
কক্সবাজারের টেকনাফের জিরো পয়েন্ট থেকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া—হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ হেঁটে ও সাইকেলে করে পাড়ি দেওয়ার এক চ্যালেঞ্জিং যাত্রায় নেমেছেন চার তরুণ। এই যাত্রার সপ্তম দিনে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় তাঁরা পৌঁছান কুমিল্লায়। কুমিল্লা নগরে রাত্রিযাপন শেষে আজ মঙ্গলবার সকালে তাঁরা আবার যাত্রা শুরু করেছেন।
এই চার তরুণের মধ্যে তিনজন দৌড়ে ও অন্যজন তাঁদের সঙ্গে ছুটে চলেছেন বাইসাইকেলে করে। তাঁরা বলছেন, ২১ এপ্রিল ভোর ৪টায় কক্সবাজারের টেকনাফের জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রায় তাঁরা পরিবেশ রক্ষা, নারী শিক্ষা ও শিশুস্বাস্থ্যের পক্ষে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করছেন। পথে পথে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁরা দ্রুততম সময়ে দৌড়ে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পৌঁছার নতুন রেকর্ড গড়তে চান। এই দীর্ঘ যাত্রায় তরুণদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে যমুনা নদীর সাড়ে চার কিলোমিটার পথ সাঁতরে পার হওয়া।
অভিযানে নামা চার তরুণ হলেন নোয়াখালীর আসিফুল হক (পাভেল), টাঙ্গাইলের এহসানুল হক (সানি), পঞ্চগড়ের আসিফ আকবর ও কক্সবাজারের মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। তাঁদের মধ্যে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সাইকেলে এবং বাকি তিনজন দৌড়ে এই পথ পাড়ি দিচ্ছেন। দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন আসিফুল হক। তাঁদের লক্ষ্য মাত্র ১৮ দিনে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পৌঁছানো। প্রতিদিন ৫৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এই অদম্য তরুণেরা এগিয়ে চলেছেন।
ওই চার তরুণের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই অভিযাত্রা তাঁদের শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক দৃঢ়তার এক কঠিন পরীক্ষা হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন তাঁরা। অভিযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘প্রকৃতি বাঁচলে বাঁচবে দেশ, নারী শিক্ষা ও শিশুস্বাস্থ্যের হোক জয়জয়কার’। প্রতিদিনই যাত্রাপথে অন্তত ১৫ বার বিরতি দিচ্ছেন তাঁরা। প্রতিটি স্থানেই তাঁরা পরিবেশ-প্রকৃতি, নারী শিক্ষা ও শিশুস্বাস্থ্যের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করছেন। পাশাপাশি যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলাসহ পরিবেশ রক্ষায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছেন।
কথা বলে জানা গেছে, কেবল সামাজিক বার্তাই নয়, এই দৌড়বিদদের আরেকটি লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে ‘আয়রনম্যান’ প্রতিযোগিতার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করা। এই চ্যালেঞ্জে টাইটেল স্পনসর হিসেবে যুক্ত রয়েছে অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড। এ ছাড়া সহযোগিতা করছে ওয়েভ লাইফস্টাইল, ব্রাদার্স ইউনাইটেড ক্লাব, ট্রাভেলগ্রাফ, বৈরাগ মুন্সী সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড, ওয়্যার কালেক্টস ও রান ফর বাংলাদেশসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
আসিফুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত মোহাম্মদ শামসুজ্জামান আরাফাত টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া দৌড়ে পাড়ি দিয়েছিলেন। তিনি ২০১৭ সালে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ২০ দিনে দৌড়ে পাড়ি দিয়ে রেকর্ড গড়েন। আমরা চ্যালেঞ্জ নিয়েছি ১৮ দিনে পাড়ি দিয়ে নতুন রেকর্ড গড়ব। এরই মধ্যে আমরা যেই পরিকল্পনা করেছি, সেটা থেকে অনেক দূর এগিয়ে আছি।’ তিনি বলেন, ‘আগামীকাল বুধবার আমরা ঢাকায় অবস্থান করব বলে আশা করছি। আমাদের প্রতিদিন ৫৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে। এরই মধ্যে আমরা প্রতিদিন ৬০ কিলোমিটারের বেশি পথ দৌড়াচ্ছি।’ আসিফুল হক জানান, প্রতিদিন রাতে তাঁরা কোনো হোটেল বা দৌড়ের বিভিন্ন সংগঠনের শুভাকাঙ্ক্ষীদের বাসায় অবস্থান করেন। আর সেটা সম্ভব না হলে তাঁবু টানিয়ে রাত্রিযাপন করছেন।
যমুনা নদী সাঁতরে পার হওয়া প্রসঙ্গে আসিফুল হক বলেন, যমুনা সেতু ও পদ্মা সেতুতে হেঁটে বা সাইকেলে যাওয়া যায় না। এ জন্য তাঁদের সাঁতরে যমুনা পার হতে হবে। অবশ্য পুরো নদীতে তাঁদের নিরাপত্তার জন্য পাশে বোট থাকবে। তাঁরা আশা করছেন যাত্রার ১২ বা ১৩তম দিনে যমুনা নদী সাঁতরে পার হতে পারবেন।
আরেক তরুণ এহসানুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘গন্তব্য এখনো দূরে হলেও বাধা যা–ই আসুক, তেঁতুলিয়ার মাটি ছুঁয়েই আমরা থামব।’
Published: প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৪: ৫০
Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/hmxavfbb1e
Comments Section
Comments
Processing your comment...
Share Your Thoughts
No comments yet
Be the first to share your thoughts!