
জীবন সবসময় একইভাবে চলে না। কখনো কখনো এমন কঠিন মুহূর্ত আসে যখন মনে হয় চারপাশ থেকে অন্ধকার আমাদের ঘিরে ধরছে। মানসিক অবসাদ, প্রিয়জন হারানো কিংবা আর্থিক অনিশ্চয়তা আমাদের ভেতরটা ভেঙে দিতে চায়। এমন পরিস্থিতিতে মনের জোর ফিরিয়ে আনতে এবং নতুন করে পথ চলতে পবিত্র কোরআনের এই ১০টি আয়াত হতে পারে আপনার পরম পাথেয়: আপনার ওপর যে পরীক্ষা বা সমস্যা এসেছে, তা সামলানোর শক্তি আপনার আছে—এটি আল্লাহর দেওয়া গ্যারান্টি। উচ্চারণ: লা ইউকাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা উস'আহা। অর্থ: আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন না। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৮৬) দুঃখ চিরস্থায়ী নয়। অন্ধকারের পরেই যেমন আলো আসে, ঠিক তেমনি প্রতিটি কষ্টের ভেতরেই স্বস্তির বীজ বপন করা থাকে। উচ্চারণ: ফা ইন্না মা'আল উসরি ইউসরা, ইন্না মা'আল উসরি ইউসরা। অর্থ: নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি আছে। নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি আছে। (সুরা আশ-শারহ, আয়াত: ৫-৬) বিপদে যখন দিশেহারা লাগে, তখন নামাজ আর ধৈর্যই মানুষকে ভেতরে থেকে শক্তিশালী করে তোলে। উচ্চারণ: ইয়া আইয়্যুহাল্লাযিনা আমানুস তা'ঈনু বিসসাবরি ওয়াসসালাহ। অর্থ: হে মুমিনগণ! ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৩) বিপদের দিনে একাকীত্বের অনুভূতি সবচেয়ে বড় শত্রু। কিন্তু কোরআন মনে করিয়ে দেয়, আপনি একা নন। উচ্চারণ: লা তাহযান ইন্নাল্লাহা মা'আনা। অর্থ: দুঃখ করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন। (সুরা তাওবা, আয়াত: ৪০) সাময়িক প্রতিকূলতায় নিজেকে ছোট বা গুরুত্বহীন মনে করবেন না। অটল বিশ্বাসই আপনাকে সবার উপরে নিয়ে যাবে। উচ্চারণ: ওয়ালা তাহিনু ওয়ালা তাহযানু ওয়া আনতুমুল আ'লাউনা। অর্থ: তোমরা হীনবল হয়ো না এবং দুঃখ করো না। তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা মুমিন হও। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৯) অতীতে কোনো ভুল বা জীবনের কোনো ব্যর্থতা যেন আপনাকে থমকে না দেয়। আল্লাহর রহমত আকাশসম বিশাল। উচ্চারণ: লা তাকনাতু মির রাহমাতিল্লাহ। অর্থ: আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন। (সুরা আয-যুমার, আয়াত: ৫৩) মানুষ আমাদের ভুল বুঝতে পারে কিংবা ছেড়ে যেতে পারে, কিন্তু আমাদের প্রতিপালক আমাদের পাশেই আছেন। উচ্চারণ: মা ওয়াদ্দা'আকা রাব্বুকা ওয়া মা কলা। অর্থ: তোমার প্রতিপ্রতিপালক তোমাকে ত্যাগ করেননি এবং বিরক্তও হননি। (সুরা আদ-দুহা, আয়াত: ৩) বিপদ মানেই অভিশাপ নয়, বরং এটি আত্মিক উন্নতির একটি ধাপ। জান্নাতের পথ কণ্টকাকীর্ণ হয় ঠিকই, কিন্তু গন্তব্য অত্যন্ত সুন্দর। উচ্চারণ: আম হাসিবতুম আন তাদখুলুল জান্নাতা... অর্থ: তোমরা কি মনে করো যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথচ তোমাদের পূর্ববর্তীদের মতো অবস্থা (বিপদ-আপদ) এখনো আসেনি? (সুরা বাকারা, আয়াত: ২১৪) আপনার বুকের ভেতর চেপে রাখা প্রতিটা দীর্ঘশ্বাস আর অব্যক্ত যন্ত্রণার খবর তিনি জানেন। তিনি আপনার খুব কাছে। উচ্চারণ: ওয়া নাহনু আকরাবু ইলাইহি মিন হাবলিল ওয়ারিদ। অর্থ: আর আমি তার (মানুষের) জীবনধমনী থেকেও তার নিকটবর্তী। (সুরা ক্বাফ, আয়াত: ১৬) প্রচেষ্টা চালিয়ে গেলে একদিন পথ খুঁজে পাওয়া যাবেই। যারা ধৈর্য ধরে চেষ্টা করে, আল্লাহ তাদের সঙ্গ ছাড়েন না। উচ্চারণ: ওয়াল্লাযিনা জাহাদু ফিনা লানাহদিয়ান্নাহুম সুবুলানা। অর্থ: আর যারা আমার পথে সংগ্রাম করে, আমি অবশ্যই তাদের আমার পথসমূহ দেখাবো। (সুরা আনকাবুত, আয়াত: ৬৯) পরিশেষে, জীবন একটি পরীক্ষার নাম। এখানে উত্থান-পতন থাকবেই। কিন্তু যার হৃদয়ে এই ১০টি ঐশী সুরক্ষার বিশ্বাস থাকে, কোনো ঝড়ই তাকে ভাসিয়ে নিতে পারে না। নিজের ওপর বিশ্বাস হারাবেন না, কারণ আপনার পেছনের শক্তি খোদ মহাবিশ্বের মালিক। সাধারণ পাঠকদের সুবিধার্থে এখানে বাংলা উচ্চারণ দেওয়া হয়েছে। তবে বিশুদ্ধ উচ্চারণের জন্য মূল আরবি আয়াতের সাহায্য নেওয়া বাঞ্ছনীয়।
Published: প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ২২: ৩০
Source: https://www.prothomalo.com/religion/islam/bzcjdz5idh
Comments Section
Comments
Processing your comment...
Share Your Thoughts
No comments yet
Be the first to share your thoughts!