
ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে দেশটিতে ‘স্বল্পমেয়াদি কিন্তু শক্তিশালী’ একগুচ্ছ হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
ওয়াশিংটন যখন তেহরানের সঙ্গে তার পারমাণবিক কর্মসূচি ও গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিবাদে জড়িয়েছে, তখন এমন পরিকল্পনার খবর সামনে আনল সংবাদমাধ্যম এক্সিওস।
বিবিসি বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, এ পরিকল্পনা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে একটি ‘উচ্চমানের প্রভাবশালী বিকল্প’ হিসেবে পেশ করা হয়েছে, যা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের চেয়ে কিছুটা সীমিত।
ট্রাম্প এখনো এই পরিকল্পনার অনুমোদন দেননি, বরং তিনি ইরানের বিরুদ্ধে চলা নৌ-অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। ট্রাম্প জনসমক্ষে একে ‘বোমার চেয়েও কার্যকর’ বলে উল্লেখ করেছেন।
পরিকল্পনায় যা আছে
এক্সিওস ও বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, সেন্টকমের এ পরিকল্পনায় ইরানের তেল রপ্তানি স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি, কমান্ড সেন্টার ও আঞ্চ���িক মিলিশিয়া নেটওয়ার্কের মতো অবকাঠামোগুলো লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য হলো—দীর্ঘদিন ধরে বোমাবর্ষণ না করে দ্রুত বড় ধরনের ক্ষতি করা, যাতে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়।
আরেকটি পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালির কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যার জন্য স্থল অভিযানের প্রয়োজন হতে পারে।
অবরোধ নাকি কূটনীতি
শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার পর এবং হরমুজ প্রণালি আংশিক খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের তিন স্তরের শান্তি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করার পর এই হামলার পরিকল্পনাটি সামনে এনেছে সেন্টকম। ট্রাম্প এখনো নৌ-অবরোধের ওপরই ভরসা রাখলেও কূটনীতি পুরোপুরি ব্যর্থ হলে যেকোনো সময় সামরিক আঘাত হানার পথ খোলা রেখেছেন।
হাইপারসনিক মিসাইল মোতায়েন
ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, সেন্টকম ইরানে হামলায় ব্যবহারের উদ্দেশ্যে পেন্টাগনের কাছে মধ্যপ্রাচ্যে সেনাবাহিনীর ‘ডার্ক ঈগল’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছে। এটি মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রথম মোতায়েনযোগ্য হাইপারসনিক অস্ত্র, যা শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি গতিতে ১ হাজার ৭২৫ মাইলের বেশি দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম।
এই ক্ষেপণাস্ত্রটি মাটির গভীরে থাকা বাংকার বা ভ্রাম্যমাণ মিসাইল লঞ্চারের মতো অত্যন্ত সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে বিশেষভাবে তৈরি।
সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এ ‘স্বল্পমেয়াদি ও শক্তিশালী’ হামলার রূপরেখাটি তুলে ধরেন।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এ পরিকল্পনা থাকার অর্থ এ নয় যে হামলা আসন্ন, বরং এটি তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আলোচনার টেবিলে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের একটি কৌশল।
তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের ‘লজ্জাজনক ব্যর্থতার’ পরিপ্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালিতে এক ‘নতুন অধ্যায়ের’ সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এ মন্তব্য করেন।
মোজতবা খামেনির এই বিবৃতি ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোত প্রচারিত হয়েছে। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রচারণা ও আগ্রাসনের দুই মাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় লজ্জাজনক ব্যর্থতার পর পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।’
এই বিবৃতি ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইআরএনএ পোস্ট করে জাতীয় পারস্য উপসাগর দিবসের স্মরণে। ১৬২২ সালে পর্তুগিজ বাহিনীকে হরমুজ প্রণালি থেকে উৎখাত করার ঘটনা এই দিনে উদযাপন করা হয়।
সূত্র: আল–জাজিরা।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেছেন, ইরান তার পারমাণবিক এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা রক্ষা করবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এগুলো ধ্বংস করতে চান। ট্রাম্পের ওই ইচ্ছার প্রতি তেহরানের এটা স্পষ্ট প্রতিবাদ।
মোজতবা খামেনি বলেন, ইরানিরা দেশের পারমাণবিক এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে তাদের জাতীয় পুঁজি হিসেবে দেখে। ভূমি, নৌ ও আকাশ সীমান্তের মতোই পারমাণবিক এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকেও রক্ষা করবে ইরান।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে।
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর দাবি, ইসরায়েলি ‘হার্মিস ৪৫০জেড’ মডেলের ড্রোনটি নাবাতিয়েহ অঞ্���লে ধ্বংস করা হয়েছে।
এদিকে, গতকাল বুধবার দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর পাঁচ যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। এর আগে গতকালই মাজদাল জউন শহরে ইসরায়েলের টানা দুটি হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন। এ নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন উদ্ধারকর্মী ও একজন লেবানিজ সেনাসদস্য রয়েছেন।
চলতি এপ্রিলের মাঝামাঝি ঘোষিত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েল ক্রমাগত দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৫৩৪ জন নিহত ও ৭ হাজার ৮৬৩ জন আহত হয়েছেন।
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা
রেকর্ডসংখ্যক দিন দায়িত্ব পালন শেষে দেশে ফিরছে বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’। ৩০০ দিনের বেশি সময় ধরে চলা এ অভিযানে রণতরিটির অন্যতম প্রধান কাজ ছিল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলা মাদুরোকে গ্রেপ্তারে অংশ নেওয়া।
গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের দুজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তারা জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়বে ইউএসএস ফোর্ড। মে মাসের মাঝামাঝি এটি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় অবস্থিত নিজস্ব বন্দরে পৌঁছাবে।
প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট প্রথম এই খবরটি প্রকাশ করে।
গত সপ্তাহে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ পৌঁছানোর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে তিনটি মার্কিন রণতরি অবস্থান করছে। ইরান যুদ্ধের একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি চলাকালে ২০০৩ সালের পর এ প্রথম একসঙ্গে তিনটি মার্কিন রণতরি মোতায়েন করা হলো। এর আগে জানুয়ারি থেকে তেহরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনও এ অঞ্চলে অবস্থান করছে।
গত বছরের জুনে নরফোক নেভাল স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করার পর ইউএসএস ফোর্ড প্রায় ১০ মাস সমুদ্রে অবস্থান করছে। এর মাধ্যমে এটি ভিয়েতনাম যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘতম সময় মোতায়েন থাকা রণতরির নতুন রেকর্ড গড়েছে।
ইউএস নেভাল ইনস্টিটিউট নিউজ-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ৫০ বছরে কোনো মার্কিন রণতরির এটিই দীর্ঘতম অভিযান। এর আগে ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় ইউএসএস লিংকন টানা ২৯৪ দিন সমুদ্রে অবস্থান করে আগের রেকর্ডটি গড়েছিল। ইউএসএস ফোর্ড সমুদ্রের বুকে ২৯৫তম দিন পার করার মাধ্যমে সেই রেকর্ড ভেঙে দেয়।
তথ্যসূত্র: এপি
জার্মানিতে মোতায়েন করা মার্কিন সেনাসংখ্যা কমিয়ে আনার চিন্তাভাবনা করছেন প��রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান যুদ্ধ নিয়ে দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎ৴সের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে এ ইঙ্গিত দিলেন তিনি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তাঁর প্রশাসন জার্মানিতে সেনা কমানোর বিষয়টি নিয়ে ‘পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা’ করছে। এ বিষয়ে খুব দ্রুতই একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সম্প্রতি জার্মান চ্যান্সেলর মন্তব্য করেন, ইরানি নেতৃত্বের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপমানিত’ হচ্ছে। তাঁর এ মন্তব্যের পর ট্রাম্প ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান ও মার্কিন সেনা কমানোর বার্তা দেন।
এ ছাড়া ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে জার্মানি ও ন্যাটোর অন্যান্য মিত্রদেশের ভূমিকা নিয়ে বারবার সমালোচনা করে আসছেন ট্রাম্প। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি আবার সচল করতে নৌবাহিনী মোতায়েন না করায় মিত্রদের ওপর ক্ষুব্ধ তিনি।
বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করা মার্কিন সেনাদের জন্য জার্মানি অন্যতম বড় ঘাঁটি। দেশটিতে প্রায় ৩৩ হাজার ৯০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় বাতুলিয়া শহরের একটি পানি শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
লেবাননের রাষ্ট্���ীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির (এনএনএ) বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অঞ্চলে এখনো যেসব বাসিন্দা অবস্থান করছেন, তাঁদের পানির চাহিদা মেটানোর একমাত্র উৎস ছিল এ শোধনাগারটি।
এনএনএ আরও জানিয়েছে, এ হামলার পাশাপাশি আল-বাইয়াদ এলাকায় একটি পর্যটন রিসোর্টও উড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ইরানের প্রায় ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল সম্পদ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এ দাবি করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’র প্রভাবে তেহরান সরকার এখন ‘সংকটে’র মুখে পড়েছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ‘আমরা প্রায় ৩৫ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ (ইরানের) কবজায় নিতে পেরেছি। এর আগে আরও ১০ কোটি ডলার জব্দ করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ কোটি ডলারের কাছাকাছি সম্পদ আমাদের নিয়ন্ত্রণে। এ ছাড়া আমরা বিভিন্ন স্থানে ইরানি ব্যাংক হিসাবগুলোও জব্দ করছি।’
মার্কিন অর্থমন্ত্রী আরও জানান, গত বছরের মার্চ মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রায় তিন সপ্তাহ আগে তিনি ইরানের ওপর ‘চাপ আরও বাড়ানোর’ জন���য আবার আদেশ দেন।
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে এখন বিদেশি সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ প্রসঙ্গে বেসেন্ট বলেন, ‘আমরা ইরানি তেলের ক্রেতাদের জানিয়ে দিয়েছি যে, কোনো দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক যদি ইরানি তেলের লেনদেন করে, তবে আমরা তাদের বিরুদ্ধেও ‘‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’’ আরোপ করব।’
বেসেন্ট মনে করেন, এ অর্থনৈতিক অভিযান এবং ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ দেশটির অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি বয়ে আনবে।
অবশ্য আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এ অভিযানকে উপহাস করে বলেছে, এর ফলে উল্টো তেলের দাম আরও বাড়বে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মার্কিন অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘অসার’ বা ‘আবর্জনা’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ল��বাননের সঙ্গে কোনো যুদ্ধবিরতি চলছে না বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ইয়াল জামির। দেশটিতে ইসরায়েলের হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত থাকার মধ্যেই তিনি এ কথা বললেন।
দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন ইসরায়েলি সেনাদল পরিদর্শনে গিয়ে ইয়াল জামির বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতৃত্ব আমাদের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে তা হলো, এমন একটি অবস্থানে থাকা যেন (ইসরায়েলি) জনপদগুলোতে সরাসরি কোনো হামলা না হয়। আমরা সেই লক্ষ্যে পৌঁছেছি এবং বর্তমানে এ অবস্থানেই আছি। আমাদের হয়তো এখানেই অবস্থান করতে হবে।’
সেনাদের উদ্দেশে ইয়াল জামির আরও বলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই। আপনাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। উত্তর ইসরায়েলের জনপদগুলো থেকে সরাসরি ও পরোক্ষ হুমকি দূর করতে হবে। ‘‘সন্ত্রাসীদের’’ অবকাঠামো ধ্বংস ও তাঁদের খুঁজে বের করে নির্মূল করতে হবে।’
গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ২ হাজার ২৯০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া দেশজুড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১২ লাখ মানুষ।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ সত্ত্বেও দেশটির জ্বালানি সরবরাহ বা বিতরণে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে দাবি করেছেন ইরানের তেলমন্ত্রী মহসিন পাকনেজাদ। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।
তেলমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের বিঘ্ন এড়াতে তেল খাতের কর্মীরা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছেন।
গত ১৩ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এ মার্কিন অবরোধের ফলে ইরানে তেল মজুতের সক্ষমতা ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মজুত সংকটে ইরান শেষ পর্যন্ত তেল উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হতে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক ত্যাগের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এ পদক্ষেপকে ‘চমৎকার’ হিসেবে আখ্যায়িত এবং এর ফলে তেলের বাজার স্থিতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, আমিরাতের এ সিদ্ধান্তের ফলে তা কমতে পারে। এর প্রভাবে জ্বালানি তেল ও পেট্রলের (গ্যাসোলিন) দামও কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, শেষ পর্যন্ত এটি পেট্রল ও তেলের দাম কমানোর জন্য ভালো একটি উদ্যোগ হবে। সবকিছুই এর মাধ্যমে সস্তায় পাওয়া সম্ভব হবে।’
উল্লেখ্য, আরব আমিরাত হঠাৎ করেই ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ওই ঘোষণা দিয়েছে। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতিতে এটি বড় ঘটনা। ১৯৭১ সালে জাতিরাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের আগে থেকেই তারা ওপেকের সদস্য ছিল।
উপসাগরীয় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর এই সংগঠন কয়েক দশক ধরে উৎপাদন বাড়ানো-কমানো এবং সদস্যদের জন্য কোটা নির্ধারণের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করেছে। ১৯৭০-এর দশকের তেলসংকটে ওপেকের ভূমিকার কল্যাণে বৈশ্বিক জ্বালানিনীতি আমূল বদলে যায়।
ওপেকের উৎপাদনে সৌদি আরবের প্রাধান্য থাকলেও অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার দিক থেকে ইউএই ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে। অর্থাৎ বাজারে দাম কমাতে প্রয়োজন হলে উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর সক্ষমতা ছিল তাদের।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বিশেষ করে ইরানের সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে ওয়াশিংটনকে সহায়তা করতে চায় মস্কো।
বুধবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে টেলিফোনে ঘণ্টা দেড়েক কথা হয়। সেখানেই পুতিন এমন আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্প।
ওভাল অফিস থেকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি (পুতিন) সহায়তা করতে চান। কিন্তু আমি বলেছি, আমাকে সহায়তা করার আগে আপনার নিজের যুদ্ধ শেষ করতে হবে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তিনি (পুতিন) আমাকে বলেছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে চলা প্রক্রিয়ায় তিনি যুক্ত হতে চান। এ বিষয়ে তিনি আমাদের সহায়তা করতে পারেন।’
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে তাঁর ‘খুবই ফলপ্রসু’ আলোচনা হয়েছে। ইউক্রেন সংঘাতের একটি সমাধান দ্রুতই আসতে পারে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করা একটি ইরানি কনটেইনারবাহী জাহাজে থাকা ছয়জন ক্রুকে মুক্ত করা হয়েছে। তাঁরা নিরাপদে দেশে ফিরে এসেছেন। গত ২০ এপ্রিল ক্রুসহ ট্যাংকারটি জব্দ করেছিল মার্কিন বাহিনী। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম এসব তথ্য জানিয়েছে।
তবে ‘তউসকা’ নামের কনটেইনারবাহী জাহ��জের আরও ২২ জন ইরানি ক্রু এখনও আটকা রয়েছেন। তাঁদের মুক্তি নিশ্চিত করতে ইরানের কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে তাসনিম।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকম এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলা নৌ অবরোধের মধ্যে হরমুজ প্রণালি থেকে কনটেইনারবাহী জাহাজটিকে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশ না মানায় সেটিকে জব্দ করা হয়।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার দেড় ঘণ্টার এক ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়েছে।
ফোনালাপে পুতিন ও ট্রাম্প ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘাত নিরসনে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।
ক্রেমলিনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী মাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার বার্ষিকী উপলক্ষে পুতিন ইউক্রেনে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও দিয়েছেন।
তথ্যসূত্র: সিএনএন ও আল–জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য জন গারামেন্ডি ইরান যুদ্ধের ‘কৌশলগত দিক’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ইরান যুদ্ধ নিয়ে আজ বুধবার হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শুনানিতে তিনি এই প্রশ্ন তোলেন।
যুদ্ধে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহতের পাশাপাশি শত শত সেনার আহত হওয়া এবং হাজার হাজার বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ করে গারামেন্ডি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই যুদ্ধকে ‘আমেরিকার নিজের ওপর নিজে করা গুরুতর আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি ‘আগে থেকে অনুমেয় ছিল’ উল্লেখ করে হেগসেথকে তিনি বলেন, ‘আপনি এই যুদ্ধ নিয়ে প্রথম দিন থেকেই মার্কিন জনগণকে মিথ্যা বলে আসছেন এবং প্রেসিডেন্টও তা-ই করছেন।’
গারামেন্ডি এই যুদ্ধকৌশলকে ‘চরম অযোগ্যতা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ইরানের সরকার টিকে আছে; দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবস্থা এখনো অক্ষত রয়েছে। উপরন্তু, এই যুদ্ধ চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ইরানের সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করেছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধের ‘চোরাবালিতে’ আটকে গেছেন।
গারামেন্ডির এই বক্তব্যকে ‘বেপরোয়া’ বলে মন্তব্য করেন হেগসেথ। ট্রাম্প ‘চোরাবালিতে�� আটকে আছেন—এমন দাবি অস্বীকার করে তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য আমেরিকার শত্রুদের হাতে প্রচারণার সুযোগ করে দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি আপনার ঘৃণা আপনাকে অন্ধ করে দিয়েছে।’
তথ্যসূত্র: বিবিসি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের দেওয়া প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আজ বুধবার অ্যাক্সিওস-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে তিনি আগে কিছু নিশ্চয়তা চান। তিনি বলেন, ‘তাদের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেন, ‘বোমাবর্ষণের চেয়ে অবরোধ কিছুটা বেশি কার্যকর। তারা শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় আছে। পরিস্থিতি তাদের জন্য আরও খারাপ হবে। তাদের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না।’
অবরোধের কার্যকারিতার প্রশংসা করলেও ট্রাম্প এই সাক্ষাৎকারে সম্ভাব্য কোনো সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তারা (ই��ান) সমঝোতা করতে চায়। তারা চায় না যে আমি অবরোধ বহাল রাখি। আমি (অবরোধ) তুলতে চাই না, কারণ আমি চাই না তাদের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকুক।’
ইরান যুদ্ধের বিরোধিতার কঠোর সমালোচনা করে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনাকারী আইনপ্রণেতাদেরই ‘সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
যুদ্ধ শুরুর পর আজ বুধবার প্রথমবারের মতো কংগ্রেসের শুনানিতে গিয়ে হেগসেথ এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তে যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হচ্ছি, তা হলো ডেমোক্র্যাট ও কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতার বেপরোয়া, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও পরাজয়বাদী কথাবার্তা।’
হেগসেথ আরও বলেন, সংঘাতটি দুই মাস পূর্ণ করার মুহূর্তে এসব সমালোচনা আসছে। তিনি যুক্তি দেন, ইরাক, আফগানিস্তান ও ভিয়েতনাম যুদ্ধের তুলনায় এই যুদ্ধ উল্লেখযোগ্যভাবে সংক্ষিপ্ত।
যুদ্ধের পক্ষে সাফাই গেয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী, ‘আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়ে গর্বিত।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের শীর্ষ আর্থিক কর্মকর্তা জুলস ‘জেই’ হার্স্ট কংগ্রেসের আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।
আজ বুধবার হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটিকে হার্স্ট জানান, এই ব্যয়ের বড় একটি অংশ অস্ত্রশস্ত্রের পেছনে ব্যয় হয়েছে। তবে কিছু খরচ হয়েছে রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জামের জায়গায় নতুন সরঞ্জাম পাঠানোর কাজে।
যুদ্ধের সুনির্দিষ্ট ব্যয় কত, তা নিয়ে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে ধোঁয়াশা ছিল। কংগ্রেস যখন ২০২৭ অর্থবছরের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাব নিয়ে পর্যালোচনা করছে, তখন এটি ক্রমেই একটি রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
হার্স্টের জবাবে কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য ও হাউস প্রতিনিধি অ্যাডাম স্মিথ বলেন, ‘আমি আনন্দিত যে আপনি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। কারণ, আমরা অনেক দিন ধরে এই তথ্যটি চাইছিলাম, কিন্তু কেউ আমাদের সেই সংখ্যাটি জানায়নি।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের পর হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বেড়েছে।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ব্রেন্ট ক্রুড ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৬ দশমিক ৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত এক সপ্তাহ ধরে চলমান ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে আরও দীর্ঘায়িত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ দশমিক ৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় অচলাবস্থার কারণে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মঙ্গলবার রাতের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ অবসানে তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাবে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং হরমুজে ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের প্রস্তুতির জন্য তাঁর সহযোগীদের নির্দেশ দিয়েছেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে ওয়াশিংটন ডিসি সফরের পরিকল্পনা করছেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি বৃহত্তর যুদ্ধবিরতি চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন, তখন এই সফরটি আগামী সপ্তাহে বা তার পরের সপ্তাহে হতে পারে। ট্রাম্প বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ তিন সপ্তাহ বাড়িয়েছিলেন। এর মেয়াদ মে মাসের মাঝামাঝি শেষ হতে যাচ্ছে।
ট্রাম্প অদূর ভবিষ্যতে নেতানিয়াহু ও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক বৈঠক আয়োজনের অভিপ্রায়ের কথা জানিয়েছেন। কয়েক দশক ধরে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।
আউন সম্প্রতি নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরাসরি ফোনালাপ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এ ছাড়া দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আউন ইসরায়েলি নেতার সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে অংশ নিতে আগ্রহী হবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়লেও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা ‘এখনো অব্যাহত রয়েছে’ বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দেওয়া এক পোস্টে শাহবাজ শরিফ বলেছেন, ‘আমাদের ব্যাপক প্রচেষ্টার কারণে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে, যা এখনো চলছে।’
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি রাখা হবে না।’
এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আলোচকেরা ইরানিদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। হোয়াইট হাউসের দাবি, যুদ্ধের মধ্যে ইরান তাদের নেতৃত্বে নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কেবল এমন একটি চুক্তি করবেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা প্রাধান্য পাবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রচ্ছন্ন হুমকির সুরে ইরানকে ‘বুদ্ধিমত্তা দেখানোর’ পরামর্শ দেওয়ার পরই হোয়াইট হাউস থেকে এই বিবৃতি দেওয়া হলো।
ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ থাকার সময়কালে ইরানের সামরিক বাহিনী তাদের লক্ষ্যবস্তুর তথ্যভান্ডার হালনাগাদ ও পুরোপুরি সমৃদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে সামরিক সরঞ্জামের মানোন্নয়ন করেছে।
ইরান পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতির মধ্যে অবস্থায় রয়েছে জানিয়ে মঙ্গলবার এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেন, সেনাবাহিনী এই যুদ্ধকে শেষ বলে মনে করছে না।
ব্রিগেডিয়ার আকরামিনিয়া বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যখনই লড়াই থেমেছে ও যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, তখনই শত্রুপক্ষের ওপর অনাস্থার কারণে সেনাবাহিনী তাদের লক্ষ্যগুলো হালনাগাদ করা, লক্ষ্যবস্তুর তালিকা সম্পূর্ণ করা, প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখা এবং যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রক্রিয়া চালিয়ে গেছে।
এই সেনা কর্মকর্তা আরও বলেন, সেনাবাহিনী তাদের সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন ও মানোন্নয়ন উভয় কাজই করেছে এবং ইরানের জন্য পরিস্থিতি মূলত এখনো যুদ্ধকালীন অবস্থার মতোই রয়ে গেছে।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেন, বাহিনীর নজরদারি, পর্যবেক্ষণ ও সরঞ্জাম সজ্জিত করার কার্যক্রম কোনো বিরতি ছাড়াই অব্যাহত রয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, শত্রু যদি আবারও কোনো আগ্রাসন চালায়, তবে তাদের ইরানের নতুন নতুন সামরিক সরঞ্জাম, কৌশল এবং লড়াইয়ের নতুন জায়গায় মোকাবিলা করতে হবে।
তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ
৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের ৫২টি জাহাজ দেশটির জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অবরোধ ভেঙেছে বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি।
স্থানীয় সময় গত সোমবার রাত ১০টা পর্যন্ত আগের তিন দিনের স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর জানানো হয়েছে। জাহাজগুলোর মধ্যে ৩১টি তেলবাহী ট্যাংকার ও ২১টি পণ্যবাহী জাহাজ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর ২ মার্চ ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ঘোষণা দেয়, হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনায় কোনো চুক্তি হয়নি। পরে ২১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হয়েছে; যা ইরানের আলোচনার প্রস্তাব পেশ করা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি কড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট ঘিরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি ছবি শেয়ার করেছেন ট্রাম্প। সেখানে তাঁর পেছনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। ছবির ওপর বড় অক্ষরে লেখা—‘নো মোর মি. নাইস গাই!’ (ভদ্র সাজার দিন শেষ!)।
ছবির সঙ্গে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান পরমাণু অস্ত্রমুক্ত চুক্তির পথে হাঁটতে ব্যর্থ হচ্ছে। তেহরানকে সতর্ক করে তিনি লেখেন, ইরানকে ‘দ্রুত বুদ্ধিমান (বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা বা সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া) হতে হবে’।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা নিয়ে যখন গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এ কড়া বার্তা এল। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্পের অবস্থানে এক ধরনের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে।
ট্রাম্প কখনো কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের কথা বলছেন, আবার কখনো আলোচনা ব্যর্থ হলে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন।
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা, গালফ নিউজ ও মিডল ইস্ট আই
দীর্ঘ ৫৭ দিন বন্ধ থাকার পর ইরানের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ‘ইমাম খোমেনি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট’ আবার সচল হয়েছে। যুদ্ধের কারণে ইরানের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় রাজধানী তেহরানের এ প্রধান প্রবেশপথটি দীর্ঘ দিন অচল ছিল। তবে দুই দিন আগে আকাশসীমা খুলে দেওয়ার পর আবার ফ্লাইট শুরু হয়েছে।
স্বাভাবিক সময়ে এই বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০টি ফ্লাইট পরিচালিত হলেও বর্তমানে তা ১০ থেকে ১৫টিতে নেমেছে। তবে ধীরে ধীরে কার্যক্রম বাড়ছে এবং টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের ভিড় ফিরতে শুরু করেছে।
দেশজুড়ে অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেই এ বিমানবন্দর সচল করা হয়েছে। তেহরানের দ্বিতীয় বিমানবন্দর ‘মেহরাবাদ’ যুদ্ধে বারবার হামলার শিকার হয়েছে। অভ্যন্তরীণ রুটে ব্যবহৃত হয় এ বিমানবন্দর। এছাড়া তাবরিজ ও উর্মিয়ার মতো দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।
দীর্ঘ কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞা এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধে বেশ কিছু যাত্রীবাহী বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইরানের বিমান খাত বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। বিমানবন্দরে আসা যাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরলেও ইরানে মানুষের মনে রয়েছে শঙ্কা। যুদ্ধবিরতি এখন পর্যন্ত কার্যকর থাকলেও স্থায়ী শান্তি আসবে, নাকি আবারও সংঘাত শুরু হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন।
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এ প্রথম মার্কিন কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
আজ বুধবার প্রতিনিধি পরিষদের আর্মড সার্ভিস কমিটির এক শুনানিতে পিট হেগসেথ আইনপ্রণেতাদের কঠোর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১.৫ ট্রিলিয়ন (দেড় লাখ কোটি) ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে আলোচনার জন্য এ শুনানির আয়োজন করা হয়েছে। তবে বাজেটের পাশাপাশি ইরান যুদ্ধ নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে ইরান যুদ্ধের বিষয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দেওয়া তথ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই। ফলে আজকের শুনানি বেশ উত্তপ্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শুনানিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা জেনারেল ড্যান কেইনও সাক্ষ্য দেবেন।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। আজ বুধবার ভোরে লেবাননের হানিন শহরে এ হামলা চালানো হয়।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, ভোরে হানিন শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় বেশ কিছু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাতে নাকুরা শহরেও ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালায়। সেখান থেকে রাতভর বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এনএনএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময় খিয়াম শহরে বিমান হামলা ও গুলিবর্ষণ করেছেন ইসরায়েলি সেনারা। দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকায় গত কয়েক দিন ধরেই পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা বেড়েছে।
এদিকে মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ঘোষিত যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে গতকাল ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো ভয়াবহ হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও জাতীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধের মেয়াদ আরও বাড়তে পারে—এমন খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের অবরোধ দীর্ঘায়িত করার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার শেষ দিকে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ইরানের অর্থনীতি ও তেল রপ্তানির ওপর চাপ বজায় রাখতে দেশটির বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প।
এ খবরের পর আজ বুধবার সকালে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নতুন করে বেড়েছে।
বাজারের বর্তমান চিত্র
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম টানা আট দিন ধরে বাড়ছে। জুন মাসের সরবরাহের জন্য এ তেলের দাম ৫২ সেন্ট বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১১ দশমিক ৭৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। জুনের চুক্তির মেয়াদ এ সপ্তাহে শেষ হওয়ায় জুলাই মাসের সরবরাহের আগাম দামও ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১০৪ দশমিক ৮৪ ডলার হয়েছে।
অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৭ সেন্ট বা ০ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়ে ১০০ দশমিক ৫০ ডলারে উঠেছে। গত আট কার্যদি��সের মধ্যে সাত দিনই এ তেলের দাম বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা কাটছে না।
ইরান পরিস্থিতির কারণে আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করা পানামা খালে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পানামা খাল কর্তৃপক্ষের অর্থ বিভাগের প্রধান ভিক্টর ভিয়াল জানান, গত বছরের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গতবারের তুলনায় প্রায় ৩০০টি অতিরিক্ত জাহাজ এই জলপথ পাড়ি দিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি সভায় ভিক্টর ভিয়াল বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা মনে করছি।’
মূলত হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের উপকূলীয় এ জলপথ এড়িয়ে চলতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো তাদের পথ পরিবর্তন করছে। অনেক ক্ষেত্রে অন্য দেশ থেকে পণ্য কেনাকাটায় জাহাজগুলো এখন বিকল্প হিসেবে পানামা খাল ব্যবহার করছে।
এ খাল পার হতে জাহাজভেদে গড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ ডলার খরচ হয়। তবে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস বলেছে, দ্রুত পারাপার নিশ্চিত করতে কোনো কোন�� জাহাজকে বাড়তি ফি হিসেবে ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র সফররত যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসের এ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরান যাতে কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে রাজা চার্লস তাঁর সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর প্রশাসন কাজ করছে জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, সেখানকার অবস্থা ‘খুবই ইতিবাচক’ দিকে যাচ্ছে।
বক্তব্যে ইরানকে প্রতিপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা সামরিকভাবে ওই নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেছি। আমরা কখনোই তাদের পরমাণু অস্ত্র হাতে পেতে দেব না। এ বিষয়ে রাজা চার্লস আমার চেয়েও বেশি একমত।’
ইরানের ‘ছায়া ব্যাংকিং’ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ। যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় দেখা দেওয়া অচলাবস্থার মধ্যে নতুন করে এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা ব্যক্তি–প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে কয়েক হাজার কোটি ডলারের অবৈধ তহবিল স্থানাস্তর হয়েছে। আর এসব অর্থ ইরানের ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে’ সহায়তা করেছে।
লেবাননের ভূখণ্ডে এ বছরের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৫৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মস্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্যের বরাতে দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) এ খবর জানিয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্য, ইসরায়েলের হামলায় লেবাননে ৭ হাজার ৮৬৩ জন আহত হয়েছেন।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিয়ে অস্থির পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ তুলে নিতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জার্মানি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডিপুল এই আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি বলেন, হরমুজ সংকট নিরসনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে ভূমিকা নিতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে ক্রমবর্ধমান সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর এখন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে ‘অবশ্যই ভূমিকা পালন করতে হবে’। এই সংকটের কারণে হাজার হাজার মালবাহী জাহাজ এবং প্রায় ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়ে আছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভাডিপুল বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের উচিত ‘দায়িত্ব নেওয়া এবং একটি প্রস্তাব পাস করা’। তিনি জানান, জার্মানিও এই দায়বদ্ধতা নিতে আগ্রহী এবং সংস্থাটির সদস্যপদ পাওয়ার জন্য নির্বাচনে লড়ছে।
উল্লেখ্য, ১৫ সদস্যবিশিষ্ট জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্স। বাকি ১০টি অস্থায়ী সদস্য পদ বিভিন্ন অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পর্যায়ক্রমে বণ্টন করা হয়।
ইরানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশটির জন্য পরিস্থিতি এখনও ‘যুদ্ধকালীন’ এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের জন্য পরিস্থিতি এখনও যুদ্ধকালীন। আমাদের পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে।’
শত্রুপক্ষকে সতর্ক করে দিয়ে ওই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘শত্রু যদি নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার দুঃসাহস দেখায়, তবে তাদের সম্পূর্ণ নতুন ধরনের সরঞ্জাম, পদ্ধতি ও রণক্ষেত্রে কঠিন জবাবের মুখোমুখি হতে হবে।’
বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছে ইরান— মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ দাবি করেছেন।
নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরান এইমাত্র আমাদের জানিয়েছে যে, দেশটি বর্তমানে “ভেঙে পড়ার মতো অবস্থায়” রয়েছে। দেশটিতে নেতৃত্বের সংকট সমাধানের চেষ্টা চলাকালীন (যা আমার বিশ্বাস তারা সফলভাবেই করতে পারবে!) তারা চায়, আমরা যেন যত দ্রুত সম্ভব হরমুজ প্রণালি খুলে দিই।’
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ বিষয়ে ট্রাম্প অনেকবার ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়েছেন। এসব পোস্টের মধ্যে বেশ কিছু পরে অসত্য বলে প্রমাণ হয়।
সর্বশেষ ইরানের দেওয়া প্রস্তাব পর্যালোচনা করছেন ট্রাম্পসহ তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দলের সদস্যরা। এই প্রস্তাবে ট্রাম্প সন্তুষ্ট হতে পারেনি বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ওপেক এবং ওপেক প্লাস জোটের সদস্যপদ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ১ মে থেকে দেশটির পদত্যাগ কার্যকর হচ্ছে।
আমিরাতে এই পদক্ষেপ তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট এবং এই জোটের প্রকৃত নেতা সৌদি আরবের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে, এমন এক সময়ে আমিরাত এই সিদ্ধান্ত নিল যখন, ইরান যুদ্ধ বিশ্বব্যাপ�� জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে অস্থির করে তুলেছে।
ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি হামলার কারণে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় ওপেকভুক্ত উপসাগরীয় দেশগুলো তেল রপ্তানি করতে হিমশিম খাচ্ছে। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, যেখান দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়।
আঞ্চলিক ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু এবং ওয়াশিংটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র আমিরাত এই সিদ্ধান্তটি এমন সময় নিল, যখন তারা অভিযোগ করছে যে, যুদ্ধের সময় ইরানের অসংখ্য হামলা থেকে তাদের রক্ষা করার জন্য অন্য আরব দেশগুলো যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে না।
১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত ওপেক বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে অন্যতম শক্তিশালী সংগঠন, কারণ এই সংস্থাটি বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-তৃতীয়াংশের বেশি উৎপাদন করে।
আমিরাত বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণার পর ওপেকের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১১। এগুলো হলো—
সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত, ভেনেজুয়েলা, আলজেরিয়া, লিবিয়া, নাইজেরিয়া, গ্যাবন, ইকুইটোরিয়াল গিনি এবং কঙ্গো প্রজাতন্ত্র।
আর ওপেকের সব সদস্যই ওপেক প্লাসের সদস্য। এই জোটে আরও আছে রাশিয়া (জোটের অন্যতম প্রধান শক্তি), আজারবাইজান, বাহরাইন, ব্রুনাই, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, ওমান, দক্ষিণ সুদান এবং সুদান।
যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশগুলোর ওপর নীতি চাপিয়ে দেওয়ার অবস্থানে আর নেই বলে মনে করে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালাই-নিক বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আর স্বাধীন দেশগুলোর ওপর তার নীতি চাপিয়ে দেওয়ার অবস্থানে নেই।’ তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটনকে এটা মেনে নিতে হবে যে, ইরানের কাছে চাওয়া অবৈধ এবং অযৌক্তিক দাবিগুলি বাদ দেবে তারা।
ইরানের দেওয়া নতুন প্রস্তাব গতকাল পর্যালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দলের সদস্যদের সঙ্গে ইরানের প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, ইরানের দেওয়া নতুন প্রস্তাবেও নাখোশ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার পূর্ণ অধিকার ইরানের রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে ‘ভণ্ডামি’ ও ‘জলদস্যুতার’ অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, ‘পুরো দায়ভার ইরানের ওপর চাপানোর একটি চেষ্টা চলছে, যেন মনে হয় ইরানই তার প্রতিবেশীদের ওপর হামলা করেছে। কিন্তু যুদ্ধের সময় কোনো উপকূলীয় দেশ আক্রান্ত হলে নিরাপত্তার স্বার্থে তারা নিজ জলসীমায় জাহাজ চলাচল সীমিত বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।’
পশ্চিমা দেশগুলোকে জলদস্যুদের সঙ্গে তুলনা করে রুশ রাষ্ট্রদূত বলেন, কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের হামলায় সমর্থন দিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলো আইন লঙ্ঘন করছে।
নেবেনজিয়া আরও বলেন, ‘জলদস্যুরা যেমন জাহাজে কঙ্কাল আঁকা কালো পতাকা উড়িয়ে আক্রমণ করে, পশ্চিমা দেশগুলো তেমনটা করে না। তারা তাদের বেআইনি কর্মকাণ্ডকে একতরফা জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থার (নিষেধাজ্ঞা) আড়ালে লুকোনোর চেষ্টা করছে।’
পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) পর্যালোচনা সম্মেলনে ইরানকে অন্যতম সহ-সভাপতি নির্বাচিত করা নিয়ে জাতিসংঘে বিতণ্ডায় জড়াল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ইর��নের এ নির্বাচনকে এনপিটি চুক্তির প্রতি ‘উপহাস’ বলে বর্ণনা করেছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান তাদের পারমাণবিক দায়বদ্ধতা পালনে ব্যর্থ হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গেও পূর্ণ সহযোগিতা করছে না। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
ইরান বলেছে, পরমাণু চুক্তি মেনে চলার বিষয়ে মন্তব্য করার নৈতিক অধিকার বা গ্রহণযোগ্যতা যুক্তরাষ্ট্রের নেই। তারা যুক্তি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রই বিশ্বের একমাত্র দেশ, যারা যুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে।
রাশিয়া ও ইরান যেকোনো পরিস্থিতিতে একে অপরকে সহযোগিতা ও সমর্থন দিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভ।
ইরানের উপ–প্রতিরক্ষামন্ত্রী রেজা তালাই-নিকের সঙ্গে এক বৈঠকে আন্দ্রেই বেলোসভ এ কথা বলেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং ঘনিষ্ঠতা দিন দিন আরও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে দুই দেশের পক্ষ থেকেই চলমান সংকট ও সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
হরমুজ প্রণালির বাইরে ইরানের চাবাহার বন্দরের কাছে বেশ কিছু তেল ট্যাংকার জড়ো হয়েছে। ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবিতে এ দৃশ্য ধরা পড়েছে।
ছবিতে দেখা গেছে, ওই এলাকায় অন্তত আটটি বড় তেল ট্যাংকার ও বেশ কিছু ছোট জাহাজ অবস্থান করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ভিড় দেখে বোঝা যায়, ইরান এখনো তেল উত্তোলন ও তা জাহাজে বোঝাই করা অব্যাহত রেখেছে।
তবে এটি মার্কিন নৌ–অবরোধের প্রভাবকেও স্পষ্ট করে তুলছে। ইরানি বন্দরের ওপর এ অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে ইরানের অপরিশোধিত তেল সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে তেল রপ্তানি রুটের মুখে এ জট তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ও ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অবরোধের অংশ হিসেবে একটি ইরানি পতাকাবাহী তেলের ট্যাংকার জব্দ করেছে মার্কিন নৌবাহিনী।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, তাদের গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা’ অভিযান চালিয়ে ‘এম/টি স্ট্রিম’ নামের ওই ট্যাংকারটি থামিয়ে দেয়।
সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, ট্যাংকারটি অবরোধ অমান্য করে ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।
জাহাজ চলাচলের তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘মেরিন ট্রাফিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটিকে সর্বশেষ মালাক্কা প্রণালিতে অবস্থান করতে দেখা গিয়েছিল।
ইরান-সংশ্লিষ্ট তেলের ট্যাংকার এভাবে মাঝসমুদ্রে আটকে দেওয়ার ঘটনাকে এর আগেও ‘জলদস্যুতা ও সশস্ত্র ডাকাতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্রের এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপের বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাইদ ইরাভানি গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাঁর দেশ জাতিসংঘের সমুদ্র আইন মেনে চলতে ‘বাধ্য নয়’। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নেওয়া বিভিন্ন নৌ-পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন তিনি।
ইরাভানি যুক্তি দেন, বর্তমান ‘অত্যন্ত অস্থিতিশীল’ পরিস্থিতিতে উপকূলীয় নিরাপত্তা ও নিরাপদ নৌ-চলাচলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেই এ পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে।
ইরানি প্রতিনিধি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে ‘দ্বিমুখী নীতি’র অভিযোগ তুলে বলেন, তারা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নৌ-অবরোধ এড়িয়ে যাচ্ছে।
ইরাভানি আরও বলেন, ‘সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে তাদের এ উদ্বেগ কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয় এবং তাদের কর্মকাণ্ড ও অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণও নয়।’
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করলেও নতুন করে শান্তি আলোচনার জন্য কোনো সময়সীমা ঘোষণা করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার তিনি জানান, তেহরানের ওপর গত এক সপ্তাহ ধরে চলা অবরোধ অব্যাহত থাকবে এবং আলোচনার জন্য ইরান কী ‘প্রস্তাব’ দেয়, তার অপেক্ষায় থাকবে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে আলোচনার টেবিলের সময় না থাকলেও ট্রাম্পের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা।
‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোল্যুশন’ অনুযায়ী, ১ মে’র মধ্যে ট্রাম্পকে কংগ্রেসের কাছ থেকে সামরিক অভিযানের অনুমোদন নিতে হবে। এ আইন (কখনো কখনো ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট বলা হয়) অনুযায়ী, কংগ্রেসের বিশেষ অনুমতি ছাড়া কোনো সংঘাতপূর্ণ এলাকায় ৬০ দিনের বেশি সেনা মোতায়েন রাখার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। এ অনুমোদনের জন্য প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় প্রস্তাব পাস হতে হয়, যা এখন পর্যন্ত হয়নি।
তবে অতীতে অনেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট অন্য আইনি অজুহাতে এই নিয়ম এড়িয়ে সামরিক অভিযান চালিয়ে গেছেন।
ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট কী
১৯৭৩ সালে প্রণীত এই ফেডারেল আইনের মূল লক্ষ্য ছিল, বিদেশের মাটিতে যুদ্ধে জড়ানোর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের একক ক্ষমতা খর্ব করা। এই আইন অনুযায়ী, সামরিক পদক্ষেপ শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসকে অবহিত করতে হয়। এরপর তিনি সর্বোচ্চ ৬০ দিন সেনা মোতায়েন রাখতে পারেন। কংগ্রেস চাইলে আরও ৩০ দিন সময় বাড়াতে পারে। তবে এর বেশি সময় সেনা মোতায়েন রাখতে হলে কংগ্রেসের চূড়ান্ত অনুমোদন বা যুদ্ধ ঘোষণা প্রয়োজন।
কলোরাডো ল’ স্কুলের আইনের সহযোগী অধ্যাপক মারিয়াম জামশিদি বলেন, ‘৬০ দিনের মেয়াদ আরও ৩০ দিন বাড়াতে হলে প্রেসিডেন্টকে লিখিতভাবে জানাতে হবে যে, সামরিক প্রয়োজনে এটি ‘অপরিহার্য’। অন্যথায় ৯০ দিন পর সেনা সরিয়ে নিতে প্রেসিডেন্ট বাধ্য। তবে তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্টকে এটি ম���নতে বাধ্য করার আইনি পথ বেশ জটিল। অনেক সাবেক প্রেসিডেন্ট এ আইনকে ‘অসাংবিধানিক’ দাবি করে তা মানতে অস্বীকার করেছেন।
