
সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসার অনুমতির জন্য ট্রাইব্যুনালের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।
সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সঙ্গে ‘ফ্রড প্র্যাকটিস’ (প্রতারণামূলক কার্যক্রম) করে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর অনুমতি নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর এ অভিযোগ করেন। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার আসামি সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন। আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি কামরুল ইসলামকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসার আদেশ দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১। ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তে এভারকেয়ার হাসপাতালে কামরুল ইসলামকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ট্রাইব্যুনাল থেকে একটি আদেশ হয়েছিল। সেই আদেশ দেখে মনে হলো এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রিজন সেল নেই। এ ছাড়া সারা দেশে একটি ‘সিকিউরিটি কনসার্ন (নিরাপত্তা উদ্বেগ)’ চলছে। বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে খরচ কে বহন করবে, সে বিষয়েও কিছু ছিল না। আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, এভারকেয়ারে চিকিৎসা গ্রহণের জন্য যে আবেদন করেছিল, সেখানে যেসব কাগজপত্র দাখিল করেছিল আসামিপক্ষ, সেগুলো সন্দেহজনক মনে হয়েছে। বিশেষ করে গত ২৫ ফেব্রুয়ারির একটি কথিত মেডিকেল পেপার দেখে সন্দেহ হলো এটা কীভাবে এল। কারণ, ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর থেকে আসামি হাজতে আছেন। ট্রাইব্যুনালের কোনো আদেশ নেই, অনুমতি নেই, তাহলে তিনি গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কী করে চিকিৎসকের কাছে গেলেন? বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য ২৮ এপ্রিল আবেদন করেন উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তাৎক্ষণিক ট্রাইব্যুনাল এটা দেখে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের যে আদেশ দিয়েছিলেন, সেটি স্থগিত করেন। তার ওপর বৃহস্পতিবার অধিকতর শুনানি হয়েছে এবং সেই আদেশটি বাতিল করেছেন ট্রাইব্যুনাল। আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘যখন কেউ চিকিৎসার কথা বলে, এটা মানবিক কারণে দেখা হয়। কিন্তু পরে যখন আমরা দেখলাম যে এ রকম একটা অর্ডার হয়ে গেছে যে পিজির (বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) পরিবর্তে এভারকেয়ারে নেওয়া হবে, তখন বিষয়টা আমাদের নোটিশে আনা হলো। আমরা গুরুত্বের সাথে বিষয়টা দেখলাম। তখন দেখতে গিয়ে আমরা পেলাম, এ রকম কিছু সন্দেহজনক কাগজপত্র সাবমিট (দাখিল) করে তারা আদালতের সাথে হয়তো ফ্রড প্র্যাকটিস করেছে বা ট্রাইব্যুনালের সাথে ফ্রড প্র্যাকটিস করে এ রকম একটা আদেশ নিয়েছে।’ বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে আসামি কামরুল ইসলামের আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী বলেন, এভারকেয়ার হাসপাতালে কামরুল ইসলামের চিকিৎসার জন্য যেসব কাগজপত্র জমা দিয়েছেন, সেগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য সময় চান তিনি। পরে আগামী ১৭ মে এ বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।Published: প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৮: ২৩
Comments Section
Comments
Processing your comment...
Share Your Thoughts
No comments yet
Be the first to share your thoughts!