কাঁচা আম পাড়ায় তিন শিশুকে বেত্রাঘাত ও জুতার মালা পরানোর অভিযোগ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
Published on
1 views
1 impressions

শিক্ষার্থীদের গলায় জুতার মালা ঝুলিয়ে এবং ‘আমচোর’ লেখা কাগজ পরিয়ে শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে।

বগুড়ার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছ থেকে কাঁচা আম পেড়ে খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিন শিশুশিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করা হয়েছে। এরপর তাদের গলায় জুতার মালা ঝুলিয়ে এবং ‘আমচোর’ লেখা কাগজ পরিয়ে শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার বগু়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। বগুড়া সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে গঠিত এ কমিটিকে আগামীকাল বুধবারের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বগুড়া সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম কবীর আজ মঙ্গলবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, ২৮ এপ্রিল বগুড়া সদর উপজেলার বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে থাকা একটি আমগাছ থেকে কয়েকজন শিশুশিক্ষার্থী আম পেড়ে খায়। পরদিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোল সাহানারা বেগম চতুর্থ শ্রেণির দুজন এবং পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে অফিসকক্ষে ডেকে এনে বেত্রাঘাত করেন। এরপর তিন শিক্ষার্থীর গলায় জুতার মালা ও ‘আমচোর’ লেখা কাগজ ঝুলিয়ে দেন। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। জুতার মালা বানানো থেকে শুরু করে তা শিক্ষার্থীদের গলায় পরানোর কাজে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকেরাও প্রধান শিক্ষককে সহযোগিতা করেন। গোলাম কবীর বলেন, ৩ মে অভিভাবকদের মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পেরে প্রধান শিক্ষক গোল সাহানারা বেগমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। গতকাল পর্যন্ত তিনি কোনো জবাব দেননি। আজকের মধ্যে নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পেলে বিধিগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে গতকাল এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হ়। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজোয়ান হোসেন বগুড়া সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে গঠিত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেন। আজ সকালে তদন্ত কমিটি বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং অভিযুক্ত শিক্ষকদের বক্তব্য শোনেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, আগামীকাল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। দোষী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও সুপারিশ করা হবে। আজ সকাল ১০টায় বুজর্গধামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যায়। তাঁরা জানান, প্রধান শিক্ষক গোল সাহানারা বেগম অন্য শিক্ষকদের সহযোগিতায় তিন শিক্ষার্থীকে অফিসকক্ষে ডেকে এনে বেত্রাঘাত করেন। এরপর তাদের গলায় জুতার মালা ও ‘আমি আমচোর’ লেখা কাগজ ঝুলিয়ে বিদ্যালয় চত্বরে ঘোরানো হয়। একই সঙ্গে অন্য শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে বলা হয়, ভবিষ্যতে এমন কাজ করলে তাদেরও শাস্তি দেওয়া হবে। স্থানীয় অভিভাবক আবু সালেহ বলেন, বিষয়টি জানাজানি হলে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তোপের মুখে পড়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা চান প্রধান শিক্ষিক। তবে জড়িত সব শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অধিকাংশ অভিভাবক। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে গেলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক গোল সাহানারা বেগমকে পাওয়া যায়নি। অন্য শিক্ষকেরা জানান, তিনি ছুটিতে আছেন। একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। তিন শিক্ষার্থীকে জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানোর বিষয়ে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকের কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাঁদের ভাষ্য, যা বলার, তদন্ত কমিটির কাছেই বলবেন।

Published: প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ০৬: ৫৭

Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/6tg0ne4br2

Rate This Content

0.0/5 | 0 ratings
Not rated yet
5
0
4
0
3
0
2
0
1
0

Comments Section

Comments

0 Comments

Processing your comment...

Share Your Thoughts
Replying to
Preview
0 /2000
Pick an emoji
😀 😃 😄 😁 😅 😂 🤣 😊 😇 🙂 😉 😌 😍 🥰 😘 😗 😙 😚 🤗 🤩 🤔 🤨 😐 😑 😶 🙄 😏 😣 😥 😮 🤐 😯 😪 😫 😴 😌 😛 😜 😝 🤤 😒 😓 😔 😕 🙃 🤑 😲 ☹️ 🙁 😖 😞 😟 😤 😢 😭 😦 😧 😨 😩 🤯 😬 😰 😱 🥵 🥶 😳 🤪 😵 🥴 😠 😡 🤬 👍 👎 👌 ✌️ 🤞 🤟 🤘 🤙 👈 👉 👆 👇 ☝️ 🤚 🖐 🖖 👋 🤙 💪 🙏 ✍️ 💅 🤳 💃 🕺 👯 🧘 🏃 🚶 🧍 🧎 💻 📱 ⌨️ 🖱 🖥 💾 💿 📀 🎮 🎯 🎲 🎰 🎳 🎪 🎨 🎬 🎤 🎧 🎼 🎹 🥁 🎷 🎺 🎸 🎻 🎭 🎪 🎨 🎬 🎤 🎧 🎼 🎹 🥁 💕 ❤️ 💔 💖 💗 💓 💞 💝 💘 ❣️ 💟 🔥 💫 🌟 💥 💯 🎉 🎊 🎈 🎁 🏆 🥇 🥈 🥉 🏅 🎖
No comments yet

Be the first to share your thoughts!