‘লাগাতার ৩৬ দিন আমাকে ঘুমাতে দেওয়া হয়নি’

নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
Published

শফিকুল ইসলাম গুমের সময় ঘুমাতে না দেওয়া, নির্যাতন ও মিথ্যা অভিযোগের কথাগুলো ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

গুম থাকার সময় লাগাতার ৩৬ দিন তাঁকে ঘুমাতে দেওয়া হয়নি বলে বলেছেন মো. শফিকুল ইসলাম। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ আজ বুধবার আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গণীর জেরায় সাক্ষী শফিকুল ইসলাম এ কথা বলেন।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে র‍্যাবের টিএফআই সেলে গুম করে রাখার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে আজ দ্বিতীয় দিনের মতো শফিকুল ইসলামকে জেরা করা হয়। তিনি রাজধানীর পূর্বাচলের মারকাজুস সুনান মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রিন্সিপাল।

২০২২ সালের ১৩ জানুয়ারি রাজধানীর জাপান গার্ডেন সিটি এলাকা থেকে শফিকুল ইসলামকে একটি মাইক্রোবাসে করে তুলে নেওয়া হয়েছিল বলে গত সোমবার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছিলেন শফিকুল ইসলাম।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গণী প্রশ্ন করেন, দৈনিক করতোয়ার অনলাইনে এক সাক্ষাৎকারে আপনি (সাক্ষী) বলেছেন ‘৩৬ দিন লাগাতার আমাকে ঘুমাতে দেয়নি।’

এর জবাবে সাক্ষী শফিকুল ইসলাম বলেন, মিডিয়ার সামনে ‘৩৬ দিন লাগাতার আমাকে ঘুমাতে দেয়নি’ এই কথা তিনি বলেছেন।

আরেক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁকে পেছনে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে এবং দুই হাত ঝুলিয়ে বেঁধে রাখত বলে মিডিয়ার সামনে বলেছিলেন কি না, তা মনে নেই। তাঁকে যে কক্ষে রাখা হয়েছিল, তাতে একজন মানুষ শুধু দাঁড়ানো যায়, এর বেশি কিছু করা যায় না, বসতে পারে, কোনোরকম শুতে পারে, কবরের মতো একটি ঘর বলে মিডিয়ার সামনে বলেছেন কি না, তা–ও মনে নেই।

নীলফামারীতে একটি মামলা রয়েছে এবং গত মার্চ মাসে সে মামলায় হাজিরা দিয়েছেন বলে জেরায় উল্লেখ করেন শফিকুল ইসলাম।

পরে আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গণী প্রশ্ন করেন, সেই মামলার এক নম্বর আসামি ওয়াহিদুল ইসলামের আপনি সহযোগী ছিলেন। জেএমজির সদস্য ছিলেন। ওয়াহিদুল ইসলাম ও জেএমজির সঙ্গে সিকিউরিটি অ্যাপসের মাধ্যমে যোগাযোগ করতেন আপনি।

এসব কথা সত্য নয় বলে জবাব দেন সাক্ষী শফিকুল ইসলাম।

আসামিপক্ষের আইনজীবীর আরেক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি ফ্যাকাল্টি বোঝেন না। তবে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দাওয়াহ এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে এক বছরের ৈশকালীন কোর্স করেছেন তিনি।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে র‍্যাবের টিএফআই সেলে গুম করে রাখার ঘটনায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি হয়। তাঁদের মধ্যে ১০ আসামি ঢাকা সেনানিবাসের সাবজেলে আছেন। তাঁরা হলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, মো. কামরুল হাসান, মো. মাহাবুব আলম এবং কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন ও আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান, সাইফুল ইসলাম ও মো. সারওয়ার বিন কাশেম। আজ তাঁদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।

এ মামলার অপর সাত আসামি পলাতক। তাঁরা হলেন জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর সাবেক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ (পরে আইজিপি হন), এম খুরশীদ হোসেন ও মো. হারুন অর রশিদ এবং লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম।

Published: প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ১৪: ৩১

Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/hqmhaiza9x

Rate This Content

0.0/5 | 0 ratings
Not rated yet
5
0
4
0
3
0
2
0
1
0

Comments Section

Comments

0 Comments

Processing your comment...

Share Your Thoughts
Replying to
Preview
0 /2000
Pick an emoji
😀 😃 😄 😁 😅 😂 🤣 😊 😇 🙂 😉 😌 😍 🥰 😘 😗 😙 😚 🤗 🤩 🤔 🤨 😐 😑 😶 🙄 😏 😣 😥 😮 🤐 😯 😪 😫 😴 😌 😛 😜 😝 🤤 😒 😓 😔 😕 🙃 🤑 😲 ☹️ 🙁 😖 😞 😟 😤 😢 😭 😦 😧 😨 😩 🤯 😬 😰 😱 🥵 🥶 😳 🤪 😵 🥴 😠 😡 🤬 👍 👎 👌 ✌️ 🤞 🤟 🤘 🤙 👈 👉 👆 👇 ☝️ 🤚 🖐 🖖 👋 🤙 💪 🙏 ✍️ 💅 🤳 💃 🕺 👯 🧘 🏃 🚶 🧍 🧎 💻 📱 ⌨️ 🖱 🖥 💾 💿 📀 🎮 🎯 🎲 🎰 🎳 🎪 🎨 🎬 🎤 🎧 🎼 🎹 🥁 🎷 🎺 🎸 🎻 🎭 🎪 🎨 🎬 🎤 🎧 🎼 🎹 🥁 💕 ❤️ 💔 💖 💗 💓 💞 💝 💘 ❣️ 💟 🔥 💫 🌟 💥 💯 🎉 🎊 🎈 🎁 🏆 🥇 🥈 🥉 🏅 🎖
No comments yet

Be the first to share your thoughts!