দুই দিনে সুন্দরবনে ১৫ জেলে-মৌয়ালকে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
Published

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বিভিন্ন খাল ও নদী এলাকা থেকে গত দুই দিনে ১৫ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। গত সোম ও গতকাল মঙ্গলবার তাঁদের অপহরণ করা হয়।

সুনদরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বিভিন্ন খাল ও নদী এলাকা থেকে গত দুই দিনে ১৫ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। গত সোম ও গতকাল মঙ্গলবার তাঁদের অপহরণ করা হয়। ইতিমধ্যে অপহৃত কয়েকজনের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে।

বনদস্যু আলিম ও নানাভাই ওরফে ডন বাহিনীর বিরুদ্ধে জেলে ও মৌয়ালদের অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। গত দুই দিনে কোনো জেলে লোকালয়ে ফিরে আসেননি কিংবা তাঁদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

ফিরে আসা কয়েকজন জেলে বলেন, তাঁরা কদমতলা ও কৈখালী স্টেশন থেকে অনুমতিপত্র নিয়ে এক সপ্তাহ আগে কাঁকড়া ধরতে বনে গিয়েছিলেন। সোম ও মঙ্গলবার অস্ত্রধারী দস্যুরা ‘আলিম’ ও ‘নানাভাই ওরফে ডন বাহিনী’ পরিচয়ে চুনকুড়ি নদীর গোয়ালবুনিয়া, দুনের মুখ, ধানোখালির খাল, মামুন্দো নদীর মাধভাঙা খাল ও মালঞ্চ নদীর চালতেবেড়ে খাল এলাকা থেকে ওই জেলেদের অপহরণ করে।

অপহৃত জেলে ও মৌয়ালেরা হলেন আল-আমিন (৩৫), আবুল বাসার (৩৭), আবুল কালাম (৪৭), শাহাজান গাজী (৫০), সিরাজ গাজী (৪০), আল-মামুন (১৬), হুমায়ুন (২৭), মনিরুল মোল্লা (২৬), সঞ্জয় (২৫), হৃদয় মণ্ডল (৪৭), রবিউল ইসলাম (৩৫), রবিউল ইসলাম (২৪), আবদুল সালাম (৪৫), ইব্রাহিম গাজী (৫৫) ও মুরশিদ আলম (৩৫)। তাঁরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ও মুন্সিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা।

স্বজনদের অভযোগ, অপহরণের পরপরই কয়েকজনের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে ইব্রাহিম গাজীর জন্য ৩০ হাজার টাকা, মুরশিদ আলমের জন্য এক লাখ টাকা ও আবদুল সালামের জন্য ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। অন্যদের বিষয়ে এখনো কোনো মুক্তিপণ দাবি করা হয়নি।

স্থানীয় জেলে ও মৌয়ালদের ভাষ্য, আগেও একই বাহিনীর বিরুদ্ধে অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ আছে। কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় দস্যুদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। এখন তারা আগের তুলনায় আরও সহিংস হয়ে উঠেছে ও বন্য প্রাণী শিকারেও জড়িত।

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বন সংরক্ষক মশিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, অপহৃত ব্যক্তিদের স্বজন কিংবা পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁদের কাছে কেউ অভিযোগ করেননি। স্থানীয় জেলে ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে ঘটনা শুনে এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, এ ধরনের ঘটনায় অনেক সময় জেলেরা নিজেরাই বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। অপহৃত ব্যক্তিদের জীবনের ঝুঁকির আশঙ্কা থাকায় তাঁরা পুলিশকে তথ্য দিতে চান না। তবু বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

Published: প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ১০: ২৫

Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/yzj1781lj1

Rate This Content

0.0/5 | 0 ratings
Not rated yet
5
0
4
0
3
0
2
0
1
0

Comments Section

Comments

0 Comments

Processing your comment...

Share Your Thoughts
Replying to
Preview
0 /2000
Pick an emoji
😀 😃 😄 😁 😅 😂 🤣 😊 😇 🙂 😉 😌 😍 🥰 😘 😗 😙 😚 🤗 🤩 🤔 🤨 😐 😑 😶 🙄 😏 😣 😥 😮 🤐 😯 😪 😫 😴 😌 😛 😜 😝 🤤 😒 😓 😔 😕 🙃 🤑 😲 ☹️ 🙁 😖 😞 😟 😤 😢 😭 😦 😧 😨 😩 🤯 😬 😰 😱 🥵 🥶 😳 🤪 😵 🥴 😠 😡 🤬 👍 👎 👌 ✌️ 🤞 🤟 🤘 🤙 👈 👉 👆 👇 ☝️ 🤚 🖐 🖖 👋 🤙 💪 🙏 ✍️ 💅 🤳 💃 🕺 👯 🧘 🏃 🚶 🧍 🧎 💻 📱 ⌨️ 🖱 🖥 💾 💿 📀 🎮 🎯 🎲 🎰 🎳 🎪 🎨 🎬 🎤 🎧 🎼 🎹 🥁 🎷 🎺 🎸 🎻 🎭 🎪 🎨 🎬 🎤 🎧 🎼 🎹 🥁 💕 ❤️ 💔 💖 💗 💓 💞 💝 💘 ❣️ 💟 🔥 💫 🌟 💥 💯 🎉 🎊 🎈 🎁 🏆 🥇 🥈 🥉 🏅 🎖
No comments yet

Be the first to share your thoughts!