কংগ্রেসের অনুমোদন কি পাবেন ট্রাম্প
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইরান যুদ্ধের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন পাওয়া ট্রাম্পের জন্য বেশ কঠিন। কারণ ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে এ নিয়ে গভীর বিভেদ রয়েছে।
গত ১৫ এপ্রিল প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ করার ক্ষমতা সীমিত করার একটি দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টা ৫২-৪৭ ভোটে সিনেটে ব্যর্থ হয়। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সিনেটের রিপাবলিকান নেতারা এমন একটি যুদ্ধের ওপর নজরদারি করতে অস্বীকার করছেন, যাতে প্রতি সপ্তাহে শত শত কোটি ডলার খরচ হচ্ছে—এটি বিস্ময়কর।’
রিপাবলিকানদের বড় একটি অংশ এ পর্যন্ত ট্রাম্পকে সমর্থন দিলেও ৬০ দিন পার হওয়ার পর কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক বলে মনে করছেন। রিপাবলিকান সিনেটর জন কার্টিস বলেন, ‘আমি মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপ সমর্থন করি। তবে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ৬০ দিনের বেশি সামরিক তৎপরতা সমর্থন করব না।’
রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য ডন বেকনও একই সুরে বলেন, অনুমোদন না পেলে আইনত অভিযান বন্ধ করতে হবে।
এমনকি ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক অনেক রিপাবলিকানও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের আশঙ্কায় অস্বস্তিতে রয়েছেন। তাঁরা এ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা খর্ব করার চেষ্টায় বাধা দিলেও, যুদ্ধ ৬০ দিনের বেশি গড়ালে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ইরানের দেওয়া সাম্প্রতিক প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রহণ করবেন না বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয়ে অবগত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের এ প্রস্তাব অনুমোদনের সম্ভাবনা ‘খুবই কম’।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুর সমাধান না করে শুধু হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে চুক্তি করলে তা আলোচনায় ওয়াশিংটনকে দুর্বল করে তুলবে।
হোয়াইট হাউসের একজন সহযোগী জানিয়েছেন, ‘মার্কিন জনগণের স্বার্থ রক্ষা না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসন কোনো চুক্তিতে যাবে না।’ পাশাপাশি তেহরানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আসলে কার হাতে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্�� আই
হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণকে ব্যবহার করে ইরান যেন ‘বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি’ করতে না পারে, সেজন্য দেশটির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এ তথ্য জানিয়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এ পথে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
কুপার জানান, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা সফল করতে ব্রিটিশ সরকার কাজ করছে।
ব্রিটিশ কর্মকর্তারা বারবার সতর্ক করে বলছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা দেখা দিলে জ্বালানি তেলের দাম অনেক বাড়তে পারে। এটি বিশ্ববাজারকে অস্থিতিশীল করে তোলার পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানকে ‘বড় ধরনের ছাড়’ দেওয়ার মানসিকতা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া এক বক্তব্যে জ্যঁ-নোয়েল বলেন, তেহরান যদি তাদের বর্তমান অবস্থানের ‘আমূল পরিবর্তন’ না করে, তবে এই সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
জ্যঁ-নোয়েল আরও বলেন, ইরানের উচিত তাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান’ নিশ্চিত করা। এ ধরনের পরিবর্তন দেশটির সাধারণ মানুষকে তাদের ভবিষ্যৎ গড়তে সহায়তা করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও আলোচনা অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। এমন এক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে এ মন্তব্য এল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের প্রথম দিন ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় নিহতের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। আজ মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, ওই হামলায় মোট ১৫৫ জন নিহত হয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হরমুজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ওই হামলা চালায়। এতে ৭৩ ছেলে শিশু ও ৪৭ মেয়ে শিশু প্রাণ হারায়।
দিনটি ছিল ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একযোগে আক্রমণ শুরুর প্রথম দিন। এর জবাবে তেহরানও ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায়।
আইআরআইবি তাদের টেলিগ্রাম পোস্টে জানায়, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ২৬ জন শিক্ষক, ৭ জন অভিভাবক, একজন স্কুলবাস চালক ও স্কুলের পাশের ক্লিনিকের একজন ফার্মাসি টেকনিশিয়ান রয়েছেন।
নতুন এ তথ্যের ফলে নিহতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫৫–এ। এটি আগে ১৭৫ এর বেশি বলে ধারণা করা হয়েছিল। এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তের তথ্যমতে, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে ভুলের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘টমাহক ক্রুজ মিসাইল’ স্কুলটিতে আঘাত হানে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, এ ঘটনার জন্য ইরান নিজেই দায়ী হতে পারে। তবে ইরানের কাছে কোনো টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নেই।
জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে দেওয়া এক ভিডিও ভাষণে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওই হামলাকে একটি ‘পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক আক্রমণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
আরাগচি জোর দিয়ে বলেন, ‘মার্কিন-ইসরায়েলি আক্রমণকারীরা যখন দাবি করে, তাদের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তি ও নিখুঁত লক্ষ্যভেদী সামরিক সরঞ্জাম এবং ডেটা সিস্টেম রয়েছে; তখন স্কুলটিতে এ হামলা ইচ্ছাকৃত ছিল না—এটি কেউ বিশ্বাস করবে না।’
তথ্যসূত্র: এএফপি
লেবাননের ভূখণ্ডে এ বছরের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৫২১ জনে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্য, ইসরায়েলের হামলায় লেবাননে ৭ হাজার ৮০৪ জন আহত হয়েছেন।
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে এখন যুদ্ধবিরতি চলছে। তবে তা ক্রমেই ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে। যুদ্ধবিরতির মাঝে গত দুই দিনে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে এনএনএ।
যুদ্ধ বন্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের দেওয়া প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ নীতিনির্ধারকদের আলোচনার টেবিলে রয়েছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশটির নীতিনির্ধারকেরা এই প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করছি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আজ সকালে তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। বৈঠকটি এখনো চলছে কি না, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত নয়। তবে ইরানের দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে।’
চলমান যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে ওয়াশিংটনের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। তবে এতে ইরান একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে; তাদের দাবি অনুযায়ী, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিতর্কিত আলোচনাগুলো এই মুহূর্তে নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য স্থগিত রাখতে হবে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই অনড় অবস্থানে রয়েছেন যে, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। মুখপাত্র লেভিট বলেন, ইরানের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমাগুলো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: আল–জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে ইরান আন্তরিক (সিরিয়াস) বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে অবশ্যই ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় তারা যে সংকটের মধ্যে রয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়ে তারা যথেষ্ট আন্তরিক।’
ইরানের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে রুবিও বলেন, দেশটিতে বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর ওপর রয়েছে চলমান নিষেধাজ্ঞা। রুবিওর মতে, ‘সংঘাত শুরুর আগে ইরানের যেসব সমস্যা ছিল, সেগুলো তো রয়েছেই, তার বেশিরভাগই এখন আরও প্রকট হয়েছে।’
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, যেকোনো চুক্তির ফলে তারা যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে দ্রুত এগিয়ে যেতে না পারে।’
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তাঁর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। আরাগচি বলেন, ‘আমরা পুরো বিশ্বকে প্রমাণ করে দিয়েছি যে, রাশিয়ান ফেডারেশনের মতো ভালো বন্ধু ও মিত্র ইরানের পাশে রয়েছে।’
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতি রাশিয়ার ‘দৃঢ় ও অটল’ অবস্থানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে আরাগচি বলেন, ‘আপনাদের এই অবিচল সমর্থনের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।’
গতকাল পাকিস্তান থেকে রওনা হয়ে রাশিয়ায় পৌঁছান আরাগচি। যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ। গত শনিবার পাকিস্তানে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেন আরাগচি। ওইদিনই তিনি ওমানে যান। সেখানে দেশটির আমিরের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর গতকাল পাকিস্তানে ফিরে কয়েক ঘণ্টা অবস্থানের পর রাশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বিশেষ বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন আব্বাস আরাগচি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি আজ সোমবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এই বৈঠকে খামেনির বার্তা পুতিনের কাছে পৌঁছে দেন আরাগচি। রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ চুক্তি রয়েছে। ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর থেকেই মস্কো ও তেহরান সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে।
আজ বৈঠকে পুতিন জানিয়েছেন, ইরানসহ ওই অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোর স্বার্থে রাশিয়া সম্ভাব্য সবকিছু করবে।
ইরানের প্রতি মস্কোর সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের লড়াই অব্যাহত থাকবে। সূত্রমতে, খুব শিগগিরই পুতিন, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভ এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একটি বিশেষ আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে চলমান আলোচনার বর্তমান পরিস্থিতিই হবে এই বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু।
ক্রেমলিন জানিয়েছে, তারা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে এই সংঘাত নিরসনে এবং সমাধানের পথ খুঁজতে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া ইরানে অস্ত্র সরবরাহের দাবি প্রত্যাখ্যান করলেও পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি ভিন্ন। তাদের মতে, রাশিয়া ইরানকে ড্রোন সরবরাহে রাজি হয়েছে। এমনকি মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলার লক্ষ্যবস্তু সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান নিয়েও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। দেশটির স্থানীয় সংবাদ সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে পুতিন বলেন, ইরানসহ ওই অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোর স্বার্থে রাশিয়া সম্ভাব্য সবকিছু করবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ইরানের জনগণ বর্তমানের এই ‘কঠিন সময়’ কাটিয়ে উঠবে এবং সেখানে শান্তি ফিরে আসবে।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসনের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করতে আগামীকাল মঙ্গলবার বৈঠক করবেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। এই বৈঠকে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ও সরকারের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা কমিটির (কোবরা) প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
আজ সোমবার ট্রেড ইউনিয়ন সদস্যদের স্টারমার বলেন, ‘যুদ্ধের প্রভাব পর্যালোচনায় আগামীকাল আমি কোবরার একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করব। সেখানে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের কর্মকর্তাদেরও রাখা হয়েছে। এই সংকটে আমরা কর্মজীবী মানুষের পাশে থাকব, এ বিষয়ে আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন।’
জ্বালানির দাম বৃদ্ধির উদাহরণ টেনে স্টারমার বলেন, ‘ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আমাকে সত্য কথাটা বলতে হবে। আসল কথা হলো, এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক ধাক্কা আমাদের আরও অনেক দিন সইতে হতে পারে।’
ওয়াশিংটন ও তেহরানের অর্থনৈতিক ‘কার্ড’ বিশ্লেষণ করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ। এ ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের আধিপত্যের দাবি তিনি নাকচ করেছেন। বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার শক্তির বড় অংশই ইতিমধ্য�� হারিয়েছে। অন্যদিকে, তেহরানের হাতে এখনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু ‘কার্ড’ রয়েছে, যা ব্যবহার করা হয়নি।
গতকাল রোববার রাতে নিজের এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে গালিবাফ এই বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার একটি সমীকরণ তুলে ধরেন। এর একদিকে রয়েছে ইরানের সরবরাহভিত্তিক সক্ষমতা—হরমুজ প্রণালি, বাব এল-মান্দেব প্রণালি ও তেলের পাইপলাইন।
সমীকরণের অন্যদিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদাভিত্তিক পদক্ষেপ—কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়, চাহিদা নিয়ন্ত্রণ ও সম্ভাব্য মূল্য সমন্বয়।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বলেন, তেহরানের হাতে এমন কিছু বিকল্প আছে, যা এখনো ব্যবহার করা হয়নি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে তার বেশ কিছু হাতিয়ার ব্যবহার করেছে বা আংশিকভাবে প্রয়োগ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার লিখেছেন, ‘ওরা কার্ড নিয়ে বড়াই করছে। দেখা যাক: সরবরাহ কার্ড = চাহিদা কার্ড।’
তেহরানের কার্ড প্রসঙ্গে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বলেন, হরমুজ প্রণালি কার্ড আংশিক ব্যবহার হয়েছে। বাব এল-মান্দেব কার্ড ব্যবহার হয়নি। পাইপলাইন কার্ডও ব্যবহার করা হয়নি।
ওয়াশিংটনের কার্ড প্রসঙ্গে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বলেন, মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়া হয়েছে। চাহিদা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আংশিক ব্যবহৃত হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও মূল্য সমন্বয় আসবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার’ দিকটি তুলে ধরে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার আরও বলেন, গ্রীষ্মকালীন ছুটির মৌসুমে দেশটিতে জ্বালানি চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে তেহরান–ওয়াশিংটন আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
আজ সোমবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছানোর পর ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক এই মন্তব্য করেন। এখানেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আব্বাস আরাগচির বৈঠক করার কথা রয়েছে।
আব্বাস আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও অতিরিক্ত দাবির কারণে অগ্রগতি সত্ত্বেও আগের দফার আলোচনা লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
বন্ধ হরমুজ প্রণালিতে ১০৫টির বেশি ট্যাঙ্কারে প্রায় ২ হাজার ৪০০ জন নাবিক আটকে আছেন। ট্যাঙ্কার কোম্পানিগুলোর একটি বাণিজ্য সংগঠন এই তথ্য জানিয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের’ কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি আবার চালু করা সম্ভব নয়।
এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়।
বিবিসির ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে ট্যাঙ্কার বাণিজ্য সংগঠন ইন্টারট্যাঙ্কোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিম উইলকিন্স বলেন, হরমুজ প্রণালির এই বন্ধ অবস্থার কারণে ইরানের উপকূলে বহু নাবিক আটকে আছেন।
জাহাজগুলোতে থাকা ক্রুদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও ক্লান্তি ভর করেছে বলে উল্লেখ করেন টিম উইলকিন্স। তিনি বলেন, ক্রুদের খাবার, পানিসহ মৌলিক সরবরাহ ও আবর্জনা ব্যবস্থাপনার মতো কাজ সামলাতে হচ্ছে।
টিম উইলকিন্স আরও বলেন, ‘অনেকেই জাহাজে আটকে আছেন। এবং তাঁরা কবে বাড়ি ফিরতে পারবেন, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই।’
ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও এই অঞ্চলের নৌপথে সংঘাতসহ পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।
গত সপ্তাহে ইরান জানায়, তারা হরমুজ প্রণালিতে দুটি কার্গো জাহাজ ‘পরিদর্শনের’ জন্য আটক করেছে।
পাশাপাশি কিছু জাহাজ এই পথ অতিক্রমের সময় হামলার শিকার হয় বলে খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ১৩ এপ্রিল ইরানি বন্দরে প্রবেশ–প্রস্থানকারী নৌযানের ওপর অবরোধ আরোপ করে। এরপর তারা একাধিক জাহাজ আটক করেছে। এ ছাড়া অনেক জাহাজকে গতিপথ পরিবর্তন করার অথবা বন্দরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান চলাকালে এক ইসরায়েলি সেনা নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। অন্যদিকে, লেবাননে গতকাল ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন।
লেবাননে নিহত ইসরায়েলি সেনার নাম সার্জেন্ট ইদান ফুকস। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। বাকি দুজনের আঘাত গুরুতর নয়।
আইডিএফের বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯ বছর বয়সী সার্জেন্ট ইদান ফুকস ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৭ম ব্রিগেডের ৭৭তম ব্যাটালিয়নের সদস্য ছিলেন। তিনি দক্ষিণ লেবাননে নিহত হন। ঘটনার সময় একজন সেনা কর্মকর্তা ও তিনজন সেনা গুরুতরভাবে আহত হন। আর দুই সেনার আঘাত হালকা।
আহত সেনাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানায় আইডিএফ। বিবৃতিতে বলা হয়, সেনাদের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
ইসরায়েল ও লেবাননের হিজবুল্লাহ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ‘যুদ্ধবিরতি’ সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে। এতে হাজারো মানুষ আবার তাঁদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। লেবাননে রোববারের এসব হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন।
তথ্যসূত্র: ফক্স নিউজ ও আল–জাজিরা
ইরান তার ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমারেখার একটি তালিকা পাকিস্তানকে দিয়েছে, যাতে ইসলামাবাদ তা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দেয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি পাকিস্তান সফর করেন। এই সফরের সময়ই তিনি তালিকাটি পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়।
সংবাদ সংস্থাটির খবরে বলা হয়, তেহরানের ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখার মধ্যে পরমাণু ইস্যুর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
খবরে আরও বলা হয়, এই বার্তা প্রদানের বিষয়টি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এটি মূলত আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও ইরানের অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের জাঞ্জান প্রদেশে ৯ হাজার ৫০০টি বোমার ক্ষুদ্র অংশ (বোম্বেট), কয়েক ডজন অবিস্ফোরিত রকেট–ক্ষেপণাস্ত্র ও তিনটি ২ হাজার পাউন্ড ওজনের মার্কিন জিবিইউ–৫৭ বাংকারবিধ্বংসী বোমা শনাক্ত–নিষ্ক্রিয় করার কথা জানিয়েছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আইআরজিসির বিবৃতির বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
প্রদেশটিতে আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের চালানো আগ্রাসনের অবিস্ফোরিত অস্ত্র–গোলাবারুদ শনাক্ত–নিষ্ক্রিয় করতে বিশেষায়িত বোমা নিষ্ক্রিয়কারী–অপসারণ ইউনিটগুলো অভিযান চালায়। চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে এই অভিযান চালানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ৯ হাজার ৫০০টির বেশি বোমার ক্ষুদ্র অংশ শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এগুলো শত্রুর যুদ্ধবিমান থেকে ফেলা হয়েছিল। এফ–১৫, এফ–১৬ ও এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া বিভিন্ন ধরনের অবিস্ফোরিত রকেট–ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। মোট ৫২টি রকেট ধ্বংস করা হয়েছে। ১০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আইআরজিসি বলেছে, তিনটি ২ হাজার পাউন্ড ওজনের মার্কিন জিবিইউ–৫৭ বাংকারবিধ্বংসী বোমা ধ্বংস করা হয়েছে। একই ধরনের আরেকটি বোমা উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ছাড়া একটি ৫০০ পাউন্ড ওজনের দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং জিবি–৩৯ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে জানায় আইআরজিসি। তারা বলেছে, এগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উন্নত যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া হয়েছিল।
রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ এই তথ্য জানিয়েছে।
সফররত ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেন্ট পিটার্সবার্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর আগে পাকিস্তান ও ওমান সফর করেছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
আইআরএনএ জানায়, আজ সোমবার সকালে সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে সেখানে গেছেন।
এর আগে রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা তাস ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের বরাতে জানায়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা করেছেন পুতিন।
রাশিয়ায় ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালির বরাতে ইরানের আইএসএন সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন আরাগচি। বৈঠকে তিনি আলোচনার সবশেষ অবস্থা, যুদ্ধবিরতি ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি তুলে ধরবেন। এ নিয়ে রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করবেন।
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা ও এএফপি
হরমুজ প্রণালি আবার চালু করাসহ যুদ্ধের অবসান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান।
পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরান এই প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবে পরমাণু আলোচনা পরবর্তী পর্যায়ের জন্য স্থগিত রাখার কথাও বলা হয়েছে।
গতকাল রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা ও দুটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
ইরানের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ব্ল্যাকমেল’ ও ‘আলটিমেটাম’ দেওয়া ছাড়তে হবে। ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক সংস্থায় নিযুক্ত রাশিয়ার দূত মিখাইল আলইয়ানভ এমনটাই জানান। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আলইয়ানভ লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি প্রয়োগ, কঠোর নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখিয়ে আলোচনা চালাতে চায়। শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে আলোচনা চালিয়ে যেতে অভ্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরানে তা কাজ করবে না।
ওই পোস্টে আলইয়ানভ আরও লেখেন, এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো এসব বাদ দেওয়া। তিনি হ্যাশট্যাগ দিয়ে তিনটি কৌশল বাদ দেওয়ার দিকে ইঙ্গিত করেন। এগুলো হলো ‘ব্ল্যাকমেলিং’, ‘আলটিমেটাম’ ও ‘ডেডলাইন’।
ইরানের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর নৌ-অবরোধ চলছে। মার্কিন বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, অবরোধ চলাকালে তারা ৩৮টি জাহাজকে গতিপথ পরিবর্তন করার অথবা বন্দরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের ফলে ইরানি জলসীমায় কোনো জাহাজের প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিরতি চললেও দেশটির বন্দরে অবরোধ চালিয়ে যাওয়া হবে।
যুদ্ধ বন্ধে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা থমকে যাওয়ায় এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন সীমিত থাকার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।
সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোররাত ৪টার দিকে (গ্রিনিচ মান সময় রোববার রাত ১০টা) ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২ দশমিক ২২ ডলার বা ২ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে ১০৭ দশমিক ৫৫ ডলার হয়েছে।
অন্যদিকে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ২ দশমিক শূন্য ২ ডলার বা ২ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৬ দশমিক ৪২ ডলারে পৌঁছেছে।
রাশিয়া সফরের সময় সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। মস্কোয় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের বরাতে ইরানের বার্তা সংস্থা ইরনা এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরনার খবরে বলা হয়েছে, আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভও অংশ নেবেন। তাদের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হবে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধের বর্তমান আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়া।
এর আগে রোববার পাকিস্তান সফর শেষে রাশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন আব্বাস আরাগচি। এ নিয়ে দুই দিনের ব্যবধানে দুইবার পাকিস্তান সফর করলেন তিনি। পাকিস্তানের দেশটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আব্বাস আরাগচি দেখা করলেও মার্কিন কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেননি।
ইসরায়েলে নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে একজোট হয়েছেন বিরোধীরা। নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হাত মিলিয়েছেন দেশটির সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদ।
নাফতালি বেনেট ডানপন্থী নেতা। অপরদিকে ইয়ার লাপিদ মধ্যপন্থী। তাঁরা ঘোষণা দিয়েছেন যে নির্বাচনের আগে নিজেদের দল দুটিকে একীভূত করে ‘টুগেদার’ নামে নতুন একটি দল গ��ন করতে যাচ্ছেন তারা।
বেনেটের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে লাপিদ বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি। ইসরায়েল রাষ্ট্রকে এখন তার চলার পথ পরিবর্তন করতে হবে।’
ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা নেতানিয়াহু ২০২২ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবার ক্ষমতায় বসেন। এরপর দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থী সরকার গঠন করেন তিনি।
নেতানিয়াহু ক্ষমতায় ফেরার পর ফিলিস্তিনের গাজায় ভয়াবহ যুদ্ধ চালিয়েছেন তিনি। এই যুদ্ধে সাড়ে ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ এবং দুই দফায় ইরান যুদ্ধেও ইসরায়েলকে জড়িয়েছেন নেতানিয়াহু।
ইসরায়েলের বিভিন্ন জনমত জরিপ বলছে, নেতানিয়াহুর তথাকথিত ‘নিরাপত্তা রক্ষার’ ভাবমূর্তি এখন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ফলে আগামী অক্টোবরের শেষে যে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে, তাতে তিনি পরাজিত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতে গোপনে আয়রন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও কয়েক ডজন সেনা মোতায়েন করেছিল ইসরায়েল। বিষয়টি নিয়ে জানাশোনা আছে—এমন ইসরায়েলি একটি সূত্র রোববার সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস প্রথম এই খবর প্রকাশ করে। পরে সে বিষয়টি সিএনএনকে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি সূত্র। ২০২০ সালে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছিল ইসরায়েল–আরব আমিরাত। তবে দুই দেশের মধ্যে এমন সামরিক সহযোগিতা নজিরবিহীন।
ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেষ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে ফোনালাপ হয়েছিল ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর। এরপরই আমিরাতে আয়রন ডোম পাঠাতে ইসরায়েলি বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু।
ইসরায়েলের তৈরি আয়রন ডোম ভ্রাম্যমাণ ও স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এটি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রকেট, মর্টার, কামানের গোলা ও ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম। ইসরায়েল এর আগে বিদেশে এই ব্যবস্থা বিক্রি করেছে। তবে অন্য কোনো দেশে এটি মোতায়েন করে যুদ্ধে ব্যবহারের ঘটনা এটিই প্রথম।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তান ত্যাগ করেছেন। দেশটি থেকে রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা করেছেন তিনি। বার্তা আদানপ্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রামে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
টেলিগ্রামে ইরানের মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘এই সফরের সময় রাশিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে ইরান-রাশিয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।’
মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দুইবার পাকিস্তান সফর করেছেন আব্বাস আরাগচি। এদিকে মার্কিন দূতদের ইসলামাবাদ সফর বাতিল হওয়ার পর ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা কমে গেছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে দুই দেশের আলোচনা ফোনকলের মাধ্যমে হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দু��� দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করতে ইরান যদি আলোচনা করতে চায়, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।
ফক্স নিউজের ‘দ্য সানডে ব্রিফিং’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তারা (ইরান) যদি কথা বলতে চায়, তবে তারা আমাদের কাছে আসতে পারে অথবা আমাদের ফোন করতে পারে। আপনারা জানেন, সেখানে টেলিফোন আছে। আমাদের কাছে চমৎকার ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে।’
ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন ইরান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র এতে বিজয়ী হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। আজ রোববার কিছুক্ষণ আগে তিনি পাকিস্তানে পৌঁছান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএর বরাত দিয়ে আল–জাজিরা জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি ওমান থেকে পাকিস্তানে পৌঁছেন। গতকাল ইসলামাবাদ থেকে তিনি ওমান সফরে গিয়েছিলেন। আরাগচি গতকাল ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। আগামীকালও তিনি পাকিস্তানের এই দুই নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।
পাকিস্তান থেকে রাশিয়া সফরে যাওয়ার কথা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। আজ রোববার এই দুই নেতার ফোনালাপে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করার জরুরি প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, দুই নেতা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ পুনরায় চালু করার জরুরি প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি বিশ্ব অর্থনীতি ও যুক্তরাজ্য এবং বিশ্বব্যাপী মানুষের জীবনযাত্রার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে তাঁর যৌথ উদ্যোগের সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেছেন, যাতে হরমুজে স্বাধীনভাবে সব ধরনের নৌযান চলাচল করতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওমানের রাজধানী মাসকাট থেকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। একটি ইরানি সূত্র সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রটি জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি খুব শিগগিরই ইসলামাবাদের উপকণ্ঠে নূর খান বিমানঘাঁটিতে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, পাকিস্তানে স্বল্প সময়ের জন্য বিরতি নেওয়ার পর, আরাগচি রাশিয়া সফরে যাবেন।
এর আগে আরাগচির নেতৃত্বে ইরানের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল পাকিস্তান সফর করে। প্রতিনিধিদলটি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক শেষে ওমানের উদ্দেশ্যে ইসলামাবাদ ছেড়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আবার পাকিস্তান যাচ্ছেন। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আলোচনার ক্ষেত্রে একে আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন, আরাগচির আবার ইসলামাবাদে আসাটা এটাই তুলে ধরছে যে, আলোচনার চেষ্টা ভেস্তে যায়নি বরং এটা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল ইসলামাবাদ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাহ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেন। পরে তিনি ওমান সফরে যান। ওমানে আরাগচি দেশটির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন। সেই আলোচনার ফলস্বরূপ তিনি আজ রোববার ইসলামাবাদে ফেরার পরিকল্পনা করছেন।
পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামীকাল সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্ভবত আবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করবেন। একে আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্য কথায়, তাঁরা আশা করছেন কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে কিছু অগ্রগতি হতে পারে এবং এটি অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাবে।
যুক্তরাজ্যের গ্লুস্টারশায়ারে অবস্থিত রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। বিমানঘাঁটিটি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ ও গ্লুস্টারশায়ার লাইভ এই খবর জানিয়েছে।
আজ রোববার ভোরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি সেবা সংস্থার বেশ কয়েকটি ইউনিট মোতায়েন করা হয়।
দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া রয়্যাল এয়ার ফোর্সের কোনো উড়োজাহাজের ক্ষতি হয়নি।
তবে বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বিমান বাহিনীর কী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এ পর্যন্ত জানা যায়নি।
তথ্যসূত্র: ডন
শত্রুপক্ষ কোনো ধরনের ভুল হিসাব-নিকাশ করলে বা নতুন করে আগ্রাসন চালালে ‘প্রত্যাশার চেয়েও ভয়াবহ’ পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
আজ রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার (আইআরএনএ) বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জোর দিয়ে বলেছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ‘শক্তিশালী ও বুদ্ধিদীপ্ত নীরবতা’ কোনোভাবেই তাদের দুর্বলতা নয়। এই সংযম যেকোনো মুহূর্তে ‘নারকীয় ঝড়ে’ রূপ নিতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘যুদ্ধবাজ ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী শত্রু’ যদি কোনো ধরনের ভুল করে বা নতুন করে আগ্রাসন চালায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে আসা এই কড়া হুঁশিয়ারি নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।
দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও প্রায় দুই মাস ধরে চলা যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হলেও বেশ কিছু মৌলিক শর্তে দুপক্ষের বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। দুই দেশের মধ্যে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বাধা হয়ে থাকা প্রধান পাঁচ শর্ত নিচে তুলে ধরা হলো:
পারমাণবিক কর্মসূচি
যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করে দিক। তবে তেহরান এ দাবিতে রাজি নয়। তার ভাষ্য, পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে যেকোনো ধরনের বিধিনিষেধ শুধু নির্দিষ্ট কয়েক বছরের জন্য হতে পারে, স্থায়ীভাবে নয়।
ইউরেনিয়াম মজুত
ইরানের কাছে বর্তমানে ৪০০ কেজি (৮৮০ পাউন্ড) উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চান, এই ইউরেনিয়ামের পুরোটা যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে থাকবে। তবে তেহরান এ প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
হরমুজ ও বন্দর অবরোধ
ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। অন্যদিকে ট্রাম্পের অবস্থান হলো, চূড়ান্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া হবে না।
আটকা পড়া অর্থ
একটি দীর্ঘস্থায়ী চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বিদেশে আটকা পড়ে থাকা প্রায় ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ
আলোচনায় ইরান এক বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তাদের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার বিনিময়ে দেশ দুটিকে দিতে হবে প্রায় ২৭ হাজার কোটি (২৭০ বিলিয়ন) ডলার ক্ষতিপূরণ।
তেহরানে আকস্মিক ফিরে যাওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলের একটি অংশ আজ রোববার রাতেই আবার ইসলামাবাদ পৌঁছাবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার (আইআরএনএ) বরাত দিয়ে তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে ইসলামাবাদ সফরে যাওয়া এই প্রতিনিধিদল যুদ্ধ নিরসনের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনার জন্য তেহরানে ফিরে গিয়েছিল। প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নতুন নির্দেশনা নিয়ে তারা আজ রাতেই আবার আরাগচির সঙ্গে যোগ দেবে।
বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং যুদ্ধ বন্ধের প্রক্রিয়া নিয়ে ইসলামাবাদে আলোচনা চলছে। আরাগচির নেতৃত্বাধীন ইরানি প্রতিনিধিদলটি এ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজে গুলিবর্ষণের ঘটনার পরও ইরান যুদ্ধ নিয়ে নিজের অবস্থানে অনড় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এ হামলা তাঁকে ইরান যুদ্ধে জয়ী হওয়া থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।
গতকাল শনিবার রাতে ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে এ হামলার ঘটনার পর হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান যুদ্ধে জয়ী হওয়া থেকে কোনো কিছুই আমাকে আটকাতে পারবে না। আমি জানি না, এ হামলার সঙ্গে যুদ্ধের কোনো সম্পর্ক আছে কি না। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, আমি মনে করি না, এর পেছনে কোনো যোগসূত্র আছে।’
অবশ্য এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প কিছুটা সংশয় প্রকাশ করে বলেছিলেন, হামলার পেছনে ইরান যুদ্ধের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা ‘বলা মুশকিল’।
হামলাকারীকে একজন ‘লোন উলফ’ বা নিঃসঙ্গ হামলাকারী হিসেবে বর্ণনা করে ট্রাম্প জানান, তদন্তকারীরা হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, তেহরানের আলোচনার প্রস্তাব পছন্দ না হওয়ায় তিনি মার্কিন প্রতিনিধিদের পাকিস্তান সফর বাতিল করেছেন।
প্রায় দুই মাস ধরে ইরানের সঙ্গে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি শান্তি আলোচনার চেষ্টা চলছে। তবে ট্রাম্পের মতে, তেহরানের বর্তমান অবস্থান আলোচনার জন্য যথেষ্ট ইতিবাচক নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ঘটে যাওয়া গুলিবর্ষণের ঘটনার সঙ্গে ইরানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে মনে করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এ হামলাকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, শিগগিরই এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হবে।
ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) পরিচালক ক্যাশ প্যাটেল বলেন, তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা অস্ত্রগুলো পরীক্ষা করে দেখছেন। পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দিও নেওয়া হচ্ছে।
ওয়াশিংটনের পুলিশপ্রধান জেফরি ক্যারল জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন হামলাকারীর কাছে একাধিক অস্ত্র ছিল। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় আর কোনো সন্দেহভাজনের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘ সময় আকাশপথে ভ্রমণের ধকলের কথা মাথায় রেখেই পাকিস্তানে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সফর বাতিল করা হয়েছে। গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ দাবি করেছেন।
ট্রাম্প বলেন, ইরানিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য এই দীর্ঘ সফর প্রয়োজনীয় ছিল না; বরং এখন থেকে ফোনে আলোচনা চালানো হবে।
ফ্লোরিডায় এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘এমন একটি নথির (লিখিত প্রস্তাব) জন্য আমরা বারবার উড়োজাহাজে ১৫ ঘণ্টা করে যাওয়া-আসা করতে পারি না; যা যথেষ্ট কার্যকর নয়। তাই আমরা এখন থেকে টেলিফো��ে যোগাযোগ করব। তারা (ইরান) চাইলে যেকোনো সময় আমাদের ফোন করতে পারে।’
সফরের পরিবর্তে টেলিফোনে আলাপ করার সিদ্ধান্তটি দুই পক্ষের জন্যই সহজ হবে বলে মনে করেন ট্রাম্প। এর আগে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য ট্রাম্পের বিশেষ দূত ও তাঁর জামাতা কুশনারের ইসলামাবাদ যাওয়ার কথা ছিল।
সফর বাতিলের কারণ হিসেবে ভ্রমণের ধকলের পাশাপাশি ইরানের নেতৃত্ব নিয়েও নিজের পূর্ববর্তী সংশয়ের কথা আবার উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করছে, যা আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলছে।
যুক্তরাষ্ট্র চাপ প্রয়োগ করে বা হুমকি দিয়ে ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসাতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, বর্তমান মার্কিন পদক্ষেপগুলো দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক আস্থা নষ্ট করছে ও সংলাপের পথ আরও জটিল করে তুলছে।
পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে বলেন, ওয়াশিংটন যদি তাদের ‘শত্রুতামূলক আচরণ ও চাপ সৃষ্টি’ বন্ধ না করে, তবে কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয়।
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আগে সব ধরনের ‘কার্যকরী বাধা’ দূর করতে হবে। এর মধ্যে ইরানি বন্দরগুলোতে চলাচলকারী জাহাজের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করা অন্যতম।
পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ফোনালাপে শাহবাজ শরিফ আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে শাহবাজ শরিফ জানান, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদ সফর করায় তিনি কৃতজ্ঞ। প্রতিনিধিদলটি গতকাল শনিবার ইসলামাবাদ ছেড়ে ওমানের মাসকাটে পরবর্তী আঞ্চলিক আলোচনার উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
এদিকে, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের গতকাল ইসলামাবাদ সফরের কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প তাঁদের এ সফর বাতিল করেছেন।
ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং গত জানুয়ারি মাসে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ইরানে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাঁর নাম এরফান কিয়ান। ইরানের বিচার বিভাগের বার্তা সংস্থা মিজান এ তথ্য জানিয়েছে।
মিজানের খবরে বলা হয়েছে, এরফান কিয়ান গত জানুয়ারিতে ইসফাহান শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। খবরে আরও দাবি করা হয়েছে যে, তিনি মোসাদের একটি অভিযানের অংশ ছিলেন। যদিও এ বিষয়ে খবরে কোনো প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি।
আরব সাগরে ইরানের আরেকটি জ্বালানিবাহী জাহাজ আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ‘ছায়া বহরের’ ওই জাহাজটি বিদেশি বাজারে বিক্রির জন্য কয়েক শ কোটি ডলার মূল্যের জ্বালানি, তেল ও গ্যাসজাত পণ্য বহন করছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে সেন্টকম জানায়, শনিবার ভোরে আরব সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার ‘এমভি সেভান’ নামের ওই জাহাজটিকে বাধা দেয়। জাহাজটি মার্কিন বাহিনীর পাহারায় আবার ইরানের দিকে ফিরে যাচ্ছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে মার্কিন বাহিনী ঘোষণা করেছিল যে, তারা ইরানের উপকূল অভিমুখে যাওয়া বা সেখান থেকে আসা জাহাজগুলোকে আটকে দেবে অথবা ফিরিয়ে দেবে। সেন্টকম বলছে, মার্কিন বাহিনী ইরানি বন্দরগুলোর ওপর এই অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই পাকিস্তান ছেড়েছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল। তবে ওমান সফর শেষে তিনি আবার পাকিস্তানে যেতে পারেন বলে জানিয়েছে ইরানের বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি। এরপর তাঁর রাশিয়া যাওয়ার কথা রয়েছে।
মেহর নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, আরাগচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের একটি অংশ পাকিস্তান থেকে তেহরানে ফিরে গেছেন। তাঁরা যুদ্ধ শেষ করা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নেওয়ার জন্য সেখানে গেছেন। আগামীকাল রোববার রাতে ইসলামাবাদে আবার তাঁদের আরাগচির সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে ইরান যুদ্ধ নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত���রী শাহবাজ শরিফ এবং পাকিস্তানের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন আব্বাস আরাগচি। তবে কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি ছাড়াই ইসলামাবাদ ত্যাগ করেন তিনি।
এদিকে আরাগচি ইসলামাবাদ ত্যাগ করার পর শনিবার মার্কিন দুই দূতের পাকিস্তান সফরও বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন একটি প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে ‘যারা বর্তমানে ক্ষমতায় আছেন’ তাঁদের সঙ্গে চুক্তি করতে তিনি প্রস্তুত। শুক্রবার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
ইরানের নেতৃত্বের দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা নিজেদের মধ��যে মারামারি করছে। সেখানে প্রচুর অভ্যন্তরীণ কোন্দল চলছে। সম্ভবত অনেক ক্ষেত্রে তারা নেতৃত্বের জন্য লড়াই করছে। তবে আমার মনে হয়, তারা নেতা না হওয়ার জন্য লড়াই করছে। কারণ, আমরা তাদের দুই স্তরের নেতাদের শেষ করে দিয়েছি।’
যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা (ইরান) যখন চাইবে আমাকে ফোনকল করতে পারে। সব কার্ড এখন আমাদের হাতে। আমরাই সবকিছুতে জিতেছি।’
ট্রাম্প বলেন, ‘ওরা (ইরান) আমাদের একটা প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। সেটি আরও ভালো হওয়া উচিত ছিল। মজার বিষয় হলো, আমি যখন (পাকিস্তানে দূত পাঠানো) বাতিল করলাম, তার ১০ মিনিটের মধ্যেই আমরা নতুন একটা প্রস্তাব পেলাম। সেটি আগের চেয়ে অনেক ভালো ছিল। আমরা এ কথা বলেছি যে তাদের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। খুবই সহজ হিসাব... তারা অনেক কিছুরই প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না।’
যুদ্ধবিরতি চালিয়ে যাবেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এ নিয়ে এখনো চিন্তাও করিনি।’
বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরানের ‘চূড়ান্ত কৌশল’। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজি���ি) বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম টেলিগ্রাম চ্যানেলে এ কথা জানিয়েছে ।
আইআরজিসি টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া বিবৃতিতে বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করা এবং এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও হোয়াইট হাউসের সমর্থকদের ওপর এর প্রতিরোধমূলক প্রভাবের ছায়া বজায় রাখাই ইরানের চূড়ান্ত কৌশল।’
সূত্র: আল-জাজিরা
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তাঁর তিন দেশীয় কূটনৈতিক সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে ওমানে পৌঁছেছেন। তাঁর এই সফরে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র— উভয় পক্ষের জন্য বার্তা রয়েছে।
ওমানে পৌঁছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে আরাগচি লেখেন, তাঁর ‘পাকিস্তান সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। ... আমাদের অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য দেশটির (পাকিস্তানের) ভ্রাতৃপ্রতিম প্রচেষ্টাকে আমরা অত্যন্ত মূল্যায়ন করি।’
তবে আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত নিরসনে ওয়াশিংটনের আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন আরাগচি। তিনি পোস্টে লিখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতির বিষয়ে সত্যিই কতটা আন্তরিক, তা দেখার এখনো বাকি আছে।’
আরাগচি এমন এক সময়ে এ মন্তব্য করলেন, যার কিছুক্ষণ আগে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার উদ্দেশ্যে মার্কিন প্রতিনিধি দলের পূর্বনির্ধারিত পাকিস্তান সফর বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন ডিসির স্থানীয় সময় আজ শনিবার সকালে তিনি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে এ খবর জানান।
ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, ‘আমার প্রতিনিধি যারা যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, কিছুক্ষণ আগে আমি তাঁদের বললাম, না, আপনাদের সেখানে যাওয়ার জন্য ১৮ ঘণ্টার দীর্ঘ ফ্লাইট ধরার দরকার নেই। সব কার্ড এখন আমাদের হাতে। তারা যখন খুশি আমাদের কল করতে পারে। কিন্তু স্রেফ অর্থহীন আলোচনা করার জন্য আপনারা আর ১৮ ঘণ্টা উড়ে সেখানে যাবেন না।’
আরাগচি তাঁর প্রতিনিধি দল নিয়ে ইসলামাবাদ ছাড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। গতকাল রাতে একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে ইসলামাবাদে আসেন আরাগচি। সেখান থেকে তাঁর ওমান ও রাশিয়া যাওয়ার কথা ছিল।
