এবার বিশ্ব নৃত্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ঐক্য, সৃজনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তি’। শিল্পকলা একাডেমি ছাড়াও বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা ও নৃত্যশিল্পী ফাউন্ডেশনও দিবসটি উপলক্ষে পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
নাচের ছন্দে, গানের সুরে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশ। বুধবার, ২৯ এপ্রিল বিশ্ব নৃত্য দিবস। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার থেকে শিল্পকলা একাডেমির সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগের আয়োজনে জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে শুরু হয়েছে দুই দিনের নৃত্যানুষ্ঠান। এই আয়োজনে দেশের এক শটির বেশি নৃত্য সংগঠনের ছয় শতাধিক শিল্পী অংশ নিচ্ছেন। এবার বিশ্ব নৃত্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ঐক্য, সৃজনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তি’। শিল্পকলা একাডেমি ছাড়াও বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা ও নৃত্যশিল্পী ফাউন্ডেশনও বিশ্ব নৃত্য দিবস উপলক্ষে পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটায় একাডেমির নৃত্যশালা ভবনের সামনে থেকে নৃত্যশিল্পীদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে শিল্পকলা একাডেমির দুই দিনের নৃত্যানুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক (তথ্য সম্প্রচার ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়) উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। মুখ্য আলোচক ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্য গবেষক ও নৃত্য পরিচালক আমানুল হক। সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিসচিব কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন। ধন্যবাদ জানান একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন। প্রধান অতিথি জাহেদুর রহমান বলেন, নাচের সাংস্কৃতিক গুরুত্বের পাশাপাশি শারীরিক উপযোগিতাও রয়েছে। এখন শিশুরা অধিকাংশ সময় পড়ালেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এসব নিয়ে শারীরিকভাবে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় জীবন যাপন করে। এতে তাদের নানা রকমের শারীরিক সমস্যায় ভুগতে দেখা যায়। নাচের চর্চার প্রসার ঘটলে তাদের জন্য এটি স্বাস্থ্যকর হতে পারে। মুখ্য আলোচক আমানুল হক আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে সাধারণত নৃত্য দিবস তেমন বড় পরিসরে পালন করা হয় না। শিল্পকলা একাডেমির এই উদ্যাপন ভালো লাগছে। এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীরা সমবেত নৃত্য ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’ দিয়ে শুরু হয়েছিল প্রথম দিনের নৃত্য পরিবেশনার পালা। নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন ফিফা চাকমা। এরপর বেনজির সালামের পরিচালনায় ‘একি অপরূপ রূপে মা তোমায়...’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন নৃত্যছন্দের শিল্পীরা। কবিরুল ইসলাম রতনের পরিচালনায় নৃত্য ‘মোরা ঝঞ্ঝার মতো’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যালোক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। আরিফ হোসেনের নির্দেশনায় ‘মাস্তকালান্দার’ ও ‘মন আমার দেহঘড়ি’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন সাত্ত্বিক শিল্পাশ্রমের শিল্পীরা। ‘তোমায় আমি পাইতে পারি’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন নৃত্যায়তনের শিল্পীরা, নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন নাজমুল হক। সমসাময়িক নৃত্য ‘চেঞ্জিং ড্রিমস’ পরিবেশন করে সাধনা, নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন সাব্বির আহমেদ খান। সাইফুল ইসলামের পরিচালনায় ‘এসো প্রিয় মন রাঙায়ে’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে ছান্দসিক। মুনমুন আহমেদের পরিচালনায় ‘জাপানি ও রাশিয়ান লোকনৃত্য’ পরিবেশন করেন রেওয়াজ পারফরমারস স্কুলের শিল্পীরা। প্রথম দিন আরও নৃত্য পরিবেশন করে নূপুরধ্বনি, গুরুকুল কালচারাল সেন্টার, কাথ্যাকিয়া দ্য সেন্টার অব আর্টস, অঞ্জলি নৃত্যাঙ্গন একাডেমি, নৃত্যকল্প, আকৃতি নৃত্যদল, কালারস অব হিল, ঝংকার ললিতকলা একাডেমি, ধ্রুপদি নৃত্যালয়, নাইম খান ড্যান্স কোম্পানি, নান্দনিক নৃত্য সংগঠন, জিনিয়া নৃত্যকলা একাডেমি, ভঙ্গিমা ড্যান্স থিয়েটার, দেব ড্যান্স একাডেমিসহ বিভিন্ন নৃত্য সংগঠনের শিল্পীরা। আজকের অনুষ্ঠান: আজ বুধবার সমাপনী দিনের অনুষ্ঠান শুরু হবে বিকেল ৫টায়। প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সমাপনী দিনে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ২৩টি দলের শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করবেন।Published: প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৬: ৪৩
Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/capital/mtp1iv7pj9
Comments Section
Comments
Processing your comment...
Share Your Thoughts
No comments yet
Be the first to share your thoughts!