
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মিরপুরের হকারদের ডিজিটাল পরিচয়পত্র দিয়ে নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তর কার্যক্রম শুরু করেছে।
রাজধানীর মিরপুরের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এলাকায় ব্যবসা করা ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের (হকার) নিয়মের আওতায় আনতে ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেওয়া শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। প্রথম ধাপে আজ ২০২ জন হকারকে এ পরিচয়পত্র দেওয়া হয়। এ সময় ফুটপাত ও সড়ক ছেড়ে হকারদের নিজ দায়িত্বে দ্রুত নির্ধারিত স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ডিএনসিসির নগর ভবনে পরিচয়পত্র হস্তান্তর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। প্রথম পর্যায়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকার ১০২ জন হকার এবং মিরপুর-১ ও ২ নম্বর মূল সড়ক এলাকার ১০০ জন হকারকে পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর-১০ নম্বরের পরিচয়পত্র পাওয়া হকারদের মিরপুর-১৩ নম্বর সেকশনের ওয়াসা রোডে এবং মিরপুর-১ ও ২ নম্বরের ১০০ জনকে গাবতলী কাঁচা বাজারসংলগ্ন খালি জায়গায় স্থানান্তর করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, হকারদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের মতামতের ভিত্তিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁরা নিজেরাও অবৈধভাবে ব্যবসা করতে চান না। তাই পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় তালিকা প্রস্তুত করে পর্যায়ক্রমে স্থানান্তর করা হচ্ছে। প্রশাসক আরও বলেন, স্থানান্তরের জন্য স্বল্প সময় দেওয়া হবে। যাঁরা পরিচয়পত্র পেয়েছেন, তাঁরা নির্ধারিত সময়ের পর কেউ আর পুরোনো স্থানে ব্যবসা করতে পারবেন না। করলে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। প্রশাসক জানান, হকার পুনর্বাসনের জন্য আগে ছয়টি মাঠ প্রস্তাব করা হলেও সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সেগুলো শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। এ কারণে মাঠগুলো পুনর্বাসনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে হকারদের জন্য পৃথক ‘হকার্স মার্কেট’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রশাসক। অনুষ্ঠানে হকারদের নির্ধারিত স্থানের বাইরে ব্যবসা না করা এবং কোনো স্থায়ী কাঠামো নির্মাণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। স্থানান্তর কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। যেখানে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের পাশ���পাশি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রতিনিধিরাও থাকবেন। তবে প্রশাসকের বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানে আসা হকাররা স্থানান্তর হতে চান না জানিয়ে হট্টগোল করেন। এ সময় ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের নেতা ও প্রতিনিধিরা অন্যদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। শেষে হকাররা দাবি জানান, তাঁরা ঈদ পর্যন্ত আগের জায়গায় ব্যবসা চালিয়ে যেতে চান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান। ডিএনসিসির তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর এলাকায় তালিকাভুক্ত হকারের সংখ্যা ৮২৯। পর্যায়ক্রমে সবাইকে ডিজিটাল পরিচয়পত্র দিয়ে নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তর করা হবে বলেও জানানো হয়।Published: প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬: ৩১
Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/capital/28yiw22o99
Comments Section
Comments
Processing your comment...
Share Your Thoughts
No comments yet
Be the first to share your thoughts!