
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক্-বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব প্রস্তাব তুলে ধরে অর্থনীতি সমিতি।
গুগল, মেটা (ফেসবুক), অ্যামাজন ও চ্যাটজিপিটির মতো সব বিদেশি মালিকানাধীন ডিজিটাল কোম্পানি কাছ থেকে আয়কর আদায়ের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি। এ ছাড়া বাংলাদেশে কাজ করা বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান, অনলাইন বিক্রেতা, ফ্রিল্যান্সিং সেবা ও স্ট্রিমিং সেবাকেও আয়কর কাঠামোর মধ্যে আনার পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক্-বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠানে এ প্রস্তাব তুলে ধরে অর্থনীতি সমিতি। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। সভায় অর্থনীতি সমিতির পক্ষে প্রস্তাব তুলে ধরেন সংগঠনটির অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সদস্য মোহাম্মদ মাসুদ আলম। এ সময় অর্থনীতি সমিতির অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির আহ্বায়ক মাহবুব উল্লাহ্ উপস্থিত ছিলেন। আগামী বাজেটে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে অর্থনীতি সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশে ডিজিটাল খাতগুলো দ্রুততম হারে বাড়লেও সেগুলো প্রায় পুরোপুরি কিংবা আংশিকভাবে করকাঠামোর বাইরে রয়েছে। যেমন বর্তমানে ফেসবুকভিত্তিক ব্যবসা বা দারাজের বিক্রেতাদের মতো ই-কমার্স খাত; আপওয়ার্ক বা ফাইভভার থেকে প্রাপ্ত ফ্রিল্যান্সিং আয়; ফেসবুক ও গুগল অ্যাডসের মতো ডিজিটাল বিজ্ঞাপন এবং নেটফ্লিক্স ও স্পটিফাইয়ের মতো স্ট্রিমিং সেবাগুলো প্রচলিত করকাঠামোর বাইরে রয়ে গেছে। অর্থনীতি সমিতির অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সদস্য মোহাম্মদ মাসুদ আলম বলেন, ‘গুগল, মেটা, অ্যামাজনের মতো বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশে আয় করে, কিন্তু তাদের কর পরিশোধ সীমিত। এ ক্ষেত্রে আমাদের প্রস্তাব হচ্ছে, দেশে কর্মরত সব বিদেশি ডিজিটাল প্রতিষ্ঠানের জন্য কর নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অর্থ পরিশোধের মাধ্যম বা পেমেন্ট গেটওয়ে থেকেই যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর এবং ভ্যাট কর্তন করা যায়, সেই ব্যবস্থা কার্যকর করা।’ এ জন্য এনবিআরে একটি ডিজিটাল ইউনিট তৈরি করে এসব আন্তর্দেশীয় ডিজিটাল সেবা ক্রয়-বিক্রয় তদারকের পরামর্শ দিয়েছে অর্থন��তি সমিতি। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ভ্যাটের হার কমালে রাজস্ব বাড়বে, এমন ধারণা প্রচলিত থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। বর্তমানে যাঁরা নিয়মিত ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সামান্য কমালেও রাজস্বের বড় ক্ষতি (ঘাটতি) হয়। আলোচনা সভায় পিআরআই প্রস্তাব করেছে, ব্যক্তিগত আয়করের সর্বোচ্চ সীমা যেন কোনোভাবেই ২৫ শতাংশের বেশি না হয়; বরং করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানো উচিত। এর উত্তরে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, অনেকে এত বেশি আয় করেন যে সেটা খরচ করার মতো সময়ও পান না। সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে হলে এমন ব্যক্তিদের থেকে উচ্চহারে কর নিতে হবে। সভায় বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী তামীম আহমেদ প্রস্তাব করেন, রপ্তানিমুখী ও অভ্যন্তরীণ উভয় খাতের জন্যই করপোরেট করকাঠামো এমনভাবে সংস্কার করা উচিত, যাতে এটি ১৫ শতাংশের নিচে না নামে।Published: আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫: ৫৩
Source: https://www.prothomalo.com/business/economics/stkd3trq3e
Comments Section
Comments
Processing your comment...
Share Your Thoughts
No comments yet
Be the first to share your thoughts!