ছোট পর্দায় ‘অ্যাডাল্ট’ কনটেন্ট নির্মাতার চরিত্র, তুমুল বিতর্ক

বিনোদন ডেস্ক বিনোদন ডেস্ক
Published on
1 views
1 impressions

এইচবিওতে চলছে ‘ইউফোরিয়া’র তৃতীয় ও শেষ মৌসুম। গত মাসে অ্যাপল টিভি প্লাসে এসেছে নতুন সিরিজ ‘মার্গোস গট মানি ট্রাবল’। দুটি আলোচিত সিরিজেই কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে দেখা যাচ্ছে প্রাপ্তবয়স্কদের প্ল্যাটফর্ম ‘ওনলি ফ্যানস’-এর কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এসব সিরিজ কি সত্যিই পুরো গল্পটা বলছে? টিভির পর্দায় যৌনকর্মী থেকে ‘ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ টেলিভিশনে যৌনকর্মীদের গল্প নতুন নয়। ‘দ্য সিক্রেট ডায়রি অব আ কল গার্ল’, ‘হারলটস’থেকে শুরু করে ‘দ্য গার্লফ্রেন্ড এক্সপেরিয়েন্স’—সব জায়গাতেই এ ধরনের গল্প ছিল। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উত্থানের সঙ্গে এসেছে নতুন এক চরিত্র—‘ওনলি ফ্যানস’-এর মডেল। অর্থের বিনিময়ে সাবস্ক্রাইবারদের জন্য প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট তৈরি ও আপলোড করা, এই পেশার উত্থান এখন টিভি সিরিজের গল্পেও জায়গা করে নিচ্ছে। আরেকটি আলোচিত সিরিজ ‘ইন্ডাস্ট্রি’র তৃতীয় মৌসুমে দেখা যায় তরুণ ফাইন্যান্স–কর্মী সুইটপিয়া গলাইটলি এই প্ল্যাটফর্মে পার্টটাইম কাজ করছেন। অন্যদিকে ‘ইউফোরিয়া’য় সিডনি সুইনি অভিনীত ক্যাসি চরিত্রটি নিজের ব্যয়বহুল বিয়ের খরচ জোগাতে ‘ওনলি ফ্যানস’-এ যুক্ত হয়। ‘মার্গোস গট মানি ট্রাবল’, সহানুভূতির গল্প ‘মার্গোস গট মানি ট্রাবল’ সিরিজটি নির্মিত হয়েছে রুপি থোপের ২০২৪ সালের উপন্যাস অবলম্বনে। এখানে এল ফ্যানিং অভিনয় করেছেন এক কলেজছুট তরুণীর চরিত্রে, যিনি সন্তান লালন-পালনের খরচ জোগাতে বাধ্য হয়ে ‘ওনলি ফ্যানস’-এ যোগ দেন। এ প্রসঙ্গে সিরিজটির পরিচালক কেট হেরন বলেন, ‘দর্শকদের অনেকেই এই প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে জানেন, অনেকেই জানেন না। আমরা দেখাতে চেয়েছি—কেউ কেন এই সিদ্ধান্ত নেয়।’ কেট হেরন আরও বলেন, ‘নারী হওয়া মানে কী—এই প্রশ্নটা এখন অনেক জটিল। মানুষ কখনো একমাত্রিক নয়।’ এই সিরিজে ‘মার্গো’ ছদ্মনাম ‘দ্য হাংরি ঘোস্ট’ ব্যবহার করে কনটেন্ট তৈরি করে—কখনো রসিক ভাষায় রিভিউ, কখনো সৃজনশীল ভিডিও। তার পাশে থাকে তার রুমমেট সুজি। সমালোচনা বনাম সহানুভূতি ‘ইউফোরিয়া’র নতুন মৌসুমে ক্যাসির চরিত্র নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। অনেক দর্শক মনে করছেন, তার উপস্থাপনাটি অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় ও অবমাননাকর। ক্যাসির চরিত্র শুরু থেকেই একধরনের মানসিক শূন্যতা ও স্বীকৃতির চাহিদার মধ্যে আবদ্ধ। তার শৈশব, বিশেষ করে বাবার অনুপস্থিতি তাকে এমন এক অবস্থায় নিয়ে গেছে, যেখানে সে সম্পর্কের মাধ্যমে নিজের মূল্য খুঁজতে চায়। তৃতীয় মৌসুমে সে নিজের শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, প্রথম দর্শনে এমনটাই মনে হতে পারে। কিন্তু দ্বিতীয় পর্বে বন্ধু ম্যাডির (অ্যালেক্সা ডেমি) সঙ্গে কথোপকথনে স্পষ্ট হয়, তার এই যাত্রা আসলে আত্মপ্রতিষ্ঠার নয়; বরং স্বীকৃতির জন্য মরিয়া এক প্রচেষ্টা। এই জায়গাতেই সিরিজটি সমালোচিত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। কারণ, যেখানে এই গল্প যৌনকর্ম বা অনলাইন কনটেন্ট তৈরির ক্ষমতায়নের দিকটি তুলে ধরতে পারত, সেখানে ত বরং একধরনের নির্ভরশীলতা ও আত্মঅবমূল্যায়নের গল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ‘মার্গোস গট মানি ট্রাবল’ তুলনামূলকভাবে সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েছে। হেরন বলেন, ‘আমি চেয়েছি, এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা প্রত্যেক মানুষকে সম্মান দিয়ে দেখাতে।’ ‘ওনলি ফ্যানস’-এর উত্থান, বিতর্ক ও বাস্তবতা ‘ওনলি ফ্যানস’ চালু হয় ২০১৬ সালে, প্রথমে শিল্পী ও ইনফ্লুয়েন্সারদের জন্য। ২০১৭ সালে এটি প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্টের অনুমতি দেয়। কোভিড–১৯ মহামারির সময় এর জনপ্রিয়তা বিস্ফোরকভাবে বাড়ে—২০২০ সালের মার্চ-এপ্রিলেই নতুন ক্রিয়েটরের সংখ্যা ৭৫ শতাংশ বেড়ে যায়। তবে বিতর্কও কম নয়। যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম গত বছর বয়স যাচাইসংক্রান্ত ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করে। এ ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ‘ওনলি ফ্যানস’ অবশ্য জানিয়েছে, তারা কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে এবং অবৈধ কার্যক্রমে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করে। কেন মানুষ যুক্ত হচ্ছে? এই প্ল্যাটফর্মে যোগ দেওয়ার কারণ একেকজনের একেক রকম। বাস্তব জীবনের ক্রিয়েটর রেবেকা গুডউইন বলেন, ‘নিজের সময় মেনে কাজ পাওয়া কঠিন ছিল। এখানে আমি স্বাধীনতা পেয়েছি—এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।’ তিনি এককভাবে দুই সন্তানের দায়িত্ব পালন করেন। খণ্ডকালীন কাজের বদলে ‘ওনলি ফ্যানস’-ই হয়ে উঠেছে তাঁর আয়ের উৎস। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যাঙ্গেলা স্মিথ বলেন, ‘ফ্লেক্সিবিলিটি (নমনীয়তা)—এই জিনিসটাই অনেককে টানে।’ কিন্তু বাস্তবতা এত সহজ নয়। অনেকেই ভাবেন, এটি ‘সহজে ধনী হওয়ার’ উপায়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। গুডউইন বলেন, ‘গড় আয় মাসে প্রায় ১০৮ ডলার। বেশির ভাগ মানুষই পার্টটাইম বা বাধ্য হয়ে এটি করেন।’ এ ছাড়া সামাজিক কুসংস্কারও বড় সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়, অপমান বা উপহাসের মুখোমুখি হতে হয়। অন্ধকার দিক চলতি বছর মুক্তি পাওয়া নেটফ্লিক্সের তথ্যচিত্র ‘লুই থেরাক্স: ইনসাইড দ্য ম্যানস্ফিয়ার’-এ দেখা যায়, অনেক ম্যানেজার এই শিল্পে নারীদের শোষণ করছে। ইনফ্লুয়েন্সার হ্যারিসন সুলিভান নিজেই নারী ক্রিয়েটরদের পরিচালনা করেন, কিন্তু তাঁদের কাজকে ‘ঘৃণ্য’ বলেন, যা দ্বিচারিতার উদাহরণ। গুডউইন বলেন, ‘ম্যানেজমেন্টে ঢুকলেই বোঝা যায়, কোথাও কোথাও এটি শোষণে পরিণত হচ্ছে।’ অধ্যাপক স্মিথ আরও জানান, পূর্ব ইউরোপের অনেক নারীকে পাচার করে এই ধরনের কনটেন্ট তৈরি করানো হয়, যা গুরুতর সমস্যা। সিরিজ বনাম বাস্তব জীবন এখন পর্যন্ত খুব কম সিরিজই এই অন্ধকার দিকগুলো পুরোপুরি দেখাতে পেরেছে। তবে ‘মার্গোস গট মানি ট্রাবল’ বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে চেষ্টা করেছে, লেখক থর্প বাস্তব ক্রিয়েটরদের সঙ্গে কথা বলে গল্প তৈরি কেছেন। অন্যদিকে স্যাম লেভিনসন তাঁর ‘ইউফোরিয়া’য় অতিনাটকীয় উপস্থাপনাকে ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আমরা বাস্তবতা ও চরিত্রের ভেতরের বিভ্রম—দুটোই দেখাতে চেয়েছি।’ বিবিসি অবলম্বনে

