
রীতিমতো ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন। সেটির কারণও আছে অবশ্য। বিসিবির আহ্বায়ক কমিটির প্রধান হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হননি তামিম ইকবাল। একবার যদিও হয়েছেন, নিজে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং দিয়েই চলে গেছেন; কোনো প্রশ্ন নেননি।
হয়তো সে কারণেই দুই দিন আগে থেকে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়ে মিরপুরে আজ সংবাদ সম্মেলন করলেন তামিম ইকবাল। প্রশ্নোত্তর পর্বটা অবশ্য আজও খুব বড় হয়নি। বোর্ডের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির কিছু উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন দেবেন।
সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরা নিয়ে এক প্রশ্নে নিজেই টেনে এনেছেন জাতীয় দলের আরও দুই সাবেক অধিনায়ক নাঈমুর রহমান ও মাশরাফি বিন মুর্তজার কথাও। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আরও অনেকের মতো মামলা হয়েছে সাকিব, মাশরাফি ও নাঈমুরের বিরুদ্ধে। সাকিব ও মাশরাফি ওই সরকারের আমলেই আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন, নাঈমুর সংসদ সদস্য ছিলেন তার আগেরবার।
সাকিবের দেশে ফেরার প্রশ্নে তামিম বলেছেন, ‘আমাদের তিনজন সাবেক অধিনায়ক একই অবস্থায় আছেন। কাজেই আমি শুধু একজনকে নিয়ে কথা বলা ঠিক মনে করছি না। বিসিবি তাদের ক্রিকেটীয় জায়গা থেকে যেকোনো সহায়তা করতে সব সময় প্রস্তুত। আইনগত যে বিষয়গুলো আছে, সেগুলো নিয়ে আমাদের মন্ত্রী সাহেবও নমনীয় হওয়ার কথা বলেছেন। বিসিবি তাদের খোলামেলাভাবেই স্বাগত জানাবে যদি তারা তাদের সমস্যাগুলো সমাধান করে আসতে পারে।’
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির তিনটি উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তামিম ইকবাল। যার অন্যতম কাউন্টি ক্রিকেটের মতো জাতীয় ক্রিকেট লিগের দলগুলোর দ্বিতীয় একাদশ গঠন করা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের সমান্তরালে এই মৌসুম থেকেই প্রতিটি বিভাগীয় দলের দ্বিতীয় একাদশ খেলবে তিন দিনের টুর্নামেন্ট।
এই টুর্নামেন্টের কথা জানাতে গিয়ে তামিম বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটা নির্দিষ্ট শ্রেণির ক্রিকেটারদের জন্যই আমাদের বেশির ভাগ ক্রিকেট। যারা জাতীয় দলে খেলে, তারাই বিপিএল খেলে, বিসিএল খেলে, এনসিএল খেলে। একটা শ্রেণির খেলোয়াড়েরা ৫-৬টা টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু যারা থার্ড ডিভিশন, সেকেন্ড ডিভিশন বা ফার্স্ট ডিভিশন খেলে, তাদের জন্য এই লিগ খেলা ছাড়া আর কোনো খেলা নেই।’ তামিম মনে করেন, এ কারণেই বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সেকেন্ড ডিভিশন বা থার্ড ডিভিশন থেকে কোনো খেলোয়াড়ের জাতীয় দলে আসার ঘটনা তেমন নেই। তাঁরা ওই প্ল্যাটফর্মটাই দিতে চান ক্রিকেটারদের।
জাতীয় লিগে দ্বিতীয় একাদশের টুর্নামেন্ট সম্পর্কেও বিস্তারিত বলেছেন তামিম, ‘কাউন্টি ক্রিকেটে ফার্স্ট ইলেভেন এবং সেকেন্ড ইলেভেন থাকে। এখন থেকে এনসিএল যখন শুরু হবে, চিটাগংয়ের দুইটা টিম থাকবে—ফার্স্ট ইলেভেন ও সেকেন্ড ইলেভেন। ঢাকারও দুটি টিম থাকবে। এভাবে প্রতিটি টিমের ফার্স্ট ও সেকেন্ড ইলেভেন থাকবে। ফার্স্ট ইলেভেনের অনেক খেলোয়াড় থাকে যারা বেশির ভাগ সময় ১২তম, ১৩তম বা ১৪তম খেলোয়াড় হয়ে থাকে, খেলার সুযোগ পায় না। কিন্তু সেকেন্ড ইলেভেন যখন আমরা শুরু করব, তখন আরও ১০০-১৫০ বা ২০০ ক্রিকেটার খেলার মধ্যে আসবে।’