আজ সকালে আরাগচি তাঁর প্রতিনিধি দল নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে পৃথক বৈঠক শেষে ইসলামাবাদ ত্যাগ করেন। বৈঠকে তাঁরা সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে ইরানের নীতিগত অবস্থান ও আপত্তি পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট গতকাল শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার শনিবার সকালে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন।... ইরানিরা সরাসরি কথা বলতে চায় এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট কূটনীতিকে একটি সুযোগ দিতে চান।’
ইরানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করার জন্য মার্কিন প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ সফর করছে, গতকাল লেভিট এমন দাবি করলেও তেহরান তা অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে, আপাতত তাদের মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা নে��।
ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার উদ্দেশ্যে মার্কিন প্রতিনিধি দলের পূর্বনির্ধারিত পাকিস্তান সফর বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ শনিবার সকালে তিনি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে এ খবর জানান।
ইরানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করার জন্য মার্কিন প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ সফর করছে, গতকাল লেভিট এমন দাবি করলেও তেহরান তা অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে, আপাতত তাদের মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা নেই।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্ব ইরানের একটি প্রতিনিধি দল গতকাল রাতে ইসলামাবাদ আসেন। তাঁরা আজ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে ইসলামাবাদ ত্যাগ করেন। বৈঠকে তাঁরা সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে ইরানের নীতিগত অবস্থান ও আপত্তি পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছেন।
সূত্র: আল-জাজিরা ও ফক্স নিউজ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বাধীন ইরানের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদ ছেড়েছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করছেন প্রতিনিধি দলটি।
আল–জাজিরার খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বন্ধ করতে তেহরানের দাবির আনুষ্ঠানিক তালিকা পাকিস্তানি নেতাদের কাছে হস্তান্তর করেছে আরাগচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল।
এর আগে ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলটি পাকিস্তান ছাড়াও, ওমান ও রাশিয়া সফর করবে।
এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট গতকাল জানিয়েছিলেন, আজ শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে পৌঁছাবে। প্রতিনিধিদলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকভ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার থাকবেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, জোরদার সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান সরকার।
তেহরানের তথ্য অনুযায়ী, আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের প্রচেষ্টার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং আলোচনার আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
আব্বাস আরাগচি ‘যুদ্ধ সমাপ্ত করার ক্ষেত্রে ইরানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন’।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন প্রতিনিধিদের পাকিস্তান সফর শুরুর আগে তেহরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন যুদ্ধ থেকে একটি ‘সম্মানজনক’ প্রস্থানের পথ খুঁজছে। আজ শনিবার ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই মন্তব্য করে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে ইরানের সংবাদমাধ্যম ইসনা (আইএসএনএ) বলেছে, ‘বর্তমানে আমাদের সামরিক শক্তি একটি প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছে। শত্রু এখন যুদ্ধের এ চোরাবালি থেকে বাঁচতে এক সম্মানজনক প্রস্থানের পথ খুঁজছে, যেখানে তারা আটকা পড়েছে।’
মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনার বর্তমানে ইসলামাবাদের পথে রয়েছেন। এমন এক সময়ে ইরানের পক্ষ থেকে এই কঠোর মন্তব্য এল। যদিও ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনার পরিকল্পনা দেশটির নেই।
তথ্যসূত্র: জিও নিউজ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর পাকিস্তানের রাজধানীর সর্বশেষ কিছু চিত্র এখানে তুলে ধরা হলো।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার আজ শনিবারই পাকিস্তান�� পৌঁছাবেন। খবর সিএনএনের।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করতে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাতি এবং পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।
মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুই মন্ত্রীই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার বিষয়ে আশা ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা আশা করছেন, এ আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে, যা একটি স্থিতিশীল যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করবে, উত্তেজনা কমাবে ও বর্তমান সংঘাত বন্ধের পরিবেশ তৈরি করবে।
আলাপে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেলাতি আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি তিনি আঞ্চলিক দেশগুলোর, বিশেষ করে আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়টি সমাধানের ওপরও জোর দেন।
পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএফ) ও চিফ অব আর্মি স্টাফ (সিওএএস) ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইসলামাবাদে অবস্থিত ইরান দূতাবাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং ���িরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও তাঁরা একমত হয়েছেন।
ইরান দূতাবাস জানিয়েছে, ইসলামাবাদ ও তেহরানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুহাম্মদ আসিম মালিক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি উপস্থিত ছিলেন।
ইরানি প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির সঙ্গে আরও ছিলেন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি, রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোকাদ্দাম ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
ইরানের ইয়াজদ প্রদেশের একটি আবাসিক এলাকায় মাটির গভীরে পুঁতে থাকা অবিস্ফোরিত ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। দেশটির সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলা চলাকালে নিক্ষিপ্ত এ শক্তিশালী বোমাটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানলেও বিস্ফোরিত হয়নি। এটি আবাসিক এলাকার প্রায় ১৩ মিটার (প্রায় ৪৩ ফুট) মাটির নিচে ঢুকে গিয়েছিল।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং স্থানীয় বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যরা যৌথভাবে এ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করেন। কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই বোমাটি সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার একটি বড় অংশ এখনো অব্যবহৃত রয়ে গেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’ এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালাই-নিক বলেন, ইরান বর্তমানে উচ্চপর্যায়ের রক্ষণাত্মক ও পাল্টা আঘাত হানার প্রস্তুতি বজায় রেখেছে।
মুখপাত্র তালাই-নিক বলেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে ইরান বর্তমানে ১ হাজারেরও বেশি ধরনের অস্ত্র উৎপাদন করছে। তিনি আরও বলেন, দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান এ অস্ত্র উৎপাদনে সহায়তা করছে। এমনকি ক��নো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও উৎপাদন প্রক্রিয়া থেমে থাকবে না।
হরমুজ প্রণালি সম্পর্কে মুখপাত্র বলেন, এটি ইরানের ‘নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার’। এ প্রণালি ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান পার্শ্ববর্তী জলসীমার পরিস্থিতির ওপর প্রভাব বিস্তার করে আসছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নমনীয়তা প্রদর্শন করেছেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেছেন, তেহরান এখন সরাসরি আলোচনায় বসতে আগ্রহী।
এ আলোচনার অংশ হিসেবে মার্কিন কর্মকর্তা জারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের পাকিস্তান সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো (সরাসরি) বৈঠকের পরিকল্পনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। ইরানের অবস্থা��� পাকিস্তানের মাধ্যমেই জানিয়ে দেওয়া হবে।’
মুখপাত্র নিশ্চিত করেন, মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বর্তমানে ইসলামাবাদে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন।
ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ তেহরানকে নতুন করে এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
কাৎজ জানিয়েছেন, হামলার জন্য ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ‘সবুজ সংকেত’ পাওয়ার অপেক্ষায় আছে সেনাবাহিনী। কাৎজের এ মন্তব্যকে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, সম্ভাব্য যেকোনো হামলার লক্ষ্য হবে ইরানের সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া।
কাৎজের ব্যবহৃত শব্দগুলো থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এই অভিযানের সামরিক ফলাফল হবে সুদূরপ্রসারি।
আঞ্চলিক চরম উত্তেজনার মধ্যে কাৎজ দাবি করেন, ইসরায়েলি বাহিনী উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। যেকোনো ধরনের রক্ষণাত্মক বা আক্রমণাত্মক পরিস্থিতির জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, প্রধান মিত্র ওয়াশিংটনের সঙ্গে চূড়ান্ত সমন্বয় সাপেক্ষে সব ধরনের সামরিক পথই খোলা রাখা হয়েছে।
বক্তব্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে জড়িয়ে কাৎজের মন্তব্যগুলোকে বিশ্লেষকেরা তেহরানের ওপর রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ বৃদ্ধির কৌশল হিসেবে দেখছেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ও ইসরায়েলের উত্তর ফ্রন্টের মতো সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ ধরনের কঠোর বার্তার উদ্দেশ্য হলো ইরানকে দমানো।
ইরান সংশ্লিষ্ট প্রায় ৩৪ কোটি ৪০ লাখ (৩৪৪ মিলিয়ন) ডলার মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল শুক্রবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এ তথ্য জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে ওয়াশিংটন এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট বলেন, ‘তেহরানের তহবিল গঠন, স্থানান্তর এবং দেশে টাকা ফিরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা ধ্বংস করতে মার্কিন অর্থ বিভাগ কাজ চালিয়ে যাবে।’ তিনি জানান, ইরান সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু ডিজিটাল ওয়ালেটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে এসব তহবিল জব্দ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরান ছদ্মবেশী প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের মতো প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি ডিজিটাল মুদ্রার মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। ওয়াশিংটন উভয় পথ বন্ধ করতে চাইছে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন ডিজিটাল অ্যাসেট এক্সচেঞ্জসহ (ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনাবেচার মাধ্যম) আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছে অর্থ বিভাগ।
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বৃদ্ধি করা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ ঘোষণার একদিন পার না হতেই দুই পক্ষ আবার পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়েছে।
গতকাল শুক্রবার দিনভর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের মধ্যে এ লড়াই চলে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের ইয়াতের ও কাফরা শহরে হিজবুল্লাহর রকেট লঞ্চার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এসব রকেট লঞ্চার ইসরায়েলি সেনা ও সাধারণ নাগরিকদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের রামিয়াহ এলাকায় ইসরায়েলের একটি সাঁজোয়া যান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, দক্ষিণ লেবাননে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস করার জবাবে তারা এ হামলা চালিয়েছে।
হিজবুল্লাহর দাবি, ইসরায়েল ঘরবাড়ি ধ্বংস করে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে ঘোষণার পর থেকেই উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আসছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, লেবানন থেকে আসা ‘যেকোনো হুমকির’ বিরুদ্ধে ইসরায়েল হামলা চালিয়ে যাবে। যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার ইসরায়েলের রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে হিজবুল্লাহর দাবি, ইসরা���েল লেবাননের ভূখণ্ডে হামলা অব্যাহত রাখায় এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির এখন আর কোনো অর্থ নেই।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ-অবরোধ এখন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। গতকাল শুক্রবার তিনি বলেন, তেহরানের সামনে এখনো ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি ‘ভালো চুক্তিতে’ আসার সুযোগ রয়েছে।
সাংবাদিকদের হেগসেথ বলেন, ‘আমাদের অবরোধের পরিধি বাড়ছে এবং এটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। মার্কিন নৌবাহিনীর অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে এখন বিশ্বের কোথাও কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারছে না।’
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এ মন্তব্যের মধ্যেই রয়টার্স জানিয়েছে, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শিগগিরই শান্তি আলোচনা শুরু হতে পারে। পাকিস্তানের তিনটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
শীর্ষ মার্কিন জেনারেল ড্যান কেইনকে পাশে নিয়ে হেগসেথ আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে যুক্তরাষ্ট্র ‘উদ্বিগ্ন নয়’। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সুর টেনে তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের সামনে এখনো বুদ্ধিমত���তার পরিচয় দেওয়ার ও আলোচনার টেবিলে আসার সুযোগ রয়েছে। তাদের শুধু অর্থবহ ও যাচাইযোগ্য উপায়ে পারমাণবিক অস্ত্রের পথ ত্যাগ করতে হবে।’
এদিকে জেনারেল ড্যান কেইন জানান, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের সব বন্দরে কঠোর অবরোধ বজায় রেখেছে। গতকাল সকাল পর্যন্ত ৩৪টি জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরেও ইরানি জাহাজগুলো বাধা দেওয়া অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
কেইন বলেন, ‘ইরানের কোনো বন্দর বা ভূখণ্ডে যাতায়াতকারী যেকোনো দেশের জাহাজের ক্ষেত্রে আমরা এই অবরোধ কঠোরভাবে কার্যকর করছি। যেসব জাহাজ ইরানের দিকে যাচ্ছে বা ইরান থেকে বের হচ্ছে, সেগুলোর ওপর আমরা তীক্ষ্ণ নজর রাখছি এবং প্রয়োজনে গতিরোধ করার জন্য প্রস্তুত আছি।’
উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এই নৌ-অবরোধ শুরু হয়। হেগসেথ সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসানোর চেষ্টা করে, তবে তা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
হেগসেথ অভিযোগ করেন, ইরানের অস্ত্রধারী ছোট ও দ্রুতগামী নৌযানগুলোর দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে এই পথে জাহাজ চলাচল এখন অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
ইরানের একটি বন্দরে যাওয়ার পথে ইরানি পতাকাবাহী জাহাজের গতিরোধ ও সেটি জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা’ (ডিডিজি ১১৫)।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার জাহাজটি যখন ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাচ্ছিল, তখন সেটিকে বাধা দেওয়া হয়।
সমুদ্রপথে থাকা ইরান ও রাশিয়ার জ্বালানি তেল কেনার ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে বিশেষ ছাড় দিয়েছিল, তার মেয়াদ আর নবায়ন করা হবে না। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।
স্কট বেসেন্ট বলেন, সমুদ্রপথে থাকা ইরানি তেলের ক্ষেত্রে ছাড়ের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়টি পুরোপুরি অসম্ভব বা আলোচনার বাইরে। তিনি বলেন, ‘ইরানিদের জন্য কোনো ছাড় নেই। (ইরানের বন্দরে) আমাদের অবরোধ চলছে এবং সেখান থেকে কোনো তেল বের হচ্ছে না।’
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি লেখেন, ইসলামাবাদে ইরানের পর্যবেক্ষণ বা বক্তব্যগুলো পাকিস্তানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
এক্সে ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। তিনি পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই বৈঠকটি মূলত ‘যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ বন্ধ এবং এই অঞ্চলে শান্তি পুনরুদ্ধারে’ পাকিস্তানের চলমান মধ্যস্থতা ও প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি বার্তা আদানপ্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রামে এ তথ্য জানিয়েছে।
আইআরআইবির তথ্য অনুযায়ী, ইসলামাবাদ কেবল দুই পক্ষের মধ্যে একটি ‘সেতুবন্ধন’ হিসেবে কাজ করতে পারে। তাদের কাজ হতে পারে ‘সংঘাত নিরসনে ইরানের বিবেচনাধীন বিষয়গুলো’ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
এর আগে হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছিল যে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ইসলামাবাদে যাবেন। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান সরাসরি কথা বলতে চেয়েছে।
আব্বাস আরাগচি শুক্রবার রাতে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানি দূতাবাস জানিয়েছে, ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো’ পর্যালোচনা করার পরিকল্পনা করছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এদিকে পাকিস্তানের একজন সরকারি কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে বৈঠক করবে। যদি এই বৈঠকগুলো সফল হয়, তবেই মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা আগামী রোববার সরাসরি বৈঠকে বসবেন।
পাকিস্তানে পৌঁছেছে ইরানের প্রতিনিধি দল। মার্কিন প্রতিনিধিরাও ইসলামাবাদের পথে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনা আবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি পূরণ হয়—এমন প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে তেহরান।
রয়টার্সকে টেলিফোনে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা একটি প্রস্তাব দিচ্ছে এবং আমাদের দেখতে হবে সেটি কেমন হয়।’ তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবটি ঠিক কী হবে তা তিনি এখনো জানেন না। তবে ট্রাম্প শুরু থেকেই বলে আসছেন যে যেকোনো চুক্তিতে ইরানকে অবশ্যই তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। আর মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ইরানের নেতৃত্ব বিভক্ত হয়ে পড়েছে। শুক্রবার যখন ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়—যুক্তরাষ্ট্র আসলে কার সঙ্গে আলোচনা করছে, তখন ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সেটা বলতে চাই না, তবে বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছে, আমরা তাদের সঙ্গেই আলোচনা করছি।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ইরানের প্রতিনিধিদলের ইসলামাবাদে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে একটি বিবৃতি দিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখানে বৈঠকের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের পৌঁছানোর পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরসহ দেশটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানে সর্বশেষ আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ‘আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার চলমান প্রচেষ্টা’ নিয়ে আলোচনা হবে।
এদিকে আগামীকাল শনিবার ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা রয়েছে মার্কিন প্রতিনিধিদলের। তাঁদের সঙ্গে ইরানের প্রতিনিধিদলের বৈঠক হবে কি না, তা পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।
আলোচনার জন্য পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আজ শুক্রবার রাতে তিনি ইসলামাবাদে পৌঁছান বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা আল-জাজিরাকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে টানাপোড়েনের দুই পক্ষের ‘বড় ধরনের সমঝোতা হওয়ার বড় সম্ভাবনা’ রয়েছে।
এর আগে ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ‘এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো দ্বিপক্ষীয় আলোচনা, বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং ইরানবিরোধী ইসরায়েলি শাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা।’
যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় অংশ নিতে শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা করবেন। শুক্রবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এ খবর নিশ্চিত করেন।
লেভিটি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করে বলছি, আলোচনার উদ্দেশ্যে বিশেষ দূত উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার আগামীকাল সকালে আবারও পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা দেবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের (ট্রাম্প) আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইরানিরা এই সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা আশাবাদী, এটি একটি ফলপ্রসূ আলোচনা হবে এবং চুক্তির পথে এগোবে।’
এর আগে গত ১১ ও ১২ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি বৈঠক হয়েছিল। প্রায় ২১ ঘণ্টার সেই বৈঠক সমঝোতা ছাড়া শেষ হয়েছিল। তখন মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে এবার তিনি থাকছেন না।
লেভিট জানান, ভ্যান্স এখনো পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন। তবে আপাতত তিনি যাচ্ছেন না।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি বলেন, ‘প্রয়োজন হলে যেকোনো মুহূর্তে পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য সবাই প্রস্তুত রয়েছেন।’
ট্রাম্পের ব্যবসায়িক সহযোগী থেকে বৈশ্বিক আলোচক হওয়া উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা কুশনার গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলে যৌথ হামলার ঠিক আগমুহূর্ত পর্যন্ত তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছিলেন। হামলার পর তেহরান তাঁদের বিরুদ্ধে ‘প্রতারণার’ অভিযোগ আনে।
পাকিস্তানে প্রথম দফার আলোচনা শেষে ভ্যান্স জানিয়েছিলেন, পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে।
গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে প্রাথমিকভাবে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়। ২২ এপ্রিল এ যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে তা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এই সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠেয় আলোচনায় অংশ নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারকে পাকিস্তানে পাঠাচ্ছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের দুজন কর্মকর্তা সিএনএনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আপাতত এই সফরে থাকছেন না। কারণ ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন না।
হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে গালিবাফকে ইরানি প্রতিনিধি দলের প্রধান এবং ভ্যান্সের সমমর্যাদার প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তবে কর্মকর্তারা আরও জানান, আলোচনার অগ্রগতি হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট যেকোনো সময় ইসলামাবাদ যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। এ ছাড়া তাঁর দপ্তরের কর্মীরা পাকিস্তানে অবস্থান করবেন এবং আলোচনায় অংশ নেবেন।
গত ১১ ও ১২ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি বৈঠক হয়েছিল। প্রায় ২১ ঘণ্টার সেই বৈঠক সমঝোতা ছাড়া শেষ হয়েছিল। এই বৈঠকে ইরানের প্রতিনিধি দলের অন্যতম প্রধান আলোচক ছিলেন গালিবাফ। আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের প্রধান আলোচক ছিলেন ভ্যান্স। মার্কিন প্রতিনিধি দলে অন্যান্যদের মধ্যে উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা কুশনারও ছিলেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েকটি পরোক্ষ বৈঠক হয়েছিল। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওমানের মধ্যস্থতায় হওয়া এসব বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন উইটকফ ও কুশনার।
তথ্যসূত্র: সিএনএন ও আল-জাজিরা
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে গত ২ মার্চ সংঘাত শুরুর পর থেকে লেবাননে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৪৯১ জনে দাঁড়িয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আজ শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এই সময়ের মধ্যে ইসরায়েলি হামলায় আরও ৭ হাজার ৭১৯ জন আহত হয়েছেন।
বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করতে ইসলামাবাদ, মাসকাট ও মস্কোর পথে ‘সময়োপযোগী’ এক সফরে বের হয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
কাতারের রাজধানী দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি আল-জাজিরাকে বলেন, আরাগচির এই সফরের মস্কো অংশটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তার মতে, তেহরান এখন রাশিয়ার কাছ থেকে বড় ধরনের সমর্থন প্রত্যাশা করছে, বিশেষ করে জাতিসংঘে।
এলমাসরি বলেন, ‘ইরানিরা রাশিয়ার সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে পারে। ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া ১০ দফা দাবির একটিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে। এমন এক প্রস্তাব, যেখানে ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আর কোনো হামলা হবে না বলে নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।’
এই সফরে সামরিক সহযোগিতার বিষয়টিও আলোচনার টেবিলে থাকতে পারে জানিয়ে এলমাসরি বলেন, ‘রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং ইরানকে অস্ত্র সরবরাহের বিষয়েও বিভিন্ন খবর পাওয়া যাচ্ছে।’
তবে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়ে গেছে বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত দেখে মনে হচ্ছে না, কোনো পক্ষই বড় কোনো আপস করতে রাজি আছে।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আজ রাতে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এ কথা জানিয়েছে।
মেহর নিউজের ��্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ রাতে ইসলামাবাদ যাবেন। এরপর তিনি ওমানের মাস্কাট এবং রাশিয়ার মস্কো সফর শুরু করবেন।
মেহর নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো দ্বিপক্ষীয় আলোচনা, বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং ইরানবিরোধী ইসরায়েলি শাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা।’
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ইরানের সামনে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে। তারা চাইলে একটি ভালো ও চৌকস চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে আজ শুক্রবার এক যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে হেগসেথ এ কথা বলেন। ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের আর্লিংটনে অবস্থিত পেন্টাগনে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
হেগসেথ জানান, ইরানি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের কারণে এ পর্যন্ত অন্তত ৩৪টি জাহাজকে ফেরত পাঠা��ো হয়েছে।
তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবরোধ আরও কঠোর হচ্ছে। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে। এখন আর কোনো কিছুই (ইরানের বন্দরের) ভেতরে ঢুকবে না বা বাইরে আসবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই অবরোধ কেবল বিস্তৃত হচ্ছে না, বরং এটি এখন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে।’
হেগসেথ সাফ জানিয়ে দেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরে মার্কিন অবরোধ বজায় থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে অফুরন্ত সময় আছে এবং আমরা চুক্তি করার জন্য মোটেও উদ্বিগ্ন বা তাড়াহুড়ো করছি না।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে দেশটির একটি প্রতিনিধি দল আজ শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারে। পাকিস্তানের কয়েকটি সরকারি সূত্র আল-জাজিরাকে এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রগুলোর ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতির ‘প্রবল সম্ভাবনা’ রয়েছে।
এর আগে আজ দিনের শুরুতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার টেলিফোনে কথা বলেছেন। উভয় পক্ষ এ খবর নিশ্চিত করেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফোনে দুই নেতা আঞ্চলিক পরিস্থিতি, যুদ্ধবিরত��� ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পৃক্ততার প্রেক্ষাপটে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইসহাক দার নিরবচ্ছিন্ন আলোচনার ওপর গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে, আরাগচি পাকিস্তানের ‘ধারাবাহিক ও গঠনমূলক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকার’ প্রশংসা করেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, আরাগচি আজ পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গেও পৃথকভাবে ফোনে কথা বলেছেন। তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এই ফোনালাপের বিষয়ে কোনো তথ্য নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গত ১১ ও ১২ এপ্রিল প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনা হয়। কিন্তু কোনো সমঝোতা ছাড়া তা শেষ হয়। এরপর দেশ দুটির মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য চেষ্টা করছে প্রধান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ।
দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ ও পাশের শহর রাওয়ালপিন্ডিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইসলামাবাদে দুটি হোটেল বুকিং দিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অপরাধে দ্বিতীয় দফায় আলোচনা বসতে ইরান এ পর্যন্ত রাজি হয়নি।
কিন্তু আলোচনার প্রস্তুতি হিসেবে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে অন্তত ৯টি মার্কিন বিমান যোগাযোগ সরঞ্জাম, যানবাহন, নিরাপত্তা কর্মী এবং কারিগরি জনবল নিয়ে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থনীতি শূন্য দশমিক ২ থেকে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইইউর অর্থনীতি ও উৎপাদনশীলতা বিষয়ক কমিশনার ভালদিস ডোমব্রোভস্কিস।
ডোমব্রোভস্কিস বলেন, যুদ্ধের ফলে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। সেই সঙ্গে উড়োজাহাজের জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
এসব কিছুর ফলে ইইউর প্রতিদিন আনুমানিক ৫০ কোটি ইউরো (প্রায় ৫৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার) আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক হওয়া ইরানের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজকে চীনের দেওয়া ‘উপহার’ বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তা প্রত্যাখ্যান করেছে বেইজিং। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছে।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন আজ শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, একটি দেশের সঙ্গে আরেকটি দেশের স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকা উচিত।
গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করছে তারা।
এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান ওই প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের সব বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের নানা দেশে যায়। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথটি পারস্য উপসাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আজ শুক্রবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ও দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ফোনালাপে তাঁরা ‘আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধবিরতি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু’ নি���ে আলোচনা করেছেন।
পৃথক এক প্রতিবেদনে তাসনিম নিউজ জানায়, ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তানের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানির সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন আরাগচি। তাঁরাও আঞ্চলিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি যদি ভেঙে যায়, তবে দেশটির হরমুজ প্রণালির সামরিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে নতুন হামলার পরিকল্পনা করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
এ পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত একাধিক সূত্র সিএনএনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের বিবেচনায় থাকা বেশ কিছু লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে একটি বিশেষ দিক হলো, ইরানের ‘ডায়নামিক টার্গেট’ বা চলন্ত লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালানো।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, মূলত হরমুজ প্রণালি, দক্ষিণ আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরে ইরানের সক্ষমতা ধ্বংস করাই এ পরিকল্পনার লক্ষ্য। বিশেষ করে ইরানের ছোট দ্রুতগামী আক্রমণকারী নৌযান, মাইন স্থাপনকারী জাহাজ ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম; যা ব্যবহার করে তেহরান গুরুত্বপূর্ণ এসব জলপথ বন্ধ করে দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে, সেগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির মধ্যেও এ জলপথ বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
মার্কিন বাহিনী আগে ইরানের নৌবাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করলেও, প্রথম মাসের বোমাবর্ষণ ছিল মূলত হরমুজ প্রণালি থেকে দূরের লক্ষ্যবস্তুগুলোতে। উদ্দেশ্য ছিল, ইরানের মূল ভূখণ্ডের ভেতরে হামলার পথ তৈরি করা। তবে নতুন পরিকল্পনায় এই কৌশলগত জলপথের আশপাশে অনেক বেশি বোমাবর্ষণের কথা বলা হয়েছে।
সিএনএনের আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনো অক্ষত আছে। এছাড়া ইরানের অসংখ্য ছোট নৌযান রয়েছে, যা জাহাজে হামলা চালানোর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। ফলে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার মার্কিন প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
তবে একাধিক সূত্র এবং একজন জ্যেষ্ঠ শিপিং ব্রোকার সিএনএনকে জানিয়েছেন, শুধু হরমুজ প্রণালির আশপাশে হামলা চালিয়েই এ জলপথ তাৎক্ষণিকভাবে উন্মুক্ত করা সম্ভব নয়।
ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, কূটনৈতিক সমাধান না হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক অভিযান শুরু করবে। যদিও বর্তমান ও সাবেক অনেক মার্কিন কর্মকর্তা সতর্ক করেছেন, ইরানে আবারও হামলা চালানো হলে তা সংঘাতকে নতুন করে উসকে দেবে।
হামলার পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণে আমরা ভবিষ্যৎ বা কাল্পনিক কোনো পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করি না। মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রেসিডেন্টকে বিভিন্ন বিকল্প দিয়ে যাচ্ছে এবং সব বিকল্পই এখন আলোচনার টেবিলে রয়েছে।’
সূত্রগুলো আরও জানায়, নতুন করে হামলা শুরু হলে ইরানের অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র, লঞ্চার এবং উৎপাদন কেন্দ্রগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হবে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আগের দফায় মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এবং হাজার হাজার ড্রোন অক্ষত রয়ে গেছে।
গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেছেন, ইরান যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে তাদের কিছু সামরিক সম্পদ নতুন জায়গায় সরিয়ে নিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান চুক্তিতে না এলে এসব স্থানেও হামলা চালানো হবে।
সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আবার যুদ্ধ শুরু করতে আগ্রহী নন এবং তিনি একটি কূটনৈতিক সমাধানই পছন্দ করবেন। তবে একই সঙ্গে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ট্রাম্পের এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য নয়। নির্দেশ পাওয়ামাত্রই মার্কিন বাহিনী আবারও হামলা শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে।
ইরানের তেলক্ষেত্রে কোনো ধরনের হামলা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্রকে সমপরিমাণ পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট। ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সির বরাতে এ খবর জানা গেছে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসমাঈল সাকাব এসফাহানি বলেন, ‘শত্রুপক্ষ যদি আবারও কোনো ভুল করে, তবে আমাদের কৌশল হবে ‘‘চোখের বদলে চোখ’’। আমাদের কোনো তেলকূপে আঘাত করা হলে, যেদেশের মাটি ব্যবহার করে আমাদের ওপর আক্রমণ চালানো হবে, সেই দেশের তেল স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু করা হবে।’
তেহরানের আলোচনা প্রক্রিয়া নিয়ে সাকাব এসফাহানি আরও বলেন, আলোচনার টেবিলে ইরানের প্রতিনিধি দল ‘শত্রুর কলার চেপে ধরেছে’।
দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে ইরানিদের দুশ্চিন্তা না করার পরামর্শ দিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জানান, এ বিষয়ে সব ধরনের ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিভিন্ন তেলক্ষেত্রে হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন। এমনকি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সুপেয় পানির প্ল্যান্টগুলো ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ারও বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশগুলোর জন্য মাশুল বা ফি মওকুফ করেছে ইরান। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি সংবাদ সংস্থাটিকে বলেন, ‘আমরা কিছু নির্দিষ্ট দেশের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করেছি। ভবিষ্যতে কী হবে তা আমি জানি না।’
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বর্তমানে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জন্য এ বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। এর একটি উদাহরণ হলো রাশিয়া।
ইরাকে ইরান–সমর্থিত একটি মিলিশিয়া গোষ্ঠীর প্রধানের খোঁজ দিতে ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির আওতায় ক��তায়েব সাইয়্যেদ আল-শুহাদা নামের গোষ্ঠীর এ নেতার বিরুদ্ধে এই নোটিশ জারি করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, হাশিম ফিনিয়ান রহিম আল-সরাজি ওই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর দলের বিরুদ্ধে ইরাকি বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা ও ইরাকে থাকা মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ইরাক এবং সিরিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সেনাদের ওপর হামলার পেছনেও কাতায়েব সাইয়্যেদ আল-শুহাদাকে দায়ী করেছে ওয়াশিংটন।
২০১৪ সালে মসুলের পতনের পর ইরাকে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস’ গঠিত হয়, যারা আইএসকে পরাজিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইরাকের এমন বেশ কিছু ইরান–সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীর মধ্যে কাতায়েব সাইয়্যেদ আল-শুহাদা অন্যতম।
ওমান সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করার চেষ্টা ব্যর্থ করে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে বন্দরে পৌঁছেছে একটি ইরানের পণ্যবাহী জাহাজ। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ জানিয়েছে, চালবাহী জাহাজটিকে পাহারা দিয়ে নিয়ে আসে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ-ইউনিট। মূলত মার্কিন বাহিনীর কব্জা থেকে জাহাজটিকে রক্ষা করতেই এই বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।
ইরানের রাজধানী তেহরানের আকাশে ‘শত্রু লক্ষ্যবস্তু’ শনাক্ত হওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার শহরের বিভিন্ন অংশে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আকাশে সন্দেহভাজন কিছু লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানায়, রাজধানীর আকাশে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে কাজ শুরু করে। পাশাপাশি নূর নিউজও নিশ্চিত করেছে যে, শহরের বেশ কয়েকটি স্থানে প্রতিরক্ষা ব্যাটারিগুলো সক্রিয় করা হয়েছে।
তবে এ হুমকির ধরন সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই তেহরানে এ ঘটনা ঘটল।
ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে দেশটিকে ধ্বংস করে দেওয়ার মতো ভয়ানক হামলার হুমকি দিলেও এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এলেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, কোনো অবস্থাতেই পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘পরমাণু অস্ত্র যাতে কেউ কোনোভাবে ব্যবহার করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।’
এর আগে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানি সভ্যতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হবে। তবে তাঁর নতুন মন্তব্য সেই আগের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী মজুত থাকা সামরিক সরঞ্জামের একটি বড় অংশ শেষ হয়ে গেছে।
প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন এশিয়া ও ইউরোপীয় কমান্ড থেকে সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যদিও হোয়াইট হাউস এ পর্যন্ত যুদ্ধের সঠিক ব্যয় নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক হিসাব দেয়নি, তবে দুটি স্বতন্ত্র সংস্থা জানিয়েছে যে, ইরান যুদ্ধের পেছনে প্রতিদিন ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ মোট ব্যয়ের পরিমাণ ২৮ বিলিয়ন (২ হাজার ৮০০ কোটি) থেকে ৩৫ বিলিয়ন (৩ হাজার ৫০০ কোটি) ডলার।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের যে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রগুলোর মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে, তার মধ্যে রয়েছে প্রিসিশন-স্ট্রাইক মিসাইল (নির্ভুল নিশানায় আঘাতকারী ক্ষেপণাস্ত্র), এটিএসিএমএস ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইল।
মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগোচ্ছে। রণতরিটি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করেছে। সেন্ট্রাল কমান্ড এই তথ্য জানিয়েছে।
সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে রণতরির একটি ছবি শেয়ার করেছে। এতে দেখা যায়, নিমিটজ শ্রেণির এই সুপারক্যারিয়ারটি ভারত মহাসাগরে চলাচল করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকে থাকা মার্কিন জাহাজগুলোর সঙ্গে এই রণতরিটি যোগ দেবে, নাকি কোনো একটি জাহাজের পরিবর্তে আসছে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। যদিও কিছু গণমাধ্যম এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
এর আগে সেন্টকম জানায়, বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড বর্তমানে লোহিত সাগরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের অধীনে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করছে।
হোয়াইট হাউসে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের বৈঠকটি ‘খুব ভালো হয়েছে’ বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি আরও জানিয়েছেন, লেবাননের যুদ্ধবিরতি তিন সপ্তাহের জন্য বাড়ানো হবে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি অদূর ভবিষ্যতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বিবি নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনকে আতিথেয়তা দেওয়ার জন্য অপেক্ষায় আছি। এই অত্যন্ত ঐতিহাসিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করা আমার জন্য বড় সম্মানের বিষয় ছিল!’
কুয়েত সরকার ঘোষণা করেছে, দেশটির দুই এয়ারলাইনস—কুয়েত এয়ারওয়েজ ও জাজিরা এয়ারওয়েজ—আগামী রোববার থেকে পুনরায় ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে।
সরকারি যোগাযোগ কেন্দ্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে এক ডজনেরও বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পুনরায় চালুর তালিকা প্রকাশ করেছে।
কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বৃহস্পতিবার থেকে খুলে দেওয়ার ঘোষণার পরই এই সিদ্ধান্ত এলো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিমান চলাচলে সাময়িক ও সতর্কতামূলক স্থগিতাদেশের পর এই বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ইরানের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করেন।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ‘প্রায় ৭৫ শতাংশ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে’।
যুদ্ধ আগে দেওয়া তাঁর চার থেকে ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হওয়ার দাবির বিষয়ে সাংবাদিকরা চাপ দিলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমিও সামান্য বিরতি নিয়েছিলাম। আমি সবচেয়ে ভালো চুক্তিটি করতে চাই, আমি এখনই একটি চুক্তি করতে পারি। তাদের পুনর্গঠন করতে ২০ বছর সময় লাগবে, কিন্তু আমি তা করতে চাই না।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি এর ওপর তেমন কোনো সময়সীমা চাপিয়ে দিতে চাই না, তবে এটি খুব দ্রুতই ঘটবে এবং আমরা হরমুজ প্রণালী খুলে দেব।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইরানিরা আমাদের কাছে এসে বলেছিল, আমরা প্রণালীটি খুলে দিতে রাজি আছি এবং এতে আমার সব লোকজন খুশি হয়েছিল। আমি ছাড়া প্রত্যেকেই খুশি ছিল। আমি বললাম, এক মিনিট দাঁড়ান, যদি আমরা প্রণালীটি খুলে দিই, তবে এর মানে হলো তারা প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন (৫০ কোটি) ডলার আয় করবে। এই সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমি চাই না তারা প্রতিদিন ৫০ কোটি ডলার আয় করুক। তাই আমিই এটি বন্ধ রেখেছি।’
মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের জন্য মার্কিনিদের নিকট ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের চড়া দামের জন্য প্রস্তুত থাকতে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের হুমকি শেষ করা এবং দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সম্ভাবনা বন্ধ করার জন্য এটি একটি ছোট মূল্য মাত্র।
ট্রাম্প বলেন, ভোক্তাদের “অল্প সময়ের জন্য” বাড়তি খরচের মুখোমুখি হতে হবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির সময় ইরান হয়তো তাদের সামরিক সক্ষমতা কিছুটা পুনর্গঠন করেছে, তবে মার্কিন বাহিনী দ্রুতই তা অকার্যকর করে দিতে পারে।
“তাদের নৌবাহিনী শেষ। তাদের বিমানবাহিনী শেষ, তাদের বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থাও শেষ... হয়তো এই দুই সপ্তাহের বিরতিতে তারা কিছুটা রসদ মজুত করেছে, তবে যদি তারা তা করেও থাকে, আমরা এক দিনেই তা গুঁড়িয়ে দেব,” তিনি বলেন।
দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, তাঁর কোনো তাড়া নেই।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাকে তাড়াহুড়ো করতে বলবেন না।’
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
ইরানের সঙ্গে যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে নিজের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘উপযুক্ত এবং লাভজনক’ না হওয়া পর্যন্ত তেহরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় যাবে না ওয়াশিংটন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোতে ইরান যুদ্ধের কাভারেজ নিয়ে ক্ষোভ ঝেড়ে ট্রাম্প বলেন, অনেকে ধারণা করছেন তিনি যুদ্ধ শেষ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এই ধারণাকে উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার হাতে অফুরন্ত সময় আছে, কিন্তু ইরানের তা নেই—তাদের সময় ফুরিয়ে আসছে!’
যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে ট্রাম্প আরও আক্রমণাত্মক ভাষায় বলেন, ‘ইরানের নৌবাহিনী এখন সমুদ্রের তলদেশে পড়ে আছে, তাদের বিমানবাহিনী ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তাদের বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা এবং রাডার প্রযুক্তি এখন অতীত। তাদের শীর্ষ নেতারা আর বেঁচে নেই।’
অবরোধের কঠোরতা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের অবরোধ এখন নিশ্ছিদ্র এবং অত্যন্ত শক্তিশালী। এখান থেকে পরিস্থিতি কেবল তাদের জন্য আরও খারাপই হবে—সময় কিছুতেই তাদের পক্ষে নেই!’
ট্রাম্প বলেন, ‘একটি চুক্তি তখনই হবে যখন সেটি যুক্তরাষ্ট্র, আমাদের মিত্র রাষ্ট্রগুলো এবং সর্বোপরি বিশ্বের জন্য যথাযথ ও কল্যাণকর হবে।’
মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের সামরিক শক্তি আরও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে ওই অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরিসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৬টি যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এই অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন দিকে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। ভারত মহাসাগরসহ বিভিন্ন এলাকায় এ পর্যন্ত অন্তত তিনটি জাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে মার্কিন সেনারা। এর মধ্যে দুটি অভিযান চালানো হয় পারস্য উপসাগর থেকে প্রায় ২ হাজার মাইল দূরে ভারত মহাসাগরে।
সবশেষ গত বুধবার রাতে ভারত মহাসাগরে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা একটি তেলবাহী জাহাজে অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, জাহাজটি ইরান থেকে তেল নিয়ে যাচ্ছিল।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) অধীনে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা ১৯টি জাহাজ হলো—
বিমানবাহী রণতরি: ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড।
ডেস্ট্রয়ার: ইউএসএস বেইনব্রিজ, ইউএসএস টমাস হাডনার, ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই পিটারসেন জুনিয়র, ইউএসএস ডেলবার্ট ডি ব্ল্যাক, ইউএসএস মাইকেল মার্ফি, ইউএসএস মিটশার, ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা, ইউএসএস স্প্রুয়েন্স, ইউএসএস মিলিয়াস, ইউএসএস চার্চিল, ইউএসএস ট্রাক্সটন ও ইউএসএস মাহান।
