
অনেক অভিভাবকই সন্তানের ছবি ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। তবে এ অভ্যাস শিশুদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ডিজিটাল যুগে অনেক অভিভাবকই সন্তানের ছবি ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। তবে এ অভ্যাস শিশুদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে এক গবেষণায় জানিয়েছে সাইবার নিরাপত্তাপ্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি ও সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব অভিভাবক নিজেদের সিদ্ধান্তে আত্মবিশ্বাসী, তাঁরা সন্তানের তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে বেশি সতর্ক থাকেন। তাঁরা সাধারণত সংবেদনশীল তথ্য এড়িয়ে চলেন, পরিচিত মানুষের মধ্যেই তথ্য সীমিত রাখার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় শেয়ারিং কমানোর চেষ্টা করেন। এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ১৫২ অভিভাবকের মতামতের ভিত্তিতে এ গবেষণা পরিচালিত হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ক্যাসপারস্কি বাংলাদেশ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গবেষণায় ঝুঁকি মোকাবিলার মানসিক প্রস্তুতিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব অভিভাবক নিজের সক্ষমতার ওপর যত বেশি আস্থা রাখেন, তিনি বেশি সতর্ক থাকেন। ৮৫ শতাংশ অভিভাবক সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকেন আর ৮৪ শতাংশ অভিভাবক কেবল নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যেই তথ্য বিনিময় করেন। এ ছাড়া ৮০ শতাংশ অভিভাবক আধেয় (কনটেন্ট) আবার শেয়ার করার অপশন বন্ধ রাখেন এবং ৭৮ শতাংশ ছবির অতিরিক্ত তথ্য বা মেটাডেটা মুছে ফেলেন।
গবেষক অক্টাভিয়ানো জানিয়েছেন, অভিভাবকেরা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন এবং ঝুঁকি বুঝতে সক্ষম হন। ফলে তাঁরা আরও সচেতনভাবে পদক্ষেপ নেন। আর মায়েদের ক্ষেত্রে সন্তানকে সুরক্ষিত রাখার প্রবণতা স্বাভাবিকভাবেই বেশি, যা ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও দেখা যায়। তবে বয়স বা লিঙ্গনির্বিশেষে সবার জন্য নিয়মিত সাইবার নিরাপত্তা শিক্ষা ও সচেতনতা জরুরি।
গবেষণায় অভিভাবকদের বয়স ও লিঙ্গভেদে আচরণে কিছু পার্থক্য দেখা গেছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবকেরা আরও সচেতন হন। একই ভাবে মায়েদের মধযে সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে।
Published: প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ১১: ৪৬
Comments Section
Comments
Processing your comment...
Share Your Thoughts
No comments yet
Be the first to share your thoughts!