
এক ঘণ্টার বেশি সময়ে সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের মূল ফটকে ব্যানার টানানো নিয়ে ছাত্রদল ও হল সংসদের নেতাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হল সংসদের নেতারা ব্যানার টানাতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে এক ঘণ্টার বেশি সময় উত্তেজনা বিরাজ করে।
জানা গেছে, মুহসীন হল সংসদের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক জুলহাস ইসলামকে গত ২৩ এপ্রিল শাহবাগ এলাকায় মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে গত সোমবার হলের মূল ফটকে একটি ব্যানার টানায় হল সংসদ। এতে হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন রবিন হামলাকারী উল্লেখ করে তাঁর ছবি জুড়ে দেওয়া হয়। হল ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তা সরিয়ে ফেললে মঙ্গলবার পুনরায় ব্যানার টানাতে যান হল সংসদের নেতারা। তখন উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরে হল সংসদের পক্ষ থেকে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে মুহসীন হল সংসদের ভিপি সাদিক শিকদার অভিযোগ করেন, ‘আমরা জুলহাসের ওপর হামলার ঘটনায় সাজ্জাদের বিচার চেয়ে গতকাল সোমবার একটি ব্যানার টানালে তারা (ছাত্রদল) এটা ছিঁড়ে পুড়িয়ে ফেলে। আজ মঙ্গলবার আবার ব্যানার টানাতে আসলে তারা আমাদের বাধা দেয়। এ সময় তারা আমাদের সঙ্গে থাকা ছোট ভাই সালমানকে মারধর করে আহত করে।’
সাদিক আরও বলেন, ‘সাংস্কৃতিক সম্পাদককে মেরে কান ফাটিয়ে দেবে। আবার এটার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আমরা বিচার চাইতে গেলে আমাদের শিক্ষার্থীদেরই তারা হামলা করে রক্তাক্ত করবে। এই হলো তাদের চরিত্র। তারা তাদের সেই ৯০-এর দশকের যে অস্ত্রের রাজনীতি, সেটি করতে চায়। কিন্তু আমরা বারবার সহনশীলতার পরিচয় দিয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখতে চাচ্ছি।’
হল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে সাদিক বলেন, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের প্রাধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামকে আমরা সর্বোচ্চ অভিভাবক মনে করি। অথচ ঘটনার ১২-১৩ দিন পার হয়ে গেলেও জুলহাসকে একটিবার ফোন দিয়ে খোঁজ নেওয়ার সময় পর্যন্ত পাননি।
মঙ্গলবার রাতে হাতাহাতির ঘটনায় মুহসীন হলের শিক্ষার্থী মো. সালমান খান আহত হন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আজকে (মঙ্গলবার) ব্যানার টানানোর কিছুক্ষণের মধ্যে ২০ থেকে ৩০ জন ছাত্রদলের নেতা-কর্মী মিছিল নিয়ে এসে হল গেটের ব্যানার টান দিয়ে ছিঁড়ে সামনের দিকে হাঁটা ধরে। তখন নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে আমিসহ হল সংসদের কয়েকজন সেই ব্যানারটা তাদের হাত থেকে ফিরিয়ে আনতে যাই।... তারা টানাটানি করে। একপর্যায়ে আমাকে একটা গাছের পেছনে নিয়ে যায়।... আমার ডান পাশের কান ও মাথায় বেশ কয়কটা আঘাত করে। আমার হাতে খুব বাজেভাবে আঘাত করে। এতে ব্লিডিং হয়।
এ ঘটনার বিষয়ে জানতে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের প্রাধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়। কিন্তু তিনি কলের জবাব দেননি।
এদিকে শাহবাগের ঘটনায় যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘হল সংসদের লোকজন আমাকে বারবার সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করে ব্যানার টানানোর চেষ্টা করেছে। আমি কোনোভাবেই তা নই। তারা আমার ব্যাপারে এমন আচরণ করায় আজকের এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। আমি কোনোভাবেই সেদিনের হামলায় ছিলাম না।’
Published: আপডেট: ০৫ মে ২০২৬, ২০: ৫৮
Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/capital/tvev6zy40f
Comments Section
Comments
Processing your comment...
Share Your Thoughts
No comments yet
Be the first to share your thoughts!