কমব্যাট শিপ: ইউএসএস ক্যানবেরা ও ইউএসএস তুলসা।
অ্যাম্ফিবিয়াস গ্রুপ: ইউএসএস ত্রিপোলি, ইউএসএস নিউ অরলিন্স ও ইউএসএস রাশমোর।
এ ছাড়া ভারত মহাসাগরে আলাদাভাবে আরও সাতটি যুদ্ধজাহাজ টহল দিচ্ছে। যার মধ্যে ইউএসএস জন ফিন, ইউএসএস পিঙ্কনি, ইউএসএস হিগিন্স, ইউএসএস মাস্টিন, ইউএসএস ম্যাকফল, ইউএসএস জন এল. ক্যানলি এবং ইউএসএস সান্তা বারবারা।
সূত্র: সিএনএন
ইরানি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করার অভিযোগে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর (আইএএফ) দুই সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ), অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত এবং পুলিশের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত ওই দুজনের বিরুদ্ধে শত্রুপক্ষকে সহায়��া এবং স্পর্শকাতর তথ্য পাচারের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে এক সেনার বিরুদ্ধে সরাসরি বিদেশি এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগের এবং অন্যজনের বিরুদ্ধে সেই যোগাযোগে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তকারীদের বরাত দিয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, অভিযুক্তরা শুরুতে ইরানের কাছ থেকে অস্ত্র-সংক্রান্ত কোনো কাজ করার প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু তা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তারা ইরানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তবে কর্মকর্তাদের দাবি, পরে ইরানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হলে ওই দুই সেনা পুনরায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেন।ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিযুক্তদের একজন যুদ্ধবিমানের সিস্টেম-সংক্রান্ত সামরিক প্রশিক্ষণ উপকরণ এবং একটি সামরিক ঘাঁটির বিভিন্ন স্থাপনা ও এলাকার ভিডিও চিত্র ইরানি এজেন্টের কাছে পাচার করেছেন।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপনকারী কোনো নৌযান দেখলেই গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কথা জানিয়েছেন।
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‘আমি মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি—হরমুজ প্রণালিতে যারা মাইন বসাচ্ছে, তাদের নৌকা ছোট হলেও যেন গুলি করে ধ্বংস করা হয়।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো দ্বিধাবোধ করা হবে না। তিনি দাবি করেন, মার্কিন ‘মাইন সুইপার’ বা মাইন অপসারণকারী জাহাজগুলো বর্তমানে ওই প্রণালী পরিষ্কার করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ভারত মহাসাগরে অভিযান চালিয়ে ইরানের তেল পরিবহনকারী একটি ‘রাষ্ট্রহীন জাহাজ’ জব্দ করেছে মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গত রাতে ‘এমটি ম্যাজেস্টিক এক্স’ নামের ওই জাহাজটিতে তল্লাশি ও নিয়ন্ত্রণ অভিযান চালানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এই তথ্য জানিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের দাবি, জাহাজটি তাদের ‘ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড’ এলাকার মধ্যে ছিল। মূলত নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এই জাহাজটি ইরানের তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল।
এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘ইরানকে সহায়তা ও বিভিন্ন সরঞ্জাম সরবরাহকারী জাহাজগুলোর পথ রুদ্ধ করতে এবং অবৈধ নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিতে আমাদের বিশ্বব্যাপী অভিযান অব্যাহত থাকবে। তারা যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।’বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক জলসীমাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অপরাধীরা পার পাবে না। জলপথে এসব অবৈধ পক্ষ ও তাদের জাহাজের অবাধ চলাচল রুখতে বদ্ধপরিকর মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।
ইরানের বন্দরে গত ১৩ এপ্রিল থেকে অবরোধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ফাঁকি দিয়ে তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে ইরান।
তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সা জানিয়েছে, গত ১৩ থেকে ২১ এপ্রিলের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এই চালানগুলো মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ করা এলাকা পার হতে সক্ষম হয়েছে।
ছয়টি বড় ট্যাংকারে এসব তেল রপ্তানি করা হয়েছে। ট্যাংকারগুলো তাদের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (এআইএস) বন্ধ করে যাতায়াত করছিল।
অবরোধের বিষয়ে ভরটেক্সা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ইরানি বন্দর বা হরমুজ প্রণালির খুব কাছে কার্যকর করা হচ্ছে না। বরং পাকিস্তান-ইরান সীমান্ত থেকে ওমানের পশ্চিম কোণ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মাইল এলাকায় কিছুটা নমনীয়ভাবে এই অবরোধ চলছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, ১৩ থেকে ২২ এপ্রিলের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ভেঙে মোট ৩৫টি জাহাজ যাতায়াত করেছে। এই তালিকায় ইরান-সংশ্লিষ্ট বা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কিছু মালবাহী জাহাজও রয়েছে।
তবে অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজের সংখ্যা কমেছে। গত ৩০ দিনে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে ৩টি ট্যাংকার যাতায়াত করত, ১৩ থেকে ২১ এপ্রিলের মধ্যে তা কমে ১ থেকে ২টিতে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী গতকাল বুধবার জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধের অংশ হিসেবে তারা এ পর্যন্ত ৩০টিরও বেশি জাহাজকে বন্দরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজিত আসন্ন বিশ্বকাপে ইরানের পরিবর্তে ইতালিকে অন্তর্ভুক্ত করতে ফিফাকে পরামর্শ দিয়েছেন ট্রাম্পের এক শীর্ষ দূত।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোলি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, আমি জন্মগতভাবে ইতালীয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত টুর্নামেন্টে ‘আজুরি’দের দেখাটা হবে স্বপ্নের মতো। চারবারের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এই টুর্নামেন্টে যুক্ত হওয়ার মতো যোগ্যতা তাদের রয়েছে।
গত মার্চে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়ে বড় এক ধাক্কা খায় ইতালির জাতীয় দল।
জাম্পোলি একজন ইতালীয়-আমেরিকান। তিনি ট্রাম্পের গ্লোবাল পার্টনারশিপ-বিষয়ক দূত। তবে বিশ্বকাপ বা ইতালীয় ফুটবলের সঙ্গে তার কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে পোপ লিও’র বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আক্রমণের জেরে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই পরিকল্পনা সেই সম্পর্ক মেরামতের একটি প্রচেষ্টা।
ইতালির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি ইতালীয় সংবাদ সংস্থা লা প্রেসকে বলেছেন, ‘প্রথমত এটি সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত এটি যথাযথ নয়... যোগ্যতা মাঠেই প্রমাণ করতে হয়।’
অর্থমন্ত্রী জিয়ানকারলো জিওরগেত্তি আরও এক ধাপ এগিয়ে এই ভাবনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।
গত মাসে তুরস্কে ইরান দলের একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, সব ম্যাচ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।
হোয়াইট হাউস, ইতালীয় ফুটবল ফেডারেশন এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
ইরানের পেতে রাখা মাইন থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি মুক্ত করতে অন্তত ৬ মাস লাগতে পারে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনের বরাতে গতকাল বুধবার ওয়াশিংটন পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, এ দীর্ঘ সময়ের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও অনেকটা সময় চড়া থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি প্রায় বন্ধ করে রেখেছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের দাম যেমন হু হু করে বাড়ছে, তেমনি বিশ্ব অর্থনীতিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) পাঁচ ভাগের এক ভাগ এ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চললেও যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে এই পথটি কার্যত বন্ধই রয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও সমুদ্রপথটি মাইনমুক্ত করতে কয়েক মাস লেগে যাবে। পেন্টাগন মনে করছে, যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের উদ্ধার অভিযান শুরু করা সম্ভব নয়। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির এক গোপন ব্রিফিংয়ে এই ৬ মাসের কথা জানানো হয়েছে।
আইনপ্রণেতাদের জানানো হয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে ২০টি বা এরও বেশি মাইন পেতে রেখেছে। এর মধ্যে কিছু জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ফলে এগুলো শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য করার জন্য এএফপি যোগাযোগ করলে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল ওয়াশিংটন পোস্টের এ তথ্যকে ‘ভুল’ বলে দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, সমুদ্রের প্রায় ১ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে তারা ‘বিপজ্জনক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের তুলনায় ১৪ গুণ। এই বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে মাইন থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) হাতে হরমুজ প্রণালিতে তিনটি জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে।
ওই ঘটনার পর আজ বৃহস্পতিবার থেকে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বাজার চড়া হতে শুরু করে।
বর্তমানে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০৩ ডলার (৭৬ দশমিক ৩৫ পাউন্ড) এর কাছাকাছি অবস্থান করছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে তেলের বাজারদর ৯৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চুক্তির স্বার্থে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছিল। সর্বশেষ তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়ে দুটি জব্দের ঘটনা সেই পালে নতুন হাওয়া দিয়েছে।
এশিয়ার কয়েকটি দেশের জলসীমা থেকে ইরানের অন্তত তিনটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
শিপিং ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভারত, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছ থেকে জব্দ করা ট্যাংকারগুলো তাদের গন্তব্য থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি ও ইরানের বন্দরসমূহে, অর্থাৎ সমুদ্রপথে তেহরানের বাণিজ্যের ওপর ওয়াশিংটন অবরোধ আরোপ করার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করতে তেহরান তিনটি জাহাজে গুলিবর্ষণ করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর প্রায় দুই মাস পর দুপক্ষের মধ্যে নতুন করে শান্তি আলোচনার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। গত কয়েক দিনে মার্কিন বাহিনী ইরানের একটি কার্গো জাহাজ এবং একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে।
অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে, তারা গতকাল বুধবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় দুটি কন্টেইনার জাহাজ জব্দ করেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই ইরানের প্রথম জাহাজ জব্দের ঘটনা।
মার্কিন ও ভারতীয় শিপিং সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করা তিন ইরানি ট্যাংকারের একটি ‘ডিপ সি’ নামের সুপারট্যাংকার। এটি মালয়েশিয়া উপকূল থেকে এক সপ্তাহ আগে নিখোঁজ হয়েছিল। এ ছাড়া ‘সেভিন’ ও ‘ডোরেনা’ নামের আরও দুটি ট্যাংকার জব্দ করা হয়েছে। ডোরেনা ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে ভারত উপকূলের কাছে ছিল।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানি বন্দর অবরোধ অমান্য করার চেষ্টা করায় ডোরেনা বর্তমানে একটি মার্কিন রণতরীর পাহারায় ভারত মহাসাগরে রয়েছে।
সেন্টকম আরও জানায়, অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ২৯টি জাহাজকে তারা বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে। সমুদ্রপথে ইরানের সামরিক তৎপরতা এবং ভাসমান মাইন এড়াতে মার্কিন বাহিনী এখন উন্মুক্ত সাগরে ইরানি জাহাজগুলো লক্ষ্যবস্তু করছে।
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠক আজ বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বর্তমানে চলমান ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ আলোচনা চলছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন জানিয়েছেন, রাষ্ট্রদূত পর্যায়ের এ আলোচনার মূল ভিত্তি হলো, ইসরায়েলি আগ্রাসন ��ম্পূর্ণ বন্ধ করা, লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ও বন্দিবিনিময়। এ ছাড়া, আন্তর্জাতিক সীমান্তে লেবানন সেনাবাহিনীর মোতায়েন এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে বৈরুত।
এর আগে গত ১৬ এপ্রিল প্রথম দফার আলোচনার পর দুই দেশের মধ্যে ১০ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ওইদিন দিবাগত রাত ৩টা থেকে এ যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি আগামী রোববার শেষ হচ্ছে বলে ইসরায়েলকে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ (কেএএন) বলেছে, তেহরানের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হচ্ছে—এমন বার্তা তেল আবিবকে পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের আলোচনার পরিবর্তে তেহরানের সঙ্গে একটি সুনির্দিষ্ট সমঝোতায় পৌঁছাতে চাইছেন।
তবে ইসরায়েলি সূত্রগুলো বলছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় কোনো বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা কম। তারা মার্কিন প্রশাসনের বর্তমান পদক্ষেপগুলোকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে বর্ণনা করেছেন।
এর আগে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছিলেন, ইরানের কাছ থেকে কোনো প্রস্তাব পাওয়ার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেননি।
সাংবাদিকদের লেভিট বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কারণ ইরানকেই তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বেসামরিক প্রধান জন সি ফেলান পদত্যাগ করেছেন। মার্কিন প্রতিরক��ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, অবিলম্বে তাঁর এ পদত্যাগ কার্যকর হবে।
পেন্টাগনের একজন মুখপাত্র জন সি ফেলানকে তাঁর কর্মকাণ্ডের জন্য ধন্যবাদ ও ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।
ফেলানের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে আন্ডার সেক্রেটারি হাং কাও ভারপ্রাপ্ত নৌমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ পারস্য উপসাগরের তলদেশে থাকা ইন্টারনেট কেবল ও ক্লাউড অবকাঠামোর একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে। এটিকে অঞ্চলটির ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর এক প্রচ্ছন্ন হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গতকাল বুধবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম ‘তাসনিম’ হরমুজ প্রণালিকে শুধু জ্বালানি সরবরাহের পথ হিসেবেই নয়, বরং সাবমেরিন কেবলের একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর হিসেবেও উল্লেখ করেছে।
এ পথ দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলোর ইন্টারনেট সংযোগের মূল কেবলগুলো গেছে।
প্রতিবেদনে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, পারস্য উপসাগরের দক্ষিণের দেশগুলো ইন্টারনেটের জন্য ইরানের তুলনায় অনেক বেশি সমুদ্র���থের ওপর নির্ভরশীল।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, তাসনিমের প্রতিবেদনটি সাধারণ কোনো কারিগরি তথ্য নয়। বরং এটি ওই অঞ্চলের কেবল, ল্যান্ডিং স্টেশন এবং ডেটা সেন্টারগুলোকে চলমান সংঘাতের কৌশলগত চাপের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিশেষ করে আরব আমিরাত এবং বাহরাইনে অবস্থিত ক্লাউড ও ডেটা সেন্টার অবকাঠামোর দিকে ইঙ্গিত করে ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে যে, এসব স্থাপনায় বিপর্যয় ঘটলে তার অর্থনৈতিক ও যোগাযোগগত প্রভাব হবে ভয়াবহ।
এ সতর্কবার্তা এমন এক সময় এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ডিজিটাল অবকাঠামোর ওপর এরই মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আরব আমিরাত ও বাহরাইনে আমাজন ওয়েব সার্ভিসের স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাণিজ্যিক ক্লাউড অবকাঠামোর নিরাপত্তা ঝুঁকি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তাসনিমের প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বন্দর, জাহাজ চলাচলের পথ এবং জ্বালানি স্থাপনার পাশাপাশি এখন সাবমেরিন কেবল ও আঞ্চলিক ডেটা সেন্টারগুলোও ইরানের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় যুক্ত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল ও টাইমস অব ইসরায়েল
ইরানের বিরুদ্ধে আরোপ করা নৌ অবরোধে ৩১টি জাহ��জের দিক বদল করতে বা বন্দরে ফিরতে নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব নৌযানের বেশিরভাগই জ্বালানি তেলের ট্যাংকার। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
সেন্টকম বলেছে, ‘বেশিরভাগ জাহাজ মার্কিন নির্দেশনা মেনে চলেছে।’
ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপ করা নৌ অবরোধে ১০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা, দেশটির ১৭টি যুদ্ধজাহাজ এবং শতাধিক বিমান অংশ নিয়েছে বলেও জানিয়েছে সেন্টকম।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর পরপরই বিশ্ববাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ শুরু করে।
এ পরিস্থিতিতে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, মার্কিন নৌ অবরোধ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পথে বাধা।
লেবাননের সাংবাদিক আমাল খলিলের নিয়োগকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, বুধবার দিনের শুরুর দিকে একটি ইসরায়েলি হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন।
রয়টার্সের উদ্ধৃতি দিয়ে লেবাননের একজন ঊর্ধ্��তন সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে ওই সাংবাদিকের মরদেহ পাওয়া গেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এর আগে জানিয়েছিল যে, দক্ষিণ লেবাননের একটি শহরে ইসরায়েলি হামলার পর সাংবাদিক খলিল এবং জয়নাব ফারাজ যে বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, ইসরায়েল সেই বাড়িকে ‘লক্ষ্যবস্তু’ বানানোর মাধ্যমে তাঁদের ‘পিছু ধাওয়া’ করেছে।
তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
বেশ কয়েকজন লেবানিজ কর্মকর্তা ও সাংবাদিক আল-আখবার পত্রিকার প্রতিনিধি আমাল খলিলকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করছেন।
লেবানন থেকে পাওয়া বেশ কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমাল খলিল এবং তাঁর সহকর্মী জয়নাব ফারাজ দক্ষিণ লেবাননের আতি-তিরি শহরে সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় তাঁদের কাছে থাকা একটি যানবাহনে ইসরায়েলি বিমান হামলা আঘাত হানে।
খলিল পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের অবস্থান জানাতে সক্ষম হন। লেবানিজ কর্মকর্তারা ওই এলাকায় উদ্ধারকারীদের প্রবেশের নিরাপদ পথ নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেন।
উদ্ধারকারীরা সেখানে পৌঁছে এলাকাটি থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করেন এবং আহত অবস্থায় ফারাজকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। কিন্তু খলিলকে উদ্ধারের আগেই তাঁরা ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিবর্ষণের মুখে পড়েন।
আল-আখবার জানিয়েছে, প্রথম হামলার প্রায় দুই ঘণ্টা পর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী খলিলের আশ্রয় নেওয়া বাড়িটিতে পুনরায় হামলা চালায়। এরপর থেকে ওই সাংবাদিকের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
কয়েক ঘণ্টা পর সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আমাল খলিলের প্রাণহীন দেহ উদ্ধার করেন।
চলতি বছরে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হওয়া চতুর্থ লেবানিজ সাংবাদিক তিনি। এর আগে গত মাসে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ডে আরও তিন সাংবাদিক নিহত হন।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ পর্যন্ত কখন শেষ হবে, তা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই ‘নির্ধারণ’ করবেন।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট বলেছেন, ‘আজ কিছু সংবাদে যেমনটা দেখেছি, প্রেসিডেন্ট তেমন কোনো কঠোর সময়সীমা (ডেডলাইন) বেঁধে দেননি... আমি জানি কিছু বেনামী সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে যে তিন থেকে পাঁচ দিনের একটি সময় দেওয়া হয়েছে। এটি সত্য নয়।’
তিনি আরও যোগ করেন, শান্তি চুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্তাবলির বিষয়ে ইরানের নেতাদের কাছ থেকে একটি ‘সম্মিলিত প্রতিক্রিয়া’ পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন মার্কিন নেতা।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তাঁর দেশ সংলাপ ও সমঝোতাকে স্বাগত জানায় এবং তা অব্যাহত রেখেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এস�� কথা বলেন।
পেজেশকিয়ান আরও লিখেছেন, ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, অবরোধ এবং হুমকি প্রদানই প্রকৃত আলোচনার প্রধান বাধা।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে পেজেশকিয়ান তাঁর বক্তব্যের শেষে লিখেছেন, ‘বিশ্ব তোমাদের অন্তহীন কপট কথাবার্তা এবং দাবি ও কাজের মধ্যকার বৈপরীত্য দেখতে পাচ্ছে।’
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ লিখেছেন, ‘নৌ-অবরোধ করে বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন না করলে এবং জায়নবাদীদের (ইসরায়েল) সব ফ্রন্টের যুদ্ধংদেহী মনোভাব বন্ধ হলেই একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি অর্থবহ হয়।’
গালিবাফ আরও লিখেছেন, ‘যুদ্ধবিরতির এমন চরম লঙ্ঘনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব নয়।’
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, নৌ-অবরোধের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন না করলে এবং সব ফ্রন্টে ইসরায়েলি কর্মকাণ্ড বন্ধ হলেই একটি ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি’ অর্থবহ হতে পারে।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে গালিবাফ লিখেছেন, ‘নৌ-অবরোধ করে বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন না করলে এবং জায়নবাদীদের সব ফ্রন্টের যুদ্ধংদেহী মনোভাব বন্ধ হলেই একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি অর্থবহ হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির এমন চরম লঙ্ঘনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব নয়।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সর্বশেষ আলোচনায় ইরানি দলের নেতৃত্ব দেওয়া গালিবাফ চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানের কাছ থেকে ছাড় আদায়ের ধারণাও প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘সামরিক আগ্রাসনের মাধ্যমে তারা তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি, চাপের মুখেও তা পারবে না। একমাত্র পথ হলো ইরানি জাতির অধিকারকে মেনে নেওয়া।’
এদিকে সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনা সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরুর লক্ষ্যে ইরানকে ‘ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রস্তাব’ উপস্থাপনের জন্য সীমিত সময় দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের এই বার্তা ইরানের কাছে পৌঁছেছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।
ইরান ও রাশিয়ার জাহাজে থাকা তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ ৩০ দিনের জন্য বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় তেল সংকটের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অনুরোধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এ কথা জানিয়েছেন।
মার্কিন সিনেটের অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন্স উপকমিটির বাজেট বিষয়ক শুনানিতে বেসেন্ট জানান, গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বৈঠকের সময় প্রায় ১০টি দেশের অর্থমন্ত্রীরা তাঁকে এই অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
এর মাধ্যমে গত সপ্তাহে দেওয়া বেসেন্টের করা মন্তব্য থেকে সরে এল মার্কিন প্রশাসন। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার দ্বিতীয় দফা শুক্রবারের মধ্যেই শুরু হওয়া ‘সম্ভব’। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে এমনটা বলা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদপত্রটি বলেছে, পাকিস্তানি কর্মকর্তারা তাদের বলেছেন, আগামী ‘৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার’ মধ্যে আলোচনা শুরু হতে পারে। নিউইয়র্ক পোস্ট এ বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান জানতে চাইলে খুদে বার্তায় তিনি বলেন, ‘এটা সম্ভব!’
