প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুর জন্য ওষুধের ব্যবস্থা করতে হবে। বেকার যুবকের কর্মসংস্থান করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, ইতিহাস নিয়ে অনেক বিতর্ক করা যাবে। কিন্তু এ বিতর্ক হামের শিকার বাচ্চার মায়ের মন শান্ত করতে পারবে না, বেকারের কর্মসংস্থান করে দিতে পারবে না। তিনি বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুর জন্য ওষুধের ব্যবস্থা করতে হবে। বেকার যুবকের কর্মসংস্থান করতে হবে। বৃহস্পতিবার রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন। ১২ মার্চ শুরু হওয়া ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বৃহস্পতিবার শেষ হয়। এই অধিবেশনে মোট কার্যদিবস ছিল ২৫ টি। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য ও অধিবেশনের সমাপনী ভাষণ একসঙ্গে দেন সংসদ নেতা তারেক রহমান। সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন, আগামী অধিবেশনে আলোচনা করব, কত দ্রুত দেশের বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করতে পারি। আলাপ করতে চাই, কত দ্রুত কত বেশি সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান করতে পারি। কত দ্রুত শিক্ষা ও চিকিৎসা পৌঁছে দিতে পারি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি, আমাদের আলোচনার বিষয় হবে এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। আলোচনার বিষয়বস্তু হবে, আমরা অন্য দেশ���র উদাহরণ দেব না বরং আমরা আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’ গণতন্ত্র যখনই বাধাগ্রস্ত হয়েছে তখনই দেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ যতটা রাজনৈতিক বিতর্ক দেখতে চায়, তার চেয়ে বেশি তার নিজের সমস্যার সমাধান চায়। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, খাল খনন কর্মসূচি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এর আগে বিএনপি দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নারীদের বিনা মূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিল। এবার স্নাতক পর্যন্ত বিনা মূল্যে করা হবে। সেই সঙ্গে যারা ভালো ফল করবে তাদের উপবৃত্তি দেওয়া হবে। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এটা বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে। এর রিটার্ন আসবে। এই উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণ মাথায় নিয়ে এই সংসদ দেশ পরিচালনা শুরু করেছে, সেই দেশকে আমরা এগিয়ে নিতে পারব না; যদি আমরা একটি স্থিতিশীল সরকার না রাখি।’ যুক্তরাজ্যে থাকার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘সেখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেখে মনে হয়েছে, আমার দেশের স্কুলগুলো কেন এমন হতে পারে না? সেখানকার শিক্ষার্থীদের দেখে মনে হতো আমার দেশের প্রাইমারি স্কুলের শিশুরা কবে এভাবে স্কুলে যাবে। সেই বিবেচনায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পর্যায়ক্রমে স্কুল ব্যাগ, স্কুল ড্রেস ও জুতা সরবরাহ করব।’ শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতার উদ্বেগের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে আমি চাই আমার দেশের সন্তানেরা একটি সুন্দর পরিবেশে লেখাপড়া করুক।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার কারণে বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি সমস্যা তৈরি হয়েছে। যার তাপ বাংলাদেশে এসেও লেগেছে। এ জন্য বাংলাদেশের মানুষ কিছুদিন কষ্টও পেয়েছে। সেদিন বিরোধী দলের পক্ষ থেকে একসঙ্গে বসে সুরাহা বের করার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এ ব্যাপারে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার, যাতে দেশের মানুষ স্বস্তিতে থাকতে পারেন। এ বিষয়ে যৌথভাবে কমিটি গঠন করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা আজও এই সমস্যার (শিক্ষাঙ্গনের) সমাধানও উভয় পক্ষ এক সাথে বসে নিশ্চয় বের করতে সক্ষম হব।’ প্রধানমন��ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ছিল মানুষ মুক্তভাবে কথা বলতে পারবে। নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারবে। তাদের প্রত্যাশা ছিল যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকার গঠনের পরে কৃষক ভাইয়ের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। আমরা কৃষক কার্ড দেওয়া শুরু করেছি। আমরা সব ধরনের কৃষকদের কাছে পৌঁছাতে চাই।’ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১১০টি অধ্যাদেশ প্রথম অধিবেশনে অনুমোদন করা হয়। ৭টি অধ্যাদেশ বাতিল করে আর ১৬টি অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ে অনুমোদন বা অননুমোদন কিছুই করা হয়নি। ফলে এগুলো কার্যকারিতা হারায়। অধ্যাদেশ অনুমোদন ও রহিতকরণ সংক্রান্ত মোট ৯১টি বিল সংসদে পাস হয়। এ ছাড়া এ অধিবেশনে আরও তিনটি বিল পাস হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করে প্রথম অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এর আগে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর পর জনগণের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার পর এই অধিবেশন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল। সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে যে সহমর্মিতা ও সহযোগিতা তিনি এই অধিবেশনে দেখেছেন, অতীতের কোনো সংসদে তেমন দৃশ্য দেখেননি। স্পিকার বলেন, ‘আমাদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ হলো সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করা, দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।’ তিনি মতের ভিন্নতা থাকলেও দেশের স্বার্থকে সবার ওপরে স্থান দেওয়ার আহ্বান জানান।Published: প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭: ৫৮
Comments Section
Comments
Processing your comment...
Share Your Thoughts
No comments yet
Be the first to share your thoughts!