Published: প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ১০: ৪৫

Source: https://www.prothomalo.com/entertainment/bollywood/xa6hvdiiot

Rate This Content

0.0/5 | 0 ratings
Not rated yet
5
0
4
0
3
0
2
0
1
0

Comments Section

Comments

0 Comments

Processing your comment...

Share Your Thoughts
Replying to
Preview
0 /2000
Pick an emoji
😀 😃 😄 😁 😅 😂 🤣 😊 😇 🙂 😉 😌 😍 🥰 😘 😗 😙 😚 🤗 🤩 🤔 🤨 😐 😑 😶 🙄 😏 😣 😥 😮 🤐 😯 😪 😫 😴 😌 😛 😜 😝 🤤 😒 😓 😔 😕 🙃 🤑 😲 ☹️ 🙁 😖 😞 😟 😤 😢 😭 😦 😧 😨 😩 🤯 😬 😰 😱 🥵 🥶 😳 🤪 😵 🥴 😠 😡 🤬 👍 👎 👌 ✌️ 🤞 🤟 🤘 🤙 👈 👉 👆 👇 ☝️ 🤚 🖐 🖖 👋 🤙 💪 🙏 ✍️ 💅 🤳 💃 🕺 👯 🧘 🏃 🚶 🧍 🧎 💻 📱 ⌨️ 🖱 🖥 💾 💿 📀 🎮 🎯 🎲 🎰 🎳 🎪 🎨 🎬 🎤 🎧 🎼 🎹 🥁 🎷 🎺 🎸 🎻 🎭 🎪 🎨 🎬 🎤 🎧 🎼 🎹 🥁 💕 ❤️ 💔 💖 💗 💓 💞 💝 💘 ❣️ 💟 🔥 💫 🌟 💥 💯 🎉 🎊 🎈 🎁 🏆 🥇 🥈 🥉 🏅 🎖
No comments yet

Be the first to share your thoughts!