যশোরে বিদ্যুতের লাইন টানতে কাটা হয়েছে শতাধিক গাছ

প্রতিনিধি প্রতিনিধি
Published on
1 views
1 impressions

বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বসাতে গিয়ে যশোরের বাঘারপাড়ায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কের প্রায় ২০০ গাছের মাথা ও ডাল কেটে ব্যাপক ক্ষতি করা হয়েছে।

কোথাও গাছের মাথা কাটা, কোথাও মাঝখান থেকে, আবার কোথাও গোড়া থেকেই কেটে ফেলা হয়েছে। সারি সারি মেহগনি, কাঁঠাল, নিম, বট, শিমুল, বাবলা, রেইনট্রি, বেল, খেজুর ও শিশুসহ নানা প্রজাতির গাছ এখন এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। দেখে মনে হয়, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বাঘারপাড়া-নারিকেলবাড়িয়া সড়কের দুই পাশের শতাধিক গাছের ওপর যেন ঝড় বয়ে গেছে। সম্প্রতি ওই সড়কে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থাপনের সময় বাঘারপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লোকজন গাছগুলো নির্বিচার কেটেছে। পল্লী বিদ্যুৎ সূত্র জানায়, উপজেলার পুনিয়ার বটতলা এলাকায় একটি উপকেন্দ্র স্থাপনের জন্য বাঘারপাড়া-নারিকেলবাড়িয়া সড়কের বাঘারপাড়া থেকে পুনিয়ার বটতলা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় ৩৩ হাজার ভোল্টের সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। এ জন্য সড়কের পাশেই বিদ্যুতের খুঁটি বসানো হয়। তার টানতে গিয়ে প্রায় ২০০ গাছের মাথা, ডালপালা এবং কিছু ক্ষেত্রে গোড়াও কেটে ফেলা হয়েছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড সূত্র জানায়, প্রতি কিলোমিটারে ২৫ থেকে ৩০টি করে খুঁটি বসানো হয়েছে। সে হিসাবে পাঁচ কিলোমিটারে প্রায় ১২৫ থেকে ১৫০টি খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। তবে খুঁটিগুলো সড়ক থেকে অন্তত পাঁচ ফুট দূরে স্থাপন করা হলে গাছের এমন ক্ষতি হতো না বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একাধিক কর্মকর্তা। উপজেলার বন বিভাগ জানায়, ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে সড়কের দুই পাশে লাগানো এসব গাছ এখন বড় হয়েছে। সাম্প্রতিক কাটাকাটিতে গাছগুলোর মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। বাঘারপাড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) আবদুল কুদ্দুস বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে তাঁদের আগে জানানো হয়নি। পরে বিষয়টি জানতে পেরে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাড়াহুড়ার কারণে জানানো হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জবাব দিয়েছেন। বাঘারপাড়া-নারিকেলবাড়িয়া সড়কটিতে নিয়মিত ভ্যান চালান ইন্দ্রা গ্রামের আলাউদ্দিন মোল্যা (৬৫)। আক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যুতের তার টানতে গাছের মাথা, গোড়া ও মাঝ অংশ থেকে কাটা হয়েছে। আগে ছায়া পড়ত এখানে। কিন্তু গাছগুলো ছাঁটার পর পুরো রাস্তা এখন রোদে খাঁ খাঁ করছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঘারপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক সোহানুর রহমান বলেন, সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। ফলে গাছ কাটার দায় তাঁদের নয়। তবে যশোর পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিঠু কুমার বলেন, ঠিকাদারকে সীমিত পরিসরে ডাল কাটার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। গাছের মাথা বা পুরো গাছ কাটার অনুমতি ছিল না। এমন কিছু হয়ে থাকলে তা ঠিক হয়নি এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। বাঘারপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু সুফিয়ান বলেন, সড়ক ঘেঁষে খুঁটি বসানোই সমস্যার মূল কারণ। কিছুটা দূরে বসানো হলে গাছও বাঁচত, সড়ক ব্যবহারের সুবিধাও বাড়ত।

Published: আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৩: ১৮

Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/052xa2qut0

Rate This Content

0.0/5 | 0 ratings
Not rated yet
5
0
4
0
3
0
2
0
1
0

Comments Section

Comments

0 Comments

Processing your comment...

Share Your Thoughts
Replying to
Preview
0 /2000
Pick an emoji
😀 😃 😄 😁 😅 😂 🤣 😊 😇 🙂 😉 😌 😍 🥰 😘 😗 😙 😚 🤗 🤩 🤔 🤨 😐 😑 😶 🙄 😏 😣 😥 😮 🤐 😯 😪 😫 😴 😌 😛 😜 😝 🤤 😒 😓 😔 😕 🙃 🤑 😲 ☹️ 🙁 😖 😞 😟 😤 😢 😭 😦 😧 😨 😩 🤯 😬 😰 😱 🥵 🥶 😳 🤪 😵 🥴 😠 😡 🤬 👍 👎 👌 ✌️ 🤞 🤟 🤘 🤙 👈 👉 👆 👇 ☝️ 🤚 🖐 🖖 👋 🤙 💪 🙏 ✍️ 💅 🤳 💃 🕺 👯 🧘 🏃 🚶 🧍 🧎 💻 📱 ⌨️ 🖱 🖥 💾 💿 📀 🎮 🎯 🎲 🎰 🎳 🎪 🎨 🎬 🎤 🎧 🎼 🎹 🥁 🎷 🎺 🎸 🎻 🎭 🎪 🎨 🎬 🎤 🎧 🎼 🎹 🥁 💕 ❤️ 💔 💖 💗 💓 💞 💝 💘 ❣️ 💟 🔥 💫 🌟 💥 💯 🎉 🎊 🎈 🎁 🏆 🥇 🥈 🥉 🏅 🎖
No comments yet

Be the first to share your thoughts!