
প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর অভিযোগ করেছেন, বিরোধী দলের আচরণ সামাজিক মাধ্যমে টক্সিক পরিবেশ তৈরি করছে।
সরকার বিরোধী দলের প্রতি সহানুভূতি দেখাচ্ছে, বিপরীতে তাদের আচরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে টক্সিক করে ফেলছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে এখন আর সামাজিক মনে হয় না। এটাতে প্রবেশ করলে মনে হয়, এর মতো অসামাজিক জায়গা আর নেই।’
আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসীকল্যাণ ভবনে আয়োজিত ‘অভিবাসী সম্মেলন–২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
নুরুল হক বলেন, নির্বাচনের পরে প্রধানমন্ত্রী উদার দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছেন, যা বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে হয়নি। বিরোধী দলের নেতা, তৃতীয় বিরোধী দলের নেতার বাসায় গিয়েছেন। এসব ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। কিন্তু বিপরীত দিকে যদি দেখি সরকার যাদের প্রতি সহানুভূতি দেখাচ্ছে, সেই বিরোধী দলের আচরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে টক্সিক করে ফেলছে। যেটাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বলা হয়, সেটাতে প্রবেশ করলে মনে হয় এমন অসামাজিক জায়গা আর নেই।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটা ভুয়া খবরের উদাহরণ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে যাকে যা বলা উচিত নয়, তাই বলা হচ্ছে। মনগড়া সব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। কাউকে ভালো না লাগলেই তাঁকে চোর, ডাকাত, লুটপাটকারী বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একটি অখ্যাত পোর্টাল তাঁর বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে টেলিভিশন চালুর ভুয়া খবর ছড়িয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
নুরুল হক বলেন, এমন অপপ্রচারের শিকার শুধু তিনি নন, অন্যান্য মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীরাও হচ্ছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে অশালীন মন্তব্য করা হচ্ছে। এসব আচরণ দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ছাত্ররাজনীতি বন্ধের আওয়াজ শিবিরের আইডিয়া মন্তব্য করে নুরুল হক বলেন, ৫ আগস্টের পর ছাত্ররাজনীতি বন্ধের একটা আওয়াজ উঠেছিল। খোঁজ নিয়ে দেখবেন এগুলো বেশির ভাগই শিবিরের আইডিয়া। সাধারণ শিক্ষার্থী, সংগঠনের নামে এই দাবি উঠেছিল। কারণ, প্রকাশ্য রাজনীতি বন্ধ থাকলেও তাদের ‘গুপ্ত’ রাজনীতি চলে। এটা ধরা সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগের সময়েও তাদের মধ্যে থেকে কীভাবে তারা টিকে ছিল। সবাই তা জানি। যখন পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে, তখন তারা খোলস বদলে দাঁড়িয়ে গেছে। সচেতন নাগরিক হিসেবে স্বচ্ছ রাজনীতির জন্য গুপ্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।
‘স্বচ্ছ ও ন্যায্য অভিবাসন, দেশ ও দশের উন্নয়ন’ স্লোগানে ওকাপের নির্বাহী পরিচালক ওমর ফারুক চৌধুরী অভিবাসী সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন।
ওকাপের চেয়ারপারসন শাকিরুল ইসলাম এতে সভাপতিত্ব করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান আহম্মদ, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন, বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের রিজিওনাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজিয়া হায়দার, প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান এবং সুইস উন্নয়ন সংস্থা হেলভেটাস বাংলাদেশের সিমস প্রকল্পের পরিচালক প্রেমাংশু শেখর সরকার বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে অভিবাসী কর্মীরা বিদেশে তাঁদের অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন।
Published: প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ১৩: ২৭
Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/capital/u3fyomx585
Comments Section
Comments
Processing your comment...
Share Your Thoughts
No comments yet
Be the first to share your thoughts!