
পদত্যাগকারী শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রশাসনের অর্পিত বিভিন্ন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে অসৌজন্যমূলক আচরণ, অযৌক্তিক চাপ ও হুমকি-ধামকির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তারা। #পদত্যাগ #শিক্ষক
কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টরিয়াল বডি, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট ও হাউস টিউটরসহ শিক্ষকদের একটি বড় অংশ তাদের অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে একযোগে পদত্যাগ করেছেন। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, হলের প্রভোস্ট, হাউস টিউটর এবং সহকারী প্রক্টরসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্তরা রয়েছেন। নজিরবিহীন এই গণ-পদত্যাগের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, পদত্যাগকারী শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রশাসনের অর্পিত বিভিন্ন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে অসৌজন্যমূলক আচরণ, অযৌক্তিক চাপ ও হুমকি-ধামকির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তারা। এই মানসিক ক্ষোভ ও উদ্বেগের কারণেই তারা একযোগে দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। পদত্যাগকারী শিক্ষকদের তালিকায় রয়েছেন— ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী প্রক্টর মো. রাকিবুল আলম, সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান মো. সাবাব জুলফিকার, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা তনুজা ইয়াসমিন, ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট মাজহারুল হক জুবায়েদ ও রোকসানা পারভীন, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান আসমা আক্তার সুমি এবং গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবীর। পদত্যাগকারী অন্য শিক্ষকরা হলেন— সহকারী প্রক্টর মো. সোহানুল ইসলাম, আতিয়া ফাইরুজ ও মো. মসীহ ইবনে ইয়াছিন আদন; হাউস টিউটর মো. সাইফুল ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান, সুরাইয়া খানম মীম ও ওয়াহিদ কায়সার; লাইব্রেরি ইনচার্জ তাসনিম সুলতানা ডেইজি, ক্রীড়া প্রশাসক মো. এবাদুর রহমান ও পিয়ালী দেব মিতি, গার্ল ইন রোভার লিডার মোছা. ছামিরা খাতুন, রোভার লিডার মো. হারুন অর রশিদ এবং হাউস টিউটর মৃনাল কান্তি দাস। দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. রাকিবুল আলম তার বার্তায় জানান, ‘আজ থেকে আমি সহকারী প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ও চেয়ারম্যানের দায়িত্বে নেই। কিছু কারণে এই দায়িত্বগুলো থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। তবে শিক্ষক হিসেবে সবসময়ই শিক্ষার্থীদের পাশে থাকব।’ একই সুরে তনুজা ইয়াসমিন ও মাজহারুল হক জুবায়েদসহ অন্যান্য শিক্ষকরাও শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার নায়লা ইয়াসমিন পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘শিক্ষকরা তাদের মানসিক ক্ষোভ ও উদ্বেগের বিষয়টি লিখিতভাবে তুলে ধরে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। বিষয়টি ইতোমধ্যে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারারকে অবহিত করা হয়েছে। নানা অসন্তোষ ও ক্ষোভের কারণে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের একটি বড় অংশ আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আগামী কর্মদিবসে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলার পর স্পষ্ট জানা যাবে।’ উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দিলীপ কুমার বড়ুয়া জানান, ‘বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একযোগে এত সংখ্যক শিক্ষকের পদত্যাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় ধরনের প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি করেছে। দ্রুত এই সংকটের সমাধান না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে। #পদত্যাগ #শিক্ষকPublished: 27/04/2026 10:52 am
Comments Section
Comments
Processing your comment...
Share Your Thoughts
No comments yet
Be the first to share your thoughts!