নিষেধাজ্ঞা শেষেও চাঁদপুরের বাজারে ইলিশ কম, দাম তিন-চার গুণ বেশি

প্রতিনিধি প্রতিনিধি
Published on
1 views
1 impressions

মেঘনায় মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ ও মতলব উত্তর উপজেলার মাছবাজারে তেমন ইলিশ দেখা যাচ্ছে না। বাজারে অল্প কিছু ইলিশ উঠলেও দাম তিন থেকে চার গুণ বেশি, যা মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। মাছ বিক্রেতাদের দাবি, মেঘনায় প্রত্যাশিত হারে ইলিশ ধরা না পড়ায় বাজারে এ সংকট তৈরি হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদর, মুন্সীরহাট এবং মতলব উত্তর উপজেলার আমিরাবাদ ও ছেংগারচর মাছবাজার ঘুরে দেখা যায়, হাতে গোনা কয়েকটি ইলিশ নিয়ে বসে আছেন বিক্রেতারা। দাম বেশি হওয়ায় বেচাকেনা কম। অনেক ক্রেতা দাম শুনেই চলে যাচ্ছেন। কেউ কেউ দাঁড়িয়ে শুধু দেখছেন, দরদামও করছেন না। বিক্রি না হওয়ায় বিক্রেতারাও হতাশ। মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদর মাছবাজারের বিক্রেতা পানু দাস বলেন, গতকাল রোববার দুপুরে বেশি দামে কিনে চাঁদপুর থেকে ১১টি মাঝারি আকারের ইলিশ এনেছেন। আজ সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে মাত্র চারটি। বাকিগুলো এখনো বিক্রি হয়নি। অধিকাংশ ক্রেতা দরদাম করেই চলে যাচ্ছেন। তাঁর কাছে থাকা সাতটি ইলিশ বিক্রি হবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। তিনি জানান, চার দিন ধরে বাজার প্রায় ইলিশশূন্য। পানু দাস বলেন, বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি চার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা এবং ৪০০ থেকে ৪৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। এ দাম স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি। মেঘনায় ইলিশ কম ধরা পড়ায় বাজারেও সংকট। বাজারে আসা গৃহবধূ ফেরদৌসী বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার দুই মাসে বাজারে ইলিশ দেখি নাই। ভাবছিলাম, নিষেধাজ্ঞার পর ইলিশ আইব। কম দামে কিনতেও পারুম। গত দুই দিন ধইরা ইলিশ কিনতে বাজারে আইতাছি। দুই-একটা ইলিশের দেখা মিললেও দামে মিলতাছে না। ইলিশের দামে আগুন লাগছে, কিনুম ক্যামনে। ইলিশ এখন ধনীগো মাছ।’ মতলব উত্তর উপজেলার এখলাশপুর এলাকার জেলে গোলাম হোসেন বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা শেষ অওনে খুশি হইছিলাম। গত তিন দিন ধইরা মেঘনায় জাল ফালাইতাছি। ইলিশ উঠতেছে না। হারা রাইত ট্রলারের তেল পোড়াইয়া পাওয়া যায় চার থেকে পাঁচটা ইলিশ। হেগুলি বেইচ্চা তেলের দামই উডে না। সংসারও চলতাছে না। খুব হতাশ লাগতাছে।’ মতলব উত্তর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস বলেন, মেঘনায় পানির চাপ এখনো তেমন বাড়েনি, তাই ইলিশ কম ধরা পড়ছে। সামনে অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় পানির চাপ বাড়লে জালে এবং বাজারে প্রত্যাশিত ইলিশ পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Published: প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ১০: ২৫

Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/8c1ogv5od6

Rate This Content

0.0/5 | 0 ratings
Not rated yet
5
0
4
0
3
0
2
0
1
0

Comments Section

Comments

0 Comments

Processing your comment...

Share Your Thoughts
Replying to
Preview
0 /2000
Pick an emoji
😀 😃 😄 😁 😅 😂 🤣 😊 😇 🙂 😉 😌 😍 🥰 😘 😗 😙 😚 🤗 🤩 🤔 🤨 😐 😑 😶 🙄 😏 😣 😥 😮 🤐 😯 😪 😫 😴 😌 😛 😜 😝 🤤 😒 😓 😔 😕 🙃 🤑 😲 ☹️ 🙁 😖 😞 😟 😤 😢 😭 😦 😧 😨 😩 🤯 😬 😰 😱 🥵 🥶 😳 🤪 😵 🥴 😠 😡 🤬 👍 👎 👌 ✌️ 🤞 🤟 🤘 🤙 👈 👉 👆 👇 ☝️ 🤚 🖐 🖖 👋 🤙 💪 🙏 ✍️ 💅 🤳 💃 🕺 👯 🧘 🏃 🚶 🧍 🧎 💻 📱 ⌨️ 🖱 🖥 💾 💿 📀 🎮 🎯 🎲 🎰 🎳 🎪 🎨 🎬 🎤 🎧 🎼 🎹 🥁 🎷 🎺 🎸 🎻 🎭 🎪 🎨 🎬 🎤 🎧 🎼 🎹 🥁 💕 ❤️ 💔 💖 💗 💓 💞 💝 💘 ❣️ 💟 🔥 💫 🌟 💥 💯 🎉 🎊 🎈 🎁 🏆 🥇 🥈 🥉 🏅 🎖
No comments yet

Be the first to share your thoughts!