
ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার অচলাবস্থা কাটাতে অথবা যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তি টানার আগে বড় ধরনের সামরিক আঘাত হানার পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এই লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ডিসির স্থানীয় সময় আজ বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের কাছ থেকে এ পরিকল্পনা সম্পর্কে শুনবেন ট্রাম্প। এতে তাঁকে সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
এ বিষয়ে জানাশোনা আছে এমন দুটি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আলোচনায় যা থাকছে
সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র জানিয়েছে, সেন্টকম এরই মধ্যে ইরানের ওপর একটি ‘সংক্ষিপ্ত কিন্তু শক্তিশালী’ বিমান হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এই দফায় মূলত ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা ভাবা হচ্ছে।
মার্কিন নীতিনির্ধারকদের ধারণা, নতুন করে ভয়াবহ হামলার পর ইরান নমনীয় হতে বাধ্য হবে। পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনার টেবিলে আসতে আগ্রহী হবে।
ব্রিফিংয়ে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পকে দ্বিতীয় একটি প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য এ গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথটি পুনরায় খুলতে প্রণালির একটি অংশ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
একটি সূত্রের দাবি, এ বিশেষ অভিযানে প্রয়োজনে স্থলবাহিনীও ব্যবহার করা হতে পারে। এ ছাড়া ইরানের হাতে থাকা উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত জব্দ করতে বিশেষ বাহিনীর অভিযানের বিষয়টিও আলোচনায় থাকতে পারে।
অবরোধ না হামলা
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল বুধবার অ্যাক্সিওসকে বলেছেন, তিনি ইরানের ওপর চলমান নৌ-অবরোধকে ‘বোমাবর্ষণের চেয়েও কার্যকর’ বলে মনে করছেন।
দুটি সূত্রের দাবি, ট্রাম্প এ অবরোধকে দর-কষাকষির মূল অস্ত্র হিসেবে দেখছেন। তবে অবরোধের চাপেও ইরান যদি দাবি মানতে রাজি না হয়, তাহলে ইরানে আবার হামলার নির্দেশ দেবেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে চলমান অবরোধের পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে পারে, মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাবিদেরা এ আশঙ্কাও খতিয়ে দেখছেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে আজকের উচ্চ পর্যায়ের মার্কিন কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য বৈঠকে দেশটির সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
বৈঠকের বিষয়ে জানতে অ্যাক্সিওসের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি অ্যাডমিরাল কুপার ট্রাম্পকে একই ধরনের একটি ব্রিফিং করেছিলেন। এর ঠিক দুই দিন পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলা শুরু হয়।
ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের মতে, সেদিনের সেই ব্রিফিংয়ের ভিত্তিতে ইরানে হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
Published: প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬: ৩০
Source: https://www.prothomalo.com/world/usa/yay3a4a40a
Comments Section
Comments
Processing your comment...
Share Your Thoughts
No comments yet
Be the first to share your thoughts!