্গলবার সকাল নয়টা থেকে আজ বুধবার সকাল নয়টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ২২ মিলিমিটার। এ সময়ে সুরমা নদীর পানি বেড়েছে ৫৬ সেন্টিমিটার। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছিল ১৩৭ মিলিমিটার। তখন সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছিল ৩৫ সেন্টিমিটার। এ ছাড়া কুশিয়ারা, নলজুর, পাটলাই, যাদুকাটা, খাসিয়ামারা, বৌলাইসহ সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ বুধবার ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। এতে সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টির আশঙ্কা আছে। একই সঙ্গে সুনামগঞ্জের উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি হওয়ায় নামছে উজানের পাহাড়ি ঢল। এতে হাওরে ও নদীতে দ্রুত পানি বাড়ছে। চোখের সামনেই তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের জমির ধান। জামালগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, তাঁদের এলাকার পাগনার হাওরের প্রায় সব ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। হঠাৎ এত পানি হবে, কেউ ভাবতে পারেননি। তাই মাড়াই করা ধান অনেকে খলায় রেখেছিলেন। পানিতে সেগুলোও নষ্ট হয়েছে। হাওরে হাহাকার শুরু হয়েছে জানিয়ে হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, কৃষকেরা নিঃস্ব হয়ে গেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এ পর্যন্ত সুনামগঞ্জের হাওরে ৫০ শতাংশ মতো জমির ধান কাটা হয়েছে। বোরো আবাদের অর্ধেক জমির ধান কাটার আগেই অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলের কবলে পড়েছেন হাওরের কৃষকেরা। বাকি যে জমির ধান এখনো আছে, সেগুলো নির্ভর করছে প্রকৃতির ওপর। এ পরিস্থিতিতে হাওরের কৃষকেরা অনেকটা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। বৈরী আবহাওয়া, হাওরে পানির চাপ, বজ্রপাত আতঙ্কের ধান কাটার শ্রমিকের সংকটসহ নানা কারণে গভীর সংকট দেখা দিয়েছে হাওরে। ভারী বৃষ্টিতে অনেক হাওরের জমির ধান তলিয়ে গেছে। হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধগুলোও ঝুঁকির মধ্যে আছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, হাওরে পানি বাড়ছে। বৃষ্টির কারণে কৃষকেরা মাড়াই করা ধানও শুকাতে পারছেন না। নানা দিক থেকে কৃষকেরা সংকটে আছেন। সুনামগঞ্জের নদী ও হাওরে পানি আরও বাড়বে জানিয়ে জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ‘যেসব হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে আছে, আমরা সেখানে কাজ করার চেষ্টা করছি।’Published: প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭: ১২
Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/odtqzkusol
Comments Section
Comments
Processing your comment...
Share Your Thoughts
No comments yet
Be the first to share your thoughts!