গতকাল ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন। বুধবার সন্ধ্যায় এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। মূলত যুদ্ধ অবসানের জন্য ইরান��ে ‘ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রস্তাব’ দেওয়ার সুযোগ দিতেই এই মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে তিনি জানান।
সিরিয়ায় অনুপ্রবেশের পর প্রায় ৪০ জন ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীকে (সেটলার) ফিরিয়ে নিয়েছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। আজ বুধবার এ ঘটনা ঘটেছে। এই ইহুদিরা মূলত ‘বৃহত্তর ইসরায়েলের (গ্রেটার ইসরায়েল)’ সমর্থক।
ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানায়, ওই বেসামরিক ব্যক্তিরা সীমান্তে জড়ো হয়েছিলেন এবং সিরিয়ায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দখলে থাকা বাফার জোনের কয়েক শ মিটার ভেতরে ঢুকে পড়েছিলেন। পরে তাঁদের ইসরায়েলে ফিরিয়ে নিয়ে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম অনুপ্রবেশকারীদের ডানপন্থী গোষ্ঠী ‘পাইওনিয়ারস অব বাশান’-এর সদস্য হিসেবে শনাক্ত করেছে। এই গোষ্ঠীটি লেবানন ও সিরিয়ায় ইহুদি বসতিস্থাপনের আহ্বান জানিয়ে আসছে।
দক্ষিণ লেবাননে গত শনিবার হামলায় আহত ফরাসি এক শান্তিরক্ষী মারা গেছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ এ কথা জানিয়েছেন।
এর আগে গান্দোরিয়েহ গ্রামে ওই হামলায় ফ্লোরিয়ান মন্তোরিও নামের আরেক ফরাসি শান্তিরক্ষী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছিলেন।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিলের প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এটি ছিল একটি ‘পরিকল্পিত হামলা’। সম্ভবত কোনো অরাষ্ট্রীয় গোষ্ঠী—অভিযোগ রয়েছে হিজবুল্লাহর—তরফ থেকে এ হামলা চালানো হয়েছে।
যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরুর লক্��্যে ইরানকে ‘ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রস্তাব’ উপস্থাপনের জন্য সীমিত সময় দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনা সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র সিএনএন-কে এ তথ্য জানিয়েছে।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বার্তা ইরানের কাছে পৌঁছেছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্তমান প্রশাসন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়াতে চায় না এবং তারা ইরানকে আলোচনার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার সুযোগও দিতে চায় না।
সূত্রগুলোর ভাষ্যমতে, বুধবারের সময়সীমার পরও চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্ট সতর্ক ছিলেন। তিনি যত দ্রুত সম্ভব একটি চুক্তি চূড়ান্ত করতে চান এবং আশা করেছিলেন, সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার চাপ যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগেই ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে বাধ্য করবে।
তবে সিএনএনের আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের শীর্ষ উপদেষ্টারা মনে করেন যে ইরানি নেতৃত্বের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার মতো পর্যাপ্ত ক্ষমতা আলোচকদের দেওয়ার বিষয়ে তাঁরা একমত হতে পারেননি।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্পের ভাষায় তেহরানকে ‘ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রস্তাব’ উপস্থাপনের জন্য আরও সময় দেওয়ার সিদ্ধান্তটি কূটনৈতিকভাবে যুদ্ধ অবসানের প্রতি প্রশাসনের আগ্রহকেই প্রতিফলিত করে। একই সঙ্গে এটি সামরিক হামলা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে তাদের অনিচ্ছারও বহিঃপ্রকাশ।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মনে করেন, আলোচনা চলার সময় হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ ইরানিদের চাপে রাখবে। যদিও ট্রাম্পের সহযোগীদের মধ্যে এই স্বীকারোক্তিও রয়েছে যে, অবরোধ যত দীর্ঘায়িত হবে, বিশ্ব অর্থনীতির তত বেশি ক্ষতি হবে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কাউকে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত করতে বা স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে দেওয়া হবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রেসিডেন্ট আউন লিখেছেন, ‘আমাদের দেশের ইতিহাসের এই পর্যায়ে নাগরিক শান্তি রক্ষা করা একটি রেড লাইন (চরম সীমা)।’ লেবাননের এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি অবসানে তিনি সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাবেন বলেও জানান।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে আয়োজিত একটি প্রস্তুতিমূলক সভায় লেবাননের প্রতিনিধিত্ব করবেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হাদ্দাদ মাউয়াদ। সভায় তিনি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি উত্থাপন করবেন এবং দক্ষিণ লেবাননের গ্রাম ও শহরগুলোতে ইসরায়েলের ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধের দাবি জানাবেন।
প্রেসিডেন্ট আউন বলেন, এই আলোচনা চারটি শর্তের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে—ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ করা, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, বন্দিবিনিময় এবং লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন।
এর আগে লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। লেবাননের স্থানীয় সময় ১৬ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর মধ্য দি���ে ইসরায়েলের আগ্রাসন ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলা বন্ধ হয়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁদের সুসম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই সমঝোতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।
এ দুজনের অনুরোধেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট শুধু যুদ্ধবিরতির মেয়াদই বাড়াননি, বরং একে অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মূলত কূটনীতির জন্য বাড়তি সময় দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে শেষ চেষ্টা হিসেবে নয়, বরং শুরু থেকেই তাঁরা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। এই যোগাযোগ এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
এরই মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইরানি রাষ্ট্রদূতের একটি বৈঠক হয়েছে এবং তাঁদের আলোচনা এখনো চলছে। মূলত পাকিস্তান দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া একটি রূপরেখা ইরানকে পৌঁছে দিচ্ছে এবং একটি দীর্ঘস্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
ইরানের শ্রম উপমন্ত্রী গোলাম হোসেন মোহাম্মাদির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রভাবে দেশটিতে ২০ লাখের বেশি মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। এ কারণে নিষেধাজ্ঞা ও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কবলে থাকা ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতি আরও গভীর সংকটের মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের তেল ও গ্যাস ক্ষেত্র, পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম কারখানাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জানুয়ারিতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় ইন্টারনেট বিভ্রাট এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে চলমান ব্ল্যাকআউটের কারণে দেশটির ডিজিটাল অর্থনীতিও স্থবির হয়ে পড়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে দেশটিতে ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাই চলছে। ইরানের সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থার সাবেক অর্থনীতিবিদ হাদি কাহালজাদেহ ধারণা করছেন, দেশটির মোট শ্রমশক্তির প্রায় অর্ধেক বা ১ কোটি থেকে ১ কোটি ২০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এখন ঝুঁকির মুখে।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, দেশটির শ্রম উপমন্ত্রী এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সংস্থার প্রধান গোলাম হোসেন মোহাম্মাদি চলতি সপ্তাহের শুরুতে বলেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধের কারণে ১০ লাখের বেশি মানুষ সরাসরি কাজ হারিয়েছেন। এ ছাড়া প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সব মিলিয়ে ২০ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালি থেকে দুটি জাহাজ জব্দ করে সেগুলোকে ইরানের উপকূলে নিয়ে গেছে। আইআরজিসি বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালিতে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা ইরানের জন্য একটি রেড লাইন (চরম সীমা) হিসেবে বিবেচনা করা হয়।’
এর আগে খবরে বলা হয়েছিল, ইরানের উপকূলে একটি জাহাজে গুলি চালানো হয়েছে। এ ছাড়া ওমান উপকূলে হামলার শিকার হয়ে আরেকটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে প্রায় দুই মাসের যুদ্ধ থামানো�� লক্ষ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা বৈঠকের ঠিক আগমুহূর্তে ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ঘোষণা দেয়। ইরানের অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহে সহায়তা করার অভিযোগে মোট ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
সংঘাত বন্ধে বড় ধরনের ছাড় পেতে ইরানের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ানোর যে কৌশল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়েছেন, এ নিষেধাজ্ঞা তারই অংশ।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বিশ্বের জ্বালানি বাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর জন্য ইরানি প্রশাসনকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।’ তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে ‘ইকোনমিক ফিউরি’ বা অর্থনৈতিক ক্রোধ কর্মসূচির আওতায় ইরানের ‘‘হঠকারিতা ও তাদের সহযোগীদের অর্থের উৎস’’ বন্ধ করা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে আজ বুধবার পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিতীয় দফার ওই বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অবরোধের কারণে তেহরান এ পর্যন্ত এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে জানান, বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে রাজি আছেন তিনি। দুই সপ্তাহের জন্য করা এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আজই শেষ হওয়ার কথা ছিল।
ট্রাম্প আগে এ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ না বাড়ানোর কথা বললেও গতকাল তাঁর অবস্থানে পরিবর্তন আনেন। তিনি বলেন, ইরানের প্রতিনিধিরা একটি সমন্বিত প্রস্তাব নিয়ে না আসা পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধ থ��কবে।
* আগের লাইভ দেখতে ক্লিক করুন
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আজ বুধবার অন্তত তিনটি কন্টেইনার জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র এবং যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সম্প্রতি ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধের প্রতিবাদে দেশটি এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে।
ইউকেএমটিও জানায়, ওমানের উত্তর-পূর্বে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি কন্টেইনার জাহাজে গুলি ও রকেট-চালিত গ্রেনেড দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে জাহাজটির ওপরের অংশ বা ‘ব্রিজ’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জাহাজের ক্যাপ্টেন জানান, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একটি গানবোট তাঁদের জাহাজের কাছাকাছি আসে এবং পরে গুলি চালায়। গানবোটে তিনজন আরোহী ছিলেন।
গ্রিস-চালিত এই জাহাজের ক্যাপ্টেন দাবি করেন, হামলার আগে রেডিওর মাধ্যমে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি, যদিও শুরুতে তাঁদের প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
আইআরজিসি বলেছে, জাহাজটিকে বারবার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তা উপেক্ষা করে সেটি।
পরে ইউকেএমটিও জানায়, ইরান থেকে প্রায় আট নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে দ্বিতীয় আরেকটি কন্টেইনার জাহাজে গুলি চালানো হয়েছে। পানামার পতাকাবাহী এ জাহাজে অবশ্য কোনো ক্ষতি হয়নি এবং এর নাবিকেরা নিরাপদ আছেন।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় তৃতীয় আরেকটি কন্টেইনার জাহাজও গুলিবর্ষণের শিকার হয়েছে। লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এ জাহাজটির কোনো ক্ষতি না হলেও সেটি মাঝসমুদ্রে থেমে গেছে। এর নাবিকেরাও নিরাপদ রয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। এখন প্রণালিটি কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্ব তেল বাণিজ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
কট্টর মুসলিমবিদ্বেষী ও বর্ণবাদী মন্তব্যের জন্য পরিচিত মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সার ভ্যালেন্টিনা গোমেজকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উগ্র ডানপন্থী নেতা টমি রবিনসনের একটি সমাবেশে যোগ দিতে তাঁর লন্ডনে আসার কথা ছিল।
প্রাথমিকভাবে গোমেজকে যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের জন্য ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথোরাইজেশন (ইটিএ) বা বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর আগমনের খবরে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হলে ব্রিটেন সরকার সেই অনুমতি প্রত্যাহার করে নেয়।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোমেজের উপস্থিতি ‘জনস্বার্থের জন্য সহায়ক হবে না’। সরকারের হঠাৎ মত পরিবর্তনের পেছনে ছিল জনরোষ। প্রথমে গোমেজকে অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি অনেক মুসলমানকে মর্মাহত করে। এছাড়া ঘৃণা ছড়ানোর বিষয়ে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘দ্বিমুখী আচরণে’র অভিযোগও ওঠে।
গোমেজ দীর্ঘদিন ধরে মুসলমানদের নিয়ে উসকানিমূলক মন্তব্য করে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনে প্রচারের সময় তিনি পবিত্র কোরআন পুড়িয়েছিলেন ও ইসলামকে চিরতরে থামিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এছাড়া মুসলমানদের ‘ধর্ষক’ ও ‘সহিংস বহিরাগত’ হিসেবেও বারবার আখ্যা দিয়েছেন এ মুসলিমবিদ্বেষী ইনফ্লুয়েন্সার।
মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন ও মুসলিম উইমেন’স নেটওয়ার্ক ইউকে গোমেজের আগমনের বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদকে উদ্দেশ্য করে তারা জানায়, গোমেজকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে দেওয়া ধর্মীয় ও জাতিগত বিদ্বেষ স্বাভাবিক করে তুলবে এবং সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করবে।
সম্প্রতি গোমেজ ইসরায়েল সফর করে গাজায় দেশটির সামরিক অভিযানের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছেন। ইসরায়েলি হামলার একটি ভিডিওতে তাঁকে পপকর্ন খেতে খেতে উল্লাস করতে দেখা যায়। তাঁর এ ভূমিকার প্রশংসা করে ইসরায়েলি সংসদ সদস্য ওহাদ তাল তাঁকে ‘একজন সত্যিকারের যোদ্ধা ও প্রিয় বন্ধু’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নিলে আবার আলোচনায় বসতে রাজি আছে তেহরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি এ কথা জানিয়েছেন।
ইরানি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত ইরাভানি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পরবর্তী দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।’
তবে নতুন কোনো আলোচনায় বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বন্ধ করতে হবে বলে শর্ত দিয়েছেন তিনি। ইরাভানি বলেন, ‘নতুন কোনো আলোচনায় বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বন্ধ করতে হবে।’
ইরান যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘তারা (যুক্তরাষ্ট্র) যদি রাজনৈতিক সমাধান চায়, তবে আমরা প্রস্তুত। আর যদি তারা যুদ্ধ চায়, ইরান সেটির জন্যও তৈরি।’
ওমান উপকূলে একটি পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজে হামলা করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এতে জাহাজটির নিয়ন্ত্রণকক্ষ বা ‘ব্রিজ’ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এই তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, ওমান থেকে প্রায় ১৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে জাহাজটির কাছে আইআরজিসির একটি নৌকা চলে আসে এবং এরপর গানবোটটি থেকে গুলি চালানো হয়।
এদিকে ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী বারবার সতর্ক করার পরও জাহাজটি সাড়া দেয়নি। তাই ‘সমুদ্র আইন’ অনুযায়ী ওই জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
হামলার স্থান হরমুজ প্রণালির সঙ্গে যুক্ত। আইআরজিসির গানবোট কোনো প্রকার সতর্কবার্তা ছাড়াই সরাসরি জাহাজটির নিয়ন্ত্রণকক্ষ লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
ইরান সম্প্রতি ঘোষণা করেছে, তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখবে এবং এই পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে।
ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক উচ্চপদস্থ সিভিল ডিফেন্স (বেসামরিক প্রতিরক্ষা) কর্মকর্তাকে ফাঁসি দিয়েছে ইরান। দেশটির বার্তা সংস্থা মিজান নিউজ এজেন্সির বরাতে এ খবর জানা গেছে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ওই কর্মকর্তার নাম মেহেদী ফরিদ। ইরানের সুপ্রিম কোর্ট এই সাজা বহাল রাখার পর তাঁকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলানো হয়।
মিজান নিউজ এজেন্সি জানায়, মেহেদী ফরিদ ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের কাছে স্পর্শকাতর তথ্য পাচারের চেষ্টার কথা স্বীকার করেছিলেন। এসবের মধ্যে বিভিন্ন সংস্থার অভ্যন্তরীণ তথ্য, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নকশা ও কর্মকর্তাদের নথিপত্র ছিল।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চললেও হাত গুটিয়ে বসে নেই মার্কিন সামরিক বাহিনী। এ সময়ে নিজেদের নতুন করে অস্ত্রসজ্জিত ও প্রস্তুত করছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ তথ্য জানিয়েছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির এ সুযোগে মার্কিন স���নারা নিজেদের ‘রি-আর্মিং’ (অস্ত্রসজ্জিত হওয়া) এবং ‘রি-টুলিং’ (সরঞ্জাম মেরামত ও আধুনিকায়ন) করছে। সেন্টকম আরও জানায়, তাদের সেনারা সব সময় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে সেন্টকমের কমান্ডার ব্র্যাড কুপার বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী বর্তমানে তাদের রণকৌশল ও কর্মপদ্ধতি নতুন করে সাজাচ্ছে।
ব্র্যাড কুপার দাবি করেন, ‘বিশ্বের অন্য কোনো সামরিক বাহিনী আমাদের মতো দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারে না। যুদ্ধবিরতির এ সময়ে আমরা ঠিক সে কাজটুকুই করছি।’
সংবাদ সম্মেলনে ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর এই মন্তব্যগুলো সামনে এল।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে নিজেদের শক্তিশালী ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রায় অর্ধেক ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবহার করে ফেলেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস)-এর এক নতুন বিশ্লেষণকে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিল এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচিত এই সামরিক অভিযানের ব্যাপকতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাস্ত্রের ভাণ্ডারে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
সিএসআইএসের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের অতি উঁচুমানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘থাড’-এরও অর্ধেক ইন্টারসেপ্টরই ইতিমধ্যে ব্যবহার করে ফেলেছে।
প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল’-এর মজুতেও টান পড়েছে বলে জানা গেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্রের মোট মজুতের ৪৫ শতাংশের বেশি ইতিমধ্যে যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, যুদ্ধের এমন ব্যাপকতা মার্কিন বাহিনীর যুদ্ধাস্ত্রের সংরক্ষিত ভাণ্ডারে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করছে।
তথ্যসূ��্র: মিডল ইস্ট আই
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতির শর্ত নতুন করে সামনে এসেছে।
গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের একটি শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এর মেয়াদ আজ বুধবার সন্ধ্যায় (যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময়) শেষ হওয়ার কথা ছিল।
—প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, এ চুক্তির প্রধান শর্ত ছিল ইরানকে ‘হরমুজ প্রণালি’ আবার খুলে দিতে হবে।
—পারস্য উপসাগর থেকে তেল ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানির জন্য এ নৌপথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরান দুই সপ্তাহের জন্য তাদের সামরিক বাহিনীর সমন্বয়ে এ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছিল।
—শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের প্রতিনিধিদল সম্প্রতি পাকিস্তানের ইসলামাবাদ সফর করেন। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমাধান ছাড়াই ভ্যান্সকে খালি হাতে ওয়াশিংটনে ফিরতে হয়।
—যুদ্ধ বন্ধে চূড়ান্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ আরো�� করেছে। নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারিসহ দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপও আরও বাড়িয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
—মূল সংঘাতের সমান্তরালে ইসরায়েল ও লেবানন সীমান্তেও একটি যুদ্ধবিরতি চলছে। ১৯৯৩ সালের পর প্রথমবারের মতো দুই দেশের সরাসরি আলোচনার পর গত ১৬ এপ্রিল ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
—ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ‘লেবাননের যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে’ হরমুজ প্রণালি ‘পুরোপুরি উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে’। তবে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার না করায় তেহরান এ ঘোষণার পরদিনই আবার নৌপথটি বন্ধ করে দেয়।
—যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, ‘পরিকল্পিত, তাৎক্ষণিক বা চলমান যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে ইসরায়েল যেকোনো সময় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বা আত্মরক্ষার অধিকার বজায় রাখবে।’
—চুক্তিতে আরও বলা হয়, হিজবুল্লাহসহ অন্য যেকোনো ‘সশস্ত্র গোষ্ঠী’ যাতে ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে না পারে, সেজন্য লেবানন সরকারকে ‘কার্যকর পদক্ষেপ’ নিতে হবে।
ইরানের শিক্ষামন্ত্রী আলিরেজা খাজেমি বলেন, মার্কিন–ইসরায়েলি হামলায় ইরানে প্রায় ১ হাজার ৩০০ বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি বা ৭৭৫টি মেরামত করা হয়েছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ইরনা এ খবর জানিয়েছে।
খাজেমি জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া হামলায় ইরানে অন্তত ২০টি বিদ্যালয় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তেহরান, কেরমানশাহ, ইস্পাহান ও হরমোজগান এলাকায়।
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাকি বিদ্যালয়গুলোর মেরামত কাজ আগামী অক্টোবরের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে বলেও জানান ইরানের শিক্ষামন্ত্রী।
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি ‘পুরোপুরি’ অবরুদ্ধ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। আর ইরান নিজেদের আর্থিক ক্ষতি এড়াতে এ সমুদ্রপথ খুলে দিতে চাইছে। আপাতত ‘মুখরক্ষা করতে’ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে তেহরান।
এমনটাই দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে ট্রাম্প এমন দাবি করেন।
পোস্টে ট্রাম্প লিখেন, ‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাক, এটা ইরান চায় না। তারা এটা খোলা দেখতে চায়। যাতে তারা প্রতিদিন এখান থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে (প্রণালিটি বন্ধ থাকলে তারা ক্ষতির শিকার হবে!)।’
‘তারা এটা (হরমুজ প্রণালি) বন্ধ রাখতে চায় একটা কারণেই যে, আমি এ পথ পুরোপুরি অবরোধ করে রেখেছি (বন্ধ করে দিয়েছি!)। তাই তারা কেবল মুখরক্ষা করতে চাইছে’—বলেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও যোগ করেন, ‘চারদিন আগেই লোকজন আমাকে বলেছিল, “স্যার, ইরান অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে চায়।”’
‘কিন্তু আমরা যদি সেটা করি, তাহলে ইরানের সঙ্গে কখনোই কোনো চুক্তি করা যাবে না, যদি না আমরা তাদের দেশের বাকি অংশ, তাদের নেতাদেরসহ উড়িয়ে না দিই!’—হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ সংবাদপত্রের একটি কলামের কড়া সমালোচনা করেছেন। ওই নিবন্ধে দাবি করা হয়েছিল যে, ইরানের নেতৃত্ব মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘বোকা’ ভাবছে।
জবাবে ট্রাম্প বলেন, গত ৪৭ বছর ধরে তেহরান বর্তমান প্রেসিডেন্টের আগ পর্যন্ত “প্রত্যেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের সুযোগ নিয়েছে”।
ট্রাম্প লিখেছেন, “আর আমি তাদের কী দিয়েছি? একটি জরাজীর্ণ দেশ!”
এরপর ট্রাম্প এক দীর্ঘ দাবি তুলে ধরে বলেন, ইরানের “পুরো নৌবাহিনী সমুদ্রের তলদেশে, তাদের বিমানবাহিনী নেই, তাদের বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা ও রাডার ধ্বংস হয়ে গেছে” এবং “তাদের পরমাণু গবেষণাগার ও গুদামগুলো মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে ।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন যে, ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে ইরান প্রতিদিন “৫০ কোটি ডলার” লোকসান করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে ইরানের সামরিক বাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে বাস্তবে ইরানি বাহিনী এখনও আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে এবং তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখতে সক্ষম হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন যে, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে আসন্ন সরাসরি আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের অংশ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আবারও এই আলোচনায় অংশ নেবেন। তাঁর সঙ্গে থাকবেন লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের কাউন্সিলর মাইকেল নিডহ্যাম।
ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিত্ব করবেন যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত দেশ দুটির রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার এবং নাদা হামাদে মোয়াদ।
আগামী বৃহস্পতিবার মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টে এই আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। গত দুই সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে এটি দ্বিতীয় দফার আলোচনা। লেবাননে ১০ দিনের একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হলো।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের ওই কর্মকর্তার মতে, ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থানকালে হাকাবি “স্টেট ডিপার্টমেন্টের নেতৃত্ব এবং আন্তঃসংস্থা অংশীদারদের সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ করবেন, যার মধ্যে আঞ্চলিক সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।"
যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একে উত্তেজনা প্রশমনে এক ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক এক বিবৃতিতে জানান, গুতেরেস এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এটি উত্তেজনা প্রশমন এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনীতি ও আস্থা তৈরির পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।
মুখপাত্র আরও বলেন, 'আমরা সব পক্ষকে এই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানাই। একইসঙ্গে এমন কোনো কাজ থেকে বিরত থাকতে বলছি যা অস্ত্রবিরতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। একটি টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে সবাইকে গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নিতে উৎসাহিত করছি।'
কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার বিষয়ে দুজারিক জানান, পরবর্তী আলোচনা সফল করতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে গুতেরেস পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ দ্বন্দ্ব নিরসনে একটি দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর সমাধানের পথ তৈরি করবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে শাহবাজ লিখেছেন, ‘আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে এবং ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরের পক্ষ থেকে, চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর আমাদের অনুরোধ সদয়ভাবে গ্রহণ করার জন্য আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’
শাহবাজ শরিফ আরও লিখেছেন, পাকিস্তান একটি আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। তিনি আরও যোগ করেন: “আমি আন্তরিকভাবে আশা করি যে উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতি পালন অব্যাহত রাখবে এবং সংঘাতের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার আলোচনায় একটি ব্যাপক ‘শান্তি চুক্তি’ সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে।”
সূত্র: আল জাজিরা
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকারের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদী বলেছেন, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধির ঘোষণা ‘অর্থহীন’। তিনি বলেন, ‘পরাজিত পক্ষ কোনো শর্ত চাপিয়ে দিতে পারে না।’ মোহাম্মদী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরও বলেছেন, ‘অবরোধ অব্যাহত রাখা বোমাবর্ষণের চেয়ে আলাদা কিছু নয় এবং এর জবাব অবশ্যই সামরিকভাবে দিতে হবে। তাছাড়া, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নিশ্চিতভাবেই একটি আকস্মিক হামলার জন্য সময় কেনার অপকৌশল। ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা উদ্যোগ নেওয়ার সময় এখন চলে এসেছে।’
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ তাদের একজন প্রতিনিধির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, পাকিস্তানে হতে যাওয়া আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকার করেছে ইরান।
সংস্থাটি জানায়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘অযৌক্তিক দাবি’ থেকে সরে না আসায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তাসনিম নিউজের ভাষ্যে, “এই কারণে ইরান শেষ পর্যন্ত আজ ঘোষণা করেছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনায় অংশগ্রহণ করা কেবল সময়ের অপচয়। কারণ যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো উপযুক্ত চুক্তির পথে বাধা সৃষ্টি করছে। তাই ইরান আমেরিকানদের সাথে কোনো আলোচনায় বসবে না।”
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান তাদের এই অবস্থানের কথা পাকিস্তানকে জানিয়ে দিয়েছে এবং মধ্যস্থতাকারীদের অবহিত করেছে যে আগামীকাল পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় আলোচনায় তারা উপস্থিত থাকছে না।
তবে এই প্রতিবেদনের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সূত্র: আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবে এবং ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রাখবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান সরকার মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে—যা অপ্রত্যাশিত ছিল না। পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের অনুরোধে আমাদের কাছে ইরানের ওপর হামলা স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে তাদের নেতা ও প্রতিনিধিরা একটি ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাব নিয়ে আসতে পারেন। তাই আমি আমাদের সামরিক বাহিনীকে অবরোধ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছি এবং অন্যান্য সব দিক থেকে প্রস্তুত ও সক্ষম থাকতে বলেছি। প্রস্তাব জমা দেওয়া এবং আলোচনা কোনো একটি সিদ্ধান্তে না পৌঁছানো পর্যন্ত আমি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করছি।’ সূত্র: বিবিসি
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পাল্টা জবাব হিসেবে তারা উত্তর ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে।
এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানায়, উত্তর ইসরায়েলের একটি অবস্থান লক্ষ্য করে তাদের যোদ্ধারা রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটির দাবি, ওই অবস্থান থেকেই দক্ষিণ লেবাননের একটি শহরে কামানের গোলা ছোড়া হয়েছিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘লেবানন ও তার জনগণকে রক্ষা এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা ও ঘরবাড়ি-গ্রাম ধ্বংসসহ ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নির্লজ্জ’ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিবাদে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পশ্চিম জেরুজালেমে এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রশংসা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েল এখন আগের চেয়ে শক্তিশালী এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে আমরা বিশ্বের অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছি।’
নেতানিয়াহু আরও ���লেন, ‘আমরা ইরানের হুমকি ব্যবস্থাকে মারাত্মক আঘাত করেছি, যা আমাদের বিপদে ফেলার ক্ষমতাকে খর্ব করেছে। আমরা আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে ইসরায়েলের অবস্থান শক্তিশালী করেছি। আমরা নতুন জোট গঠন করেছি এবং শান্তির পরিধি বাড়ানোর পথ প্রশস্ত করেছি।’
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাকিস্তান সফর স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরাসরি অবগত একজন মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি এটিও জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে যেকোনো মুহূর্তে এই সফর পুনরায় শুরু হতে পারে।
ওই কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, তেহরান মার্কিন আলোচনার শর্তাবলি বা অবস্থানের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, যার ফলে এই উচ্চপর্যায়ের সফরটি আপাতত থমকে গেছে। তবে আলোচনার পথ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি; যেকোনো সময় এই সফর হতে পারে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস।
Published: 2026-04-30T12:23:29.145Z
Source: https://www.prothomalo.com/world/8biouvagp3
Comments Section
Comments
Processing your comment...
Share Your Thoughts
No comments yet
Be the first to share your thoughts!