এর সুবিধাটাও ব্যাখ্যা করে বলেছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক, ‘ধরুন, ঢাকা এনসিএলে ম্যাচ খেলছে, দুই দিন পর তাদের খেলা রাজশাহীর সঙ্গে। রাজশাহীতে ধরুন চারজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান আছে এবং ঢাকা দলে কোনো অফ স্পিনার নেই। আমরা তখন কী করি? আমরা এখান-সেখান থেকে একজন অফ স্পিনার ধরে এনে খেলিয়ে দিই।
এই যে ‘পিকনিক ক্রিকেট’ কথাটা জাতীয় লিগের ক্ষেত্রে ওঠে, সেটার জন্য খালি ক্রিকেটাররা নয়, আমরাও দায়ী। কারণ, আমরাই ওই সংস্��ৃতিটা তৈরি করে দিয়েছি। এখন আর কাউকে বাসা থেকে তুলে আনতে হবে না, সেকেন্ড ইলেভেনে ওই অফ স্পিনার খেলতে থাকবে এবং ফার্স্ট ইলেভেন তার পারফরম্যান্স দেখে তাকে জাতীয় লিগে সুযোগ দিতে পারবে। এতে তাদের মধ্যে একটা প্রতিযোগিতাও তৈরি হবে।’ তামিম জানিয়েছেন, দ্বিতীয় একাদশের খেলোয়াড়েরাও ম্যাচ ফিসহ সব রকম সুযোগ-সুবিধা পাবেন। জাতীয় ক্রিকেট লিগে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতিও আবার ফিরিয়ে আনা হবে বল জানিয়েছেন তামিম।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের পূর্ব গ্যালারিতে ক্যানোপি বসানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে তামিমের অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ড। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারির এই অংশটিতেই এখন শুধু ছাদ নেই। সবচেয়ে কম দামের টিকিটের এই গ্যালারিতে খেলা দেখা মানেই রোদে পোড়া অথবা বৃষ্টিতে ভেজা।
তামিম জানিয়েছেন, পূর্ব গ্যালারির ২৭ হাজার স্কয়ার ফুটজুড়ে লাগানো হবে ক্যানোপি। পুরো মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার চিন্তাভাবনার কথাও বলেছেন তিনি, তবে চিন্তাভাবনাটি এখনো আছে প্রাথমিক পর্যায়ে।
কিন্তু সরকার অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন আয়োজন করতে। তারা দীর্ঘমেয়াদি কাজে হাত দিতে পারে কি না, সংবাদ সম্মেলনে সে প্রশ্নও হয়েছে। জবাবে তামিম বলেছেন, এই কমিটি অন্তত কিছু কাজের উদ্যোগ নিয়ে যেতে চায়। তাঁর আশা, নির্বাচিত বোর্ড এসে এসব কাজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখবে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তামিম জানিয়েছেন, আগামী ৩ মে অনুষ্ঠেয় বোর্ড সভায় নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এর ৩০-৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে। অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই-তিন সপ্তাহ আগেই বিসিবির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তাঁর আশা।
Published: আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১২: ৩৮
Source: https://www.prothomalo.com/sports/cricket/474bocri7w
Comments Section
Comments
Processing your comment...
Share Your Thoughts
No comments yet
Be the first to share your